আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআর,বি) ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য মনোনীত হয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম. এ. মুহিত।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের প্রজ্ঞাপনে এই মনোনয়নের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। ‘আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ আইন, ২০২২’-এর ৭ ধারা অনুযায়ী বাংলাদেশ সরকার এই মনোনয়ন প্রদান করেছে।
ড. এম. এ. মুহিত সিরাজগঞ্জ-৬ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য। জনস্বাস্থ্য খাত, বিভিন্ন দেশের চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য খাতের সংস্কার এবং গবেষণায় তিনি অত্যন্ত পরিচিত ও সমাদৃত। তিনি একজন আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ হিসেবে ২৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে কাজ করছেন।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জনের পর তিনি যুক্তরাজ্যের ব্রিস্টল বিশ্ববিদ্যালয় এবং লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জনস্বাস্থ্য ও চিকিৎসাবিজ্ঞানে দুটি পৃথক মাস্টার্স (এমএসসি) এবং পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।
২০০০ সাল থেকে তিনি লন্ডনের ইনস্টিটিউট অব অফথালমোলজি এবং লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা ও উচ্চতর গবেষণা পরিচালনা করে আসছেন। এ ছাড়া জার্মানি, অস্ট্রেলিয়া, ভারত ও নেদারল্যান্ডসের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি ভিজিটিং ফ্যাকাল্টি হিসেবে যুক্ত ছিলেন।
শিশুদের চক্ষুরোগ এবং দৃষ্টিপ্রতিবন্ধিতা প্রতিরোধে ড. মুহিতের মৌলিক গবেষণা বিশ্বব্যাপী সমাদৃত। চিকিৎসাবিজ্ঞানের শীর্ষস্থানীয় জার্নাল British Journal of Ophthalmology-তে তাঁর গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত ও প্রশংসিত হয়েছে। চিকিৎসাক্ষেত্রে অনন্য অবদানের জন্য তিনি আন্তর্জাতিকভাবে ‘গ্লোবাল আই হেলথ হিরো’সহ একাধিক মর্যাদাপূর্ণ পদকে ভূষিত হয়েছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, অস্ট্রেলিয়াসহ বিশ্বের ৫০টিরও বেশি দেশে আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সম্মেলনে আমন্ত্রিত বক্তা হিসেবে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
সরকারি এ আদেশে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর পাশাপাশি আরও তিনজনকে সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে আইসিডিডিআর,বির ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য মনোনীত করা হয়েছে। তারা হলেন— স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী এবং জনস্বাস্থ্য ও পুষ্টি বিশেষজ্ঞ ড. গোলাম মহিউদ্দিন খান সাদী।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। একই সঙ্গে এ-সংক্রান্ত পূর্বে জারি করা সব আদেশের পরিবর্তে নতুন এ আদেশ কার্যকর থাকবে।
সংশ্লিষ্ট মহলের প্রত্যাশা, আইসিডিডিআর,বির মতো বিশ্বখ্যাত আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানের ট্রাস্টি বোর্ডে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও নীতিনির্ধারক হিসেবে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর অন্তর্ভুক্তি দেশের স্বাস্থ্য খাতের গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রমে ইতিবাচক গতি আনবে।
ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে নির্বাচিত এই চিকিৎসাবিজ্ঞানী এবার আইসিডিডিআর,বির নীতিনির্ধারণ ও গবেষণা কার্যক্রমের সঙ্গেও যুক্ত হলেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, ড. এম. এ. মুহিতের মতো একজন অভিজ্ঞ জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, শিক্ষক ও নীতিনির্ধারকের অন্তর্ভুক্তি বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের আন্তর্জাতিক গবেষণা, মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য উন্নয়ন এবং বৈশ্বিক স্বাস্থ্য কূটনীতিতে আইসিডিডিআর,বির ভূমিকা আরও শক্তিশালী ও গতিশীল করতে সহায়ক হবে।

















