শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর ২০২৬, রাত ১:১৫

অনলাইনে বিয়ের দাওয়াত এতিম তরুণের, হাজির ১০ হাজারের বেশি অতিথি!

চীনে বিয়েতে আত্মীয়স্বজনের উপস্থিতি কম হবে ভেবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপরিচিত মানুষদের দাওয়াত দিয়েছিলেন এক তরুণ। কিন্তু সেই দাওয়াত যে এত বড় আয়োজনে পরিণত হবে, তা কল্পনাও করেননি তিনি। তার বিয়েতে হাজির হয়েছেন ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ। সঙ্গে এনেছেন উপহার, খাবার, ফুল। এমনকি নবদম্পতির জন্য উপহার হিসেবে এসেছে বিলাসবহুল মার্সিডিজ-বেঞ্জ গাড়িও।সম্প্রতি চীনের ইউনান প্রদেশের ইলিয়াং কাউন্টির ২৪ বছর বয়সী সু ছেংহংয়ের বিয়ের এই ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

চীনের সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৫ অক্টোবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিয়ের একটি খোলা আমন্ত্রণ জানান সু। সেখানে তিনি নিজের পারিবারিক পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে অপরিচিত মানুষদের বিয়েতে যোগ দেওয়ার অনুরোধ করেন। তার ইচ্ছা ছিল, বিয়ের দিনটি যেন অতিথিশূন্য না থাকে এবং সবাই মিলে আনন্দ ভাগ করে নিতে পারেন।ছোটবেলায় মাত্র তিন বছর বয়সে বাবাকে হারান সু। পরে তার মা অন্যত্র বিয়ে করেন। দাদি তাকে বড় করলেও তিনিও মারা যান। এরপর বড় ভাইকে নিয়েই মূলত তার জীবন চলেছে। ফলে বিয়েতে আমন্ত্রণ জানানোর মতো আত্মীয়স্বজনের সংখ্যা ছিল খুবই কম।

নিজের উপার্জন থেকে বিয়ের জন্য ১ লাখ ৬৭ হাজার ৫০০ ইউয়ান (৩১ লাখ ২৬ হাজার ১৫৩ টাকা, বাংলাদেশি ১ টাকা= ১৮.৬৬ চাইনিজ ইউয়ান হিসেবে) জমিয়েছিলেন সু। কিন্তু আত্মীয়স্বজনের অভাবে বিয়ের আয়োজন ছোট হয়ে যাবে ভেবে চিন্তিত ছিলেন তিনি। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপরিচিতদের আমন্ত্রণ জানান।তার সেই আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে চীনের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ আসতে শুরু করেন। কেউ নিয়ে আসেন খাবার, ফুল ও উপহার। কেউ আবার বিয়ের রান্না, সাজসজ্জা ও অতিথিদের আপ্যায়নের দায়িত্ব নেন। কয়েকজন রাঁধুনি স্বেচ্ছায় খাবার রান্নার প্রস্তাব দেন। নবদম্পতির জন্য একটি বিলাসবহুল মেবাখ গাড়ির ব্যবস্থাও করেন একজন।

অতিথির সংখ্যা বাড়তে থাকায় সুয়ের বাড়িতে আর জায়গা হচ্ছিল না। পরে স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় বড় জায়গায় বিয়ের আয়োজন করা হয়। অতিথিদের আগমনে স্থানীয় হোটেলগুলোতে কক্ষের সংকট দেখা দেয় এবং রেস্তোরাঁগুলোতেও ভিড় বাড়ে।গত ৩১ অক্টোবর চুইচুই নামের এক তরুণীকে বিয়ে করেন সু। আয়োজনে ১০ হাজারের বেশি মানুষ উপস্থিত ছিলেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। বিয়েতে বর-কনে আংটি বদল করেন এবং অতিথিদের সামনে ঐতিহ্যবাহী রীতিতে সম্মান জানান। পরে মিয়াও সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে আগুন ঘিরে নাচ-গানের মধ্য দিয়ে আনন্দ উদযাপন করেন তারা

অতিথিদের কাছে নগদ উপহার না দেওয়ার অনুরোধও জানিয়েছিলেন সু। বরং সবাইকে নিরাপদে যাতায়াত এবং নিজেদের জিনিসপত্রের যত্ন নেওয়ার কথা বলেন তিনি।
এদিকে এই আয়োজন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশংসার পাশাপাশি কিছু প্রশ্নও উঠেছে। কেউ কেউ এটিকে প্রচারের কৌশল বলে সন্দেহ করেছেন। আবার এত মানুষের উপস্থিতিতে নিরাপত্তা, যানজট ও আবাসনের ব্যবস্থা নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছেন অনেকে। তবে বিয়ের আগে স্থানীয় গ্রাম কমিটিকে বিষয়টি জানিয়েছিলেন সু এবং সবাইকে নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন।সূত্র: দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া

পুরাতন সংবাদ পড়ুন
« জুন ২০২৬ »
সোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্রশনিরবি
১২৩৪৫৬৭
৮৯১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০     

অনুসরণ করুন