বুধবার, ৭ই অক্টোবর ২০২৬, রাত ১১:৩২

গুলশান-বারিধারার লেকের পানি পরিষ্কার করতে না পারলে দেশ সংস্কার কীভাবে হবে?

গুলশান-বারিধারার লেকের পানি পরিষ্কার করতে না পারলে দেশ কীভাবে ঠিক হবে: গণপূর্তমন্ত্রী

রাজধানীর গুলশান, বনানী ও বারিধারা এলাকার লেকের দূষণ নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলে সারাদেশের পরিবেশ ও নগর ব্যবস্থাপনা উন্নত করা কঠিন হবে বলে মন্তব্য করেছেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের।

বুধবার (৭ অক্টোবর) রাজধানীর শেরাটন হোটেলের গ্র্যান্ড বলরুমে বণিক বার্তা আয়োজিত ‘স্মার্ট আবাসন, টেকসই নগরায়ণ ও ভবিষ্যতের বাংলাদেশ’ শীর্ষক স্মার্ট সিটি কনক্লেভে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, গুলশান, বনানী, বারিধারা ও হাতিরঝিলের পরিবেশ উন্নয়ন নিয়ে সরকারকে একাধিকবার আলোচনা করতে হয়েছে। এসব এলাকার লেক ও আশপাশের পরিবেশ রক্ষায় কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া যায়, তা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে কাজ চলছে।

জাকারিয়া তাহের জানান, গুলশান-বনানী-বারিধারা এলাকায় প্রায় ৪ হাজার ৩০০টি ভবন রয়েছে। এসব ভবনের বড় একটি অংশে নিয়ম অনুযায়ী সেপটিক ট্যাংক অথবা স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (এসটিপি) থাকার কথা থাকলেও অনেক ভবনে তা নেই। এর ফলে পয়োনিষ্কাশনের পানি বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থার সঙ্গে মিশে যাচ্ছে এবং লেকের পানিদূষণ বাড়ছে।

তিনি বলেন, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বড় বড় আবাসন প্রকল্প ও ভবন নির্মাণ করা হলেও কিছু ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়নি। এ সমস্যা সমাধানে গুলশান, বনানী ও বারিধারা সোসাইটির প্রতিনিধিদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা ও ঢাকা ওয়াসার কর্মকর্তারাও এসব আলোচনায় অংশ নিয়েছেন।

গণপূর্তমন্ত্রী বলেন, নগর ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। প্রাথমিকভাবে দেশের মেট্রোপলিটন শহরগুলোকে পরিকল্পনার আওতায় আনা হচ্ছে। পরবর্তী ধাপে বড় শহর ও উপজেলা পর্যায়েও এ পরিকল্পনা সম্প্রসারণের লক্ষ্য রয়েছে।

পরিকল্পনায় বিভিন্ন এলাকার জন্য সুনির্দিষ্ট জোন নির্ধারণ, কোথায় কী ধরনের স্থাপনা হবে এবং কীভাবে নগর সম্প্রসারণ করা হবে, সেসব বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে বলে জানান তিনি। এ কাজ বাস্তবায়নে নগর উন্নয়ন অধিদপ্তরকে আরও কার্যকর ও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

জাকারিয়া তাহের আরও বলেন, সঠিক তথ্য ও হালনাগাদ জনসংখ্যার পরিসংখ্যান ছাড়া কার্যকর নগর পরিকল্পনা করা সম্ভব নয়। তাই ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার ভিত্তি শক্ত করতে নির্ভুল জনশুমারির প্রয়োজন রয়েছে।

ভবন নির্মাণ ও অনুমোদন প্রক্রিয়ায়ও পরিবর্তন আনার কথা জানান মন্ত্রী। তার ভাষ্য, ভবনের নকশা অনুমোদনের ক্ষেত্রে শুধু স্থাপত্য নকশা নয়, কাঠামোগত নিরাপত্তা, বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা ও প্লাম্বিংসহ সংশ্লিষ্ট সব বিষয় সমন্বিতভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

তিনি জানান, ভবন নির্মাণ শেষে অকুপেন্সি সার্টিফিকেট দেওয়ার সময় অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী ভবনটি বাস্তবে নির্মিত হয়েছে কি না, সেটিও নিশ্চিত করার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অনুমোদন ছাড়াই নির্মিত ভবন শনাক্ত করার কাজও চলছে।

অনুষ্ঠানে রাজউকের পক্ষ থেকে মো. রিয়াজুল ইসলাম বলেন, রাজধানীর নগর ব্যবস্থাপনায় বড় সমস্যাগুলোর একটি হলো অনুমোদিত নকশা ও বিদ্যমান আইন যথাযথভাবে অনুসরণ না করা। ভবন মালিক ও ডেভেলপারদের অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী নির্মাণকাজ নিশ্চিত করার দায়িত্ব রয়েছে।

তিনি বলেন, রাজউকের জনবল সীমিত হওয়ায় ঢাকার প্রতিটি ভবনের নির্মাণকাজ সার্বক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব নয়। তাই ভবন মালিক, ডেভেলপার, প্রকৌশলী ও সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে। পাশাপাশি পরিবহন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও অন্যান্য নাগরিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে।

রাজধানীর টেকসই উন্নয়নে বিভিন্ন প্রণোদনা ও উদ্যোগের কথাও তুলে ধরা হয় কনক্লেভে। এর মধ্যে গ্রিন বিল্ডিংয়ে প্রণোদনা, অন্তর্ভুক্তিমূলক আবাসনে অতিরিক্ত ফ্লোর স্পেসের সুযোগ, ভবনের নকশায় সৌরবিদ্যুতের ব্যবস্থা এবং নির্দিষ্ট পরিমাণ জমিতে গাছ লাগানোর উদ্যোগ রয়েছে।

সরকারি ভবনে পোড়ানো ইটের ব্যবহার কমিয়ে পরিবেশবান্ধব ব্লকের ব্যবহার বাড়ানো এবং ভূমিকম্পের ঝুঁকি মোকাবিলায় গবেষণা ও নিরাপত্তা কার্যক্রম জোরদারের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।

বক্তারা বলেন, টেকসই ও বাসযোগ্য নগর গড়ে তোলার দায়িত্ব কেবল সরকারের একার নয়। ভবন মালিক, আবাসন ব্যবসায়ী, প্রকৌশলী, নগর পরিকল্পনাবিদ এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া এ লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব নয়।

কনক্লেভে বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. ইশতিয়াক আহমেদ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খানসহ আবাসন, অর্থায়ন ও শিল্প খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন।

পুরাতন সংবাদ পড়ুন
« নভেম্বর ২০২৫ »
সোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্রশনিরবি
     ১২
৩৪৫৬৭৮৯
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০

অনুসরণ করুন