ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন দফা সামরিক অভিযান এবং দেশটির বন্দরগুলোতে পুনরায় নৌ অবরোধ কার্যকরের পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানির দাম বেড়েছে।
বুধবার (১৫ জুলাই) দিনের শুরুতে লেনদেনে ওঠানামা থাকলেও বিশ্বের প্রধান দুই তেল সূচকেই মূল্যবৃদ্ধির প্রবণতা দেখা যায়।
আগস্ট সরবরাহের জন্য মার্কিন বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম দশমিক ৪৫ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৭৯ দশমিক ৭০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের সেপ্টেম্বর সরবরাহের দাম দশমিক ৬৮ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৫ দশমিক ৩১ ডলারে পৌঁছায়।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, মঙ্গলবার রাতে সাত ঘণ্টাব্যাপী অভিযানে হরমুজ প্রণালি ও ইরানের উপকূলীয় অঞ্চলে একাধিক সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানো হয়। অভিযানে যুদ্ধবিমান, ড্রোন এবং নৌবাহিনীর জাহাজ ব্যবহার করা হয়েছে। হামলার লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ছিল ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ঘাঁটি, নৌ-সামরিক স্থাপনা এবং উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।
সেন্টকমের দাবি, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ইরানের হুমকি কমাতেই এই অভিযান চালানো হয়েছে। একই দিনে ইরানের বন্দরমুখী এবং বন্দর থেকে ছেড়ে যাওয়া জাহাজের ওপর পুনরায় নৌ অবরোধ কার্যকর করে যুক্তরাষ্ট্র।
পরে দেওয়া এক বিবৃতিতে সেন্টকমের প্রধান জেনারেল ব্র্যাড কুপার অভিযোগ করেন, গত এক সপ্তাহে ইরান ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করেছে এবং সাতটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়েছে। এসব ঘটনায় প্রায় এক ডজন নাবিক নিহত, আহত বা নিখোঁজ হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
জ্বালানি বাজার বিশ্লেষকদের মতে, নতুন করে সামরিক উত্তেজনা হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনাকে অনিশ্চিত করে তুলেছে। এমএসটি মারকির জ্যেষ্ঠ জ্বালানি বিশ্লেষক সল কেভোনিক বলেন, নতুন হামলা ও নৌ অবরোধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আবারও তীব্র হচ্ছে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি যদি আরও কয়েক সপ্তাহ চলতে থাকে, তাহলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে। আর মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি অবকাঠামো সরাসরি হামলার শিকার হলে দাম আরও বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে।


















