পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের আমন্ত্রণে সরকারি সফরে ইসলামাবাদ পৌঁছেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। মঙ্গলবার পৃথক ফ্লাইটে ইরানের প্রেসিডেন্ট ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী পাকিস্তানে পৌঁছান বলে দেশটির সংবাদমাধ্যম ডনের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান রাজধানী তেহরান থেকে সরাসরি পাকিস্তানের ফেডারেল রাজধানীতে এসেছেন। অন্যদিকে, কূটনৈতিক কার্যক্রম শেষ করে ওমান থেকে পাকিস্তানে পৌঁছেছেন আরাঘচি।
রাওয়ালপিন্ডির নূর খান বিমানঘাঁটিতে পৌঁছালে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানকে অভ্যর্থনা জানান পাকিস্তানের শীর্ষ রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক নেতারা। তাদের মধ্যে ছিলেন প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি, প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ, উপ-প্রধানমন্ত্রী ইশহাক দার, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি, পিপিপি চেয়ারম্যান বিলাওয়াল ভুট্টো-জারদারি এবং ইসলামাবাদে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত রেজা আমীরি মোগাদ্দাম।
ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনের বরাতে জানা যায়, নিজ দেশের প্রেসিডেন্টকে স্বাগত জানাতে রাওয়ালপিন্ডির বিমানঘাঁটিতে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিও উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এপিপি জানিয়েছে, নূর খান বিমানঘাঁটিতে পেজেশকিয়ানের সম্মানে ২১ বার তোপধ্বনি করা হয় এবং যুদ্ধবিমানগুলো তাকে অভিবাদন জানিয়ে ফ্লাইপাস্ট প্রদর্শন করে। এ সময় উপস্থিত শিশুদের স্লোগানের জবাবে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান।
সাপ্তাহিক ছুটির দিনে সুইজারল্যান্ডে চলমান মার্কিন-ইরান আলোচনায় অংশগ্রহণের পর ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাঘচিও প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের সফরসঙ্গী হিসেবে প্রতিনিধিদলে যুক্ত ছিলেন।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ইরনা জানিয়েছে, পেজেশকিয়ানের পাকিস্তান পৌঁছানোর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি এবং প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠক করেন।
এর আগে রাওয়ালপিন্ডির নূর খান বিমানঘাঁটিতে পৌঁছালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাঘচিকেও স্বাগত জানান উপ-প্রধানমন্ত্রী ইশহাক দার, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি এবং পিপিপি চেয়ারম্যান বিলাওয়াল ভুট্টো-জারদারি।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, দেশটির নেতৃত্ব ও জনগণ ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং তার নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলকে ইসলামাবাদে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানাচ্ছে।
পররাষ্ট্র দপ্তরের একাধিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, সফরকালে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারির সঙ্গে বৈঠক করবেন এবং প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক নানা বিষয়ে আলোচনা করবেন।
এছাড়া তিনি সিনেট চেয়ারম্যান ইউসুফ রাজা গিলানি, স্পিকার আয়াজ সাদিক এবং উপ-প্রধানমন্ত্রী ইশহাক দারের সঙ্গেও বৈঠকে অংশ নেবেন।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তর আরও জানিয়েছে, এটি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের দ্বিতীয় পাকিস্তান সফর। তাদের মতে, এই সফর দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সামগ্রিক পর্যালোচনার সুযোগ তৈরি করবে এবং বাণিজ্য, জ্বালানি, সীমান্ত নিরাপত্তা, জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগ এবং আঞ্চলিক সংযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধির পথ অন্বেষণে সহায়তা করবে।
সফরটিকে ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’ স্বাক্ষরের পর চলমান কূটনৈতিক তৎপরতার পাশাপাশি পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার ‘‘গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ’’ হিসেবেও অভিহিত করেছে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তর।
‘আগামী দিনে এই সফর ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ককে আরও গভীর করার জন্য পাকিস্তান ও ইরানের যৌথ অঙ্গীকারের প্রতিফলন এবং অঞ্চলে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও টেকসই অগ্রগতির জন্য সাধারণ আকাঙ্ক্ষাকে তুলে ধরবে।’
















