যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে টানা নবম দিনের মতো পাল্টাপাল্টি হামলা হয়েছে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ আরও কঠোর করেছে এবং দেশটির ভেতরে নতুন করে হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে ইরান বাহরাইন ও কুয়েতে মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি করেছে।
শাফাক নিউজ জানায়, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ইরানি বন্দরে কোনো জাহাজ প্রবেশ বা বের হতে না দেওয়ার জন্য সাতটি বাণিজ্যিক জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করা হয়েছে এবং একটি জাহাজ অচল করে দেওয়া হয়েছে।
এর আগে সেন্টকম জানিয়েছিল, তারা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎক্ষেপণ কেন্দ্র, কমান্ড সেন্টার, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, উপকূলীয় নজরদারি কেন্দ্র, নৌ সক্ষমতা এবং অন্যান্য সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে।
এদিকে ইরানের গণমাধ্যম জানিয়েছে, মার্কাজি প্রদেশের খোমেইন এবং শিরাজের কাছে নতুন করে মার্কিন বিমান হামলা হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এসব হামলায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২৭ জুন থেকে শুরু হওয়া মার্কিন হামলায় এখন পর্যন্ত ৫০ জনের বেশি নিহত এবং ৫১৭ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে।
অন্যদিকে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা বাহরাইনের সাখির বিমানঘাঁটির মার্কিন ড্রোন রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্র, সালমান বন্দরের টিএফ-৫৯ নৌ অবকাঠামো এবং কুয়েতের ক্যাম্প আরিফজানে মার্কিন বিশেষ বাহিনীর সহায়তা কেন্দ্র লক্ষ্য করে নতুন দফায় প্রতিশোধমূলক হামলা চালিয়েছে।
জর্ডানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা পেত্রা জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র দেশটির আকাশসীমায় প্রবেশ করলে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেগুলো ভূপাতিত করে। এতে কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেনি।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের হামলায় যদি আরও কোনো মার্কিন সেনা নিহত হন, তাহলে তেহরানকে ভয়াবহ জবাব দেওয়া হবে। তিনি যুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী পিট হেগসেথ, জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান ড্যানিয়েল কেইন এবং সামরিক কমান্ডারদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
সেন্টকম ও বার্তা সংস্থা এপি জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ১৭ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে জর্ডানে ইরানের হামলায় দুজন এবং ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলে ইরানি ড্রোন থেকে উদ্ধার করা বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয় করার সময় একজন নিহত হন।

















