শনিবার, ৩রা অক্টোবর ২০২৬, বিকাল ৪:২৭

ঈশ্বরদীতে পৌঁছেছে রূপপুরের ইউরেনিয়াম

কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য ইউরেনিয়ামের চালান পাবনার ঈশ্বরদীতে পৌঁছেছে।

শনিবার (৩ অক্টোবর) বেলা ১১টা ২০ মিনিটের দিকে ইউরেনিয়াম বহনকারী গাড়িবহরটি প্রকল্প এলাকায় প্রবেশ করে। ঢাকা থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু পার হয়ে নাটোরের বনপাড়া ও পাবনার দাশুড়িয়া হয়ে গাড়িবহরটি রূপপুরে পৌঁছায়।

শুক্রবার রাত ১১টা ৪৫ মিনিটে রাশিয়া থেকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর শনিবার সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থায় সড়কপথে ইউরেনিয়ামের চালানটি রূপপুরের উদ্দেশে রওনা হয়।

রূপপুরের প্রকল্প পরিচালক ড. কবীর হোসেন এবং নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জায়েদুল হাসানসহ প্রকল্পের উদ্যোক্তা কর্মকর্তারা ইউরেনিয়ামের শিপমেন্ট গ্রহণ করেন।

বহনকারী বিশেষ কার্গো বিমানটি কাজাখস্তান, আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও ভারতে বিরতির পর বাংলাদেশে পৌঁছায়। বৃহস্পতিবার জ্বালানি দেশে আসার কথা থাকলেও তা একদিন পিছিয়ে শুক্রবার দুপুরে সময় নির্ধারণ করা হয়। পরে সময় আরও পরিবর্তন করে শুক্রবার রাত ১১টা ৪৫ মিনিটের দিকে রাশিয়া থেকে ইউরেনিয়ামের চালানটি ঢাকায় পৌঁছায়।

এরপর সেনাবাহিনীর কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সকালে সড়কপথে রূপপুরের উদ্দেশে চালানটি পাঠানো হয়। নিরাপত্তার কারণে যানজট এড়াতে ঢাকা-পাবনা মহাসড়কে যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়।

পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ঈশ্বরদী সার্কেল) প্রণব কুমার জানান, ঢাকা থেকে আসা ইউরেনিয়াম বহনকারী গাড়িগুলো যাতে ভালোভাবে পৌঁছে যেতে পারে, তার জন্য পাবনা জেলা পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সড়কে বিশেষ নিরাপত্তা বলয় রেখেছিল। সড়কে যেন যানজটের সৃষ্টি না হয়, সেজন্য পাবনা-নাটোর-কুষ্টিয়া মহাসড়ক দিয়ে ছোট-বড় যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখা হয়। ইউরেনিয়াম পৌঁছানোর পর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে আরও ৯টি ফ্লাইটে রূপপুরের প্রথম ইউনিটের জন্য অতিরিক্ত ৪৮টি এবং দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য ১৬৩টি ইউরেনিয়াম অ্যাসেম্বল দেশে আসবে। রাশিয়া থেকে কাজাখস্তান, তুর্কমেনিস্তান, পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও ভারত হয়ে এসব চালান বাংলাদেশে পৌঁছাবে।

সূত্র জানায়, রূপপুরের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য সাতটি এবং প্রথম ইউনিটের রিফুয়েলিংয়ের জন্য দুটিসহ মোট নয়টি কার্গোতে পারমাণবিক জ্বালানি দেশে আনা হবে। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন (রসাটম) জানিয়েছে, ডিসেম্বরের মধ্যে পুরো জ্বালানি সরবরাহ সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুটি ইউনিটের মোট উৎপাদন ক্ষমতা ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট। প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিং সম্পন্ন হলেও কমিশনিংয়ের বিভিন্ন ধাপে জটিলতার কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সময়সূচি পিছিয়েছে। বিশেষ করে প্রেসার অপারেটেড রিলিফ ভালভ (পিওআরভি/পিওএসভি) সংক্রান্ত সমস্যার কারণে উৎপাদন শুরুতে বিলম্ব হয়। বুধবার ১৬ মেগাপাসকেল উচ্চচাপে সেফটি ভালভের সফল পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে বলে এনপিসিবিএলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

তবে প্রথম ইউনিট থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের আগে আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা ও কমিশনিং কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে। এসব ধাপ সফলভাবে শেষ হলে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। পাশাপাশি দ্বিতীয় ইউনিটের নির্মাণ ও কমিশনিং কার্যক্রমও এগিয়ে চলছে।

রাশিয়ার সঙ্গে সরকার-টু-সরকার (জিটুজি) ব্যবস্থায় নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র দেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় বড় ধরনের কম-কার্বন বিদ্যুৎ উৎস হিসেবে যুক্ত হওয়ার কথা। প্রকল্পটির মূল প্রাক্কলিত ব্যয় ছিল প্রায় ১ লাখ ১৩ হাজার ১০০ কোটি টাকা। সংশোধিত প্রাক্কলনে ব্যয় বেড়ে প্রায় ১ লাখ ৩৮ হাজার ৭০০ কোটি টাকা হয়েছে।

ইউরেনিয়ামের চালান রূপপুরে পৌঁছানো এবং প্রথম ইউনিটের পিওআরভি সমস্যার সমাধান প্রকল্পটির কমিশনিং কার্যক্রমে সাম্প্রতিক গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

পুরাতন সংবাদ পড়ুন
« ডিসেম্বর ২০২৬ »
সোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্রশনিরবি
 ১২৩৪৫৬
৭৮৯১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১   

অনুসরণ করুন