বুধবার, ৮ই জুলাই ২০২৬, সন্ধ্যা ৭:৪১

আরব সাগরে ‘রহস্যজনক’ ভাবে নিখোঁজ পাকিস্তানি বিমান

পাকিস্তানি একটি পণ্য পরিবহন বিমান আরব সাগরে ৫ জন ক্রুসহ ‘হারিয়ে গেছে’। সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ থেকে রওনা হওয়া উড়োজাহাজটি পাকিস্তানের বাণিজ্যিক রাজধানী করাচির বন্দরের দিকে ফিরছিল।
কার্গো বিমানটি ছিল পাকিস্তানের একটি বেসরকারি বিমান পরিষেবা সংস্থার। সংস্থার পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার (৭ জুলাই) স্থানীয় সময় রাত ৯টা ২১ মিনিটের দিকে নিখোঁজ হয়েছে বিমানটি। খবর জিও নিউজের।
আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং সংস্থা ফ্লাইটরাডার টোয়েন্টিফোর ডটকম এক বার্তায় জানিয়েছে, ‘নিখোঁজ’ হওয়ার সময় বা আগমুহূর্তে উড়োজাহাজটি আরব সাগরের যে এলাকায় ছিল, সেটি পাকিস্তানের দক্ষিণপশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ বেলুচিস্তানের গাওদার জেলার বন্দরশহর ওরমারার কাছাকাছি।
ফ্লাইটরাডার টোয়েন্টিফোর ডটকমের বার্তায় আরো বলা হয়েছে, উড়োজাহাজটি ৩৫ হাজার ফুট উচ্চতায় উড়ছিল এবং সেটির গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৭৯০ কিলোমিটার।
নিখোঁজ হওয়ার আগে মাত্র ৫ মিনিটে উড়োজাহাজটি ৩৪ হাজার ফুট নিচে নেমে যায় এবং গতিবেগ কমে আসে ২১১ কিলোমিটারে।
এরপর বিমানটি ফের ওপরে ওঠা শুরু করেছিল কিন্তু কয়েক মিনিটের মধ্যে সেটি রাডার থেকে সম্পূর্ণ যোগাযোগবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
পাকিস্তানের বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ (পিএএ) জানিয়েছে, নিখোঁজ হওয়ার আগে কার্গো উড়োজাহাজটি আরব সাগরে করাচি উপকূল থেকে প্রায় ১৫৫ নটিক্যাল মাইল পশ্চিমে অবস্থান করছিল।
উড়োজাহাজটিতে থাকা পাঁচজন ক্রুর পরিচয় প্রকাশ করেছে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ। তারা হলেন পাইলট মুহম্মদ রিজওয়ান ইদ্রিস, ফার্স্ট অফিসার ফয়সাল মেহমুদ, লোডমাস্টার মুহম্মদ তৌফিক, প্রকৌশলী আরিফ সিদ্দিকী এবং মুহম্মদ হামিদ।
প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, বিমানটি যখন উচ্চতা কমিয়ে নিচে নামছিল, তখন পাইলটের পক্ষ থেকে কোনো ‘মে-ডে’ বা জরুরি সংকেত পাঠানো হয়নি।
এদিকে কার্গো উড়োজাহাজটির মালিক প্রতিষ্ঠানের সদরদপ্তর করাচির জিন্নাহ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকায় অবস্থিত। ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো গুরুত্বপূর্ণ নথি বা তথ্য যাতে নষ্ট বা হারিয়ে না যায়, সে কারণে সদরদপ্তরটি ইতোমধ্যেই সিলগালা করেছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।
নিখোঁজ উড়োজাহাজটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান অভিযান শুরু হয়েছে। আরব সাগরের যে এলাকায় বিমানটি নিখোঁজ হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, সেখানে পাকিস্তান নৌবাহিনীর দুটি যুদ্ধজাহাজ পিএনএস জুলফিকার এবং পিএনএস হুনিয়ান মোতায়েন করা হয়েছে এবং তারা অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
এ ছাড়া অনুসন্ধান তৎপরতায় যুক্ত হয়েছে পাকিস্তান বিমান বাহিনীর নজরদারি বিমানও। আকাশ ও সমুদ্রপথে সমন্বিতভাবে নিখোঁজ কার্গো উড়োজাহাজটির সন্ধান চালানো হচ্ছে।
পুরাতন সংবাদ পড়ুন
« আগস্ট ২০২৬ »
সোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্রশনিরবি
     
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১      

অনুসরণ করুন