বুধবার, ১৫ই জুলাই ২০২৬, রাত ১:৩৩

আকাশপথে নতুন দিগন্ত, ২১ বোয়িং উড়োজাহাজ আনছে ইউএস-বাংলা

দেশের বেসরকারি বিমান পরিবহন খাতে ইতিহাস গড়তে যাচ্ছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস। বহর সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে ২০২৭ সালে এয়ারলাইনসটিতে যুক্ত হচ্ছে ২১টি ব্র্যান্ডনিউ বোয়িং ৭৩৭-৮ উড়োজাহাজ।

৫টি এয়ারক্রাফট লিজিং প্রতিষ্ঠান ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসকে এসব উড়োজাহাজ দেবে। এগুলোর বাজারমূল্য প্রায় ১.১১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

ইউএস-বাংলার মুখপাত্র কামরুল ইসলাম দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আগামী ২৯ জুলাই রাজধানীর একটি হোটেলে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে ইউএস-বাংলা। অনুষ্ঠানে বোয়িং এবং ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স যৌথভাবে বহর সম্প্রসারণের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেবে। অনুষ্ঠানে বোয়িংয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট, বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত, আন্তর্জাতিক এয়ারক্রাফট লিজিং প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিমান ও পর্যটন খাতের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত থাকবেন।

বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুনকে পাঠানো ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি চিঠি থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, বোয়িংয়ের এই উড়োজাহাজগুলো বহরে যুক্ত হওয়ার পর ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটকে আঞ্চলিক হাব হিসেবে গড়ে তুলবে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস। ঢাকার পাশাপাশি চট্টগ্রাম ও সিলেট আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনা করবে।

কামরুল ইসলাম বলেন, এটি (নতুন উড়োজাহাজ সংযোজন) কেবল একটি ব্যবসায়িক সম্প্রসারণ নয়; বরং এটি দেশের এভিয়েশন খাতে একটি যুগান্তকারী বিনিয়োগ।

বিশিষ্ট এভিয়েশন ও বিমান নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহিদুল আলম বলেন, এটি বাংলাদেশের এভিয়েশন ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। দেশের কোনো সরকারি বা বেসরকারি এয়ারলাইন্স এর আগে একসঙ্গে এত বড় পরিসরে বহর সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেয়নি। এটি ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের একটি বড় সফলতা। তারা নিশ্চয়ই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের উদ্যোগ অবশ্যই ইতিবাচক। আমার বিশ্বাস, এর ফলে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, পর্যটন শিল্প, রফতানি ও বিনিয়োগ আরও গতিশীল হবে। একইসঙ্গে নতুন উড়োজাহাজ পরিচালনায় বিপুলসংখ্যক পাইলট, ইঞ্জিনিয়ার ও সহায়ক জনবলের প্রয়োজন হবে, যা দেশে বড় ধরনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে।

বর্তমানে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক আকাশপথের একটি বড় অংশ বিদেশি এয়ারলাইন্সের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ফলে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা বিদেশে চলে যাচ্ছে।

খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, দেশীয় এয়ারলাইন্সগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি পেলে আন্তর্জাতিক রুটে বাংলাদেশি ক্যারিয়ারগুলোর অংশগ্রহণ বাড়বে এবং বিদেশি এয়ারলাইন্সের ওপর নির্ভরতা কমবে। এর ফলে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও সম্প্রসারিত হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন ২১টি উড়োজাহাজ পরিচালনার জন্য বিপুল সংখ্যক পাইলট, প্রকৌশলী, কেবিন ক্রু, গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কর্মী, ডিসপ্যাচার এবং অন্যান্য কারিগরি জনবল প্রয়োজন হবে। ফলে এভিয়েশন খাতে হাজারো নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে দেশের তরুণদের জন্য পাইলট ও এয়ারক্রাফট মেইনটেন্যান্স প্রকৌশলী হিসেবে ক্যারিয়ার গড়ার ক্ষেত্র আরও বিস্তৃত হবে।

পুরাতন সংবাদ পড়ুন
« মে ২০২৭ »
সোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্রশনিরবি
     
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১      

অনুসরণ করুন