মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর ২০২৬, সন্ধ্যা ৬:১১

জ্বালানির প্রভাবে দুর্বল হবে অর্থনীতি, সংস্কারের তাগিদ বিশ্বব্যাংকের

মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের ফলে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, সরকারের জ্বালানি ভর্তুকি বেড়ে যাওয়া এবং আমদানি ব্যয় বৃদ্ধির কারণে চলতি হিসাবে দেশের আর্থিক ভারসাম্য দুর্বল হতে পারে। এই অবস্থায় দ্রুত সংস্কারের তাগিদ দিয়েছে বিশ্বব্যাংক।

বাংলাদেশে টানা তিন বছর ধরে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি শ্লথ হওয়া, দারিদ্র্য বৃদ্ধি, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, দুর্বল ব্যাংক খাত, কম রাজস্ব সংগ্রহ এবং বেসরকারি বিনিয়োগের মন্দা সামাল দিতে পরামর্শ দিয়েছে বৈশ্বিক সংস্থাটি। তারা জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংঘাত থেকে উদ্ভূত বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জকে আরও বাড়িয়েছে।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) আগারগাঁওয়ে ঢাকা অফিসে ‘বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করে বিশ্বব্যাংক। প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি আরও কমে ৩ দশমিক ৯ শতাংশে নামতে পারে। তবে ২০২৬ সালের নির্বাচনের পর টেকসই রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং দ্রুত কাঠামোগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার বাস্তবায়ন করা গেলে অর্থনীতি আবার শক্তিশালী পুনরুদ্ধারের ধারায় ফিরতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

বাংলাদেশে নিযুক্ত সংস্থাটির কান্ট্রি ডিরেক্টর জ্যঁ পেম বলেন, অর্থনৈতিক মন্দা এড়াতে এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির পথে ফিরতে বাংলাদেশকে দ্রুত ও সাহসী সংস্কার করতে হবে। বিশেষ করে ব্যাংক খাত, অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণ এবং জ্বালানি খাতে পরিবর্তন জরুরি। দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা এবং আরও বেশি কর্মসংস্থান তৈরির জন্য এখনই পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

সংস্থাটি জানায়, বৈশ্বিক এই ধাক্কা সামলানোর জন্য বাংলাদেশের বৈশ্বিক রিজার্ভ সুরক্ষা ও নীতিনির্ধারণী সক্ষমতা সীমিত।

উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও দারিদ্র্য বৃদ্ধি

চলতি অর্থবছরে দেশের গড় মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৫ শতাংশে। খাদ্যাভিগম্যতা ও নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার ফলে নিম্ন আয়ের মানুষের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা কমেছে। ফলস্বরূপ, জাতীয় দারিদ্র্যের হার ২০২২ সালের ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৫ সালে ২১ দশমিক ৪ শতাংশে পৌঁছেছে— যার মাধ্যমে নতুন করে প্রায় ১৪ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছে।

দারিদ্র্য বিমোচনে আঘাত

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত শুরুর আগে আনুমানিক ১৭ লাখ মানুষের দারিদ্র্যসীমা থেকে বের হয়ে আসার কথা ছিল। কিন্তু সংঘাতের অভিঘাতে চলতি বছরে মাত্র ৫ লাখ মানুষ দারিদ্র্য কাটিয়ে উঠতে পারবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ব্যাংক খাতের ঝুঁকি

ব্যাংক খাতে অকার্যকর বা খেলাপি ঋণের হার ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩০ দশমিক ৬ শতাংশে। মূলধন পর্যাপ্ততার হার সর্বনিম্ন সীমার নিচে নেমে যাওয়ায় একাধিক ব্যাংকের লোকসান শোষণের ক্ষমতা কমে গেছে।

সর্বনিম্ন রাজস্ব আদায়

বিগত অর্থবছরে বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত ১৫ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো ৭ শতাংশের নিচে নেমে গেছে। এটি স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক সুরক্ষার মতো অগ্রাধিকার খাতে সরকারের বিনিয়োগের সুযোগ মারাত্মক সংকুচিত করেছে।

পুরাতন সংবাদ পড়ুন
« সেপ্টেম্বর ২০২৬ »
সোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্রশনিরবি
 ১২৩৪৫৬
৭৮৯১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০    

অনুসরণ করুন