শনিবার, ১লা আগস্ট ২০২৬, রাত ২:১১

ডিসি লেক পরিচ্ছন্নতায় মাঠে নামলেন প্রতিমন্ত্রী টুকু

টাঙ্গাইল শহরের অন্যতম বিনোদনকেন্দ্র ও সৌন্দর্যের প্রতীক ডিসি লেকের পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে কচুরিপানা ও ময়লা-আবর্জনা অপসারণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছেন টাঙ্গাইল সদর আসনের সংসদ সদস্য এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। উদ্বোধনের পর তিনি নিজেই লেকের কচুরিপানা অপসারণে অংশ নেন এবং উপস্থিত নেতাকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে যুক্ত হন।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) সকালে প্রতিমন্ত্রী টাঙ্গাইল ডিসি লেক পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি লেকের সার্বিক পরিবেশ, পানির অবস্থা ও পরিচ্ছন্নতা ঘুরে দেখেন। দীর্ঘদিন ধরে লেকে জমে থাকা কচুরিপানা ও বিভিন্ন ধরনের ময়লা-আবর্জনা অপসারণে তিনি নিজ হাতে কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন এবং সংশ্লিষ্টদের নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশনা দেন।
পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী টুকু বলেন, একটি পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব শহর গড়ে তুলতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণও অত্যন্ত জরুরি। ডিসি লেক শুধু একটি বিনোদনকেন্দ্র নয়, এটি টাঙ্গাইল শহরের সৌন্দর্য ও পরিবেশের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই এর পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্য রক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি বলেন, যে কয়দিন লাগে, পর্যায়ক্রমে পুরো লেক পরিষ্কার করা হবে। ডিসি লেককে ঘিরে আমাদের সুস্পষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে। এটিকে কীভাবে একটি উন্নতমানের পর্যটনকেন্দ্রে রূপ দেওয়া যায়, সে লক্ষ্যেই আমরা কাজ করছি। সম্প্রতি বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যানকে নিয়ে আমি এখানে এসেছিলাম। তিনি চর এলাকার পাশাপাশি ডিসি লেক এলাকাও পরিদর্শন করেছেন। আমাদের পরিকল্পনা হলো ডিসি লেককে একটি মিনি পর্যটনকেন্দ্র এবং চর এলাকাকে একটি বৃহৎ পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের আগে তিনি টাঙ্গাইলে একটি আধুনিক পর্যটনকেন্দ্র নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন এবং সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, আল্লাহর রহমত ও সবার দোয়া থাকলে এই উদ্যোগ সফল হবে। লেকটিকে পরিকল্পিতভাবে সংস্কার করে আকর্ষণীয় ও ব্যবহার উপযোগী করা গেলে টাঙ্গাইলবাসী একটি আধুনিক বিনোদনকেন্দ্র পাবে। একই সঙ্গে সেখানে মাছ চাষের উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং উৎপাদিত মাছ শহরের মানুষের জন্যই সরবরাহ করা হবে।
টাঙ্গাইলকে পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য শহর হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, একটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন শহর গড়তে হলে শুধু প্রশাসনের উদ্যোগই যথেষ্ট নয়, বরং প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতন হতে হবে। এ কাজে সবার আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
এ সময় প্রতিমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের লেকের নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে যাতে লেকে ময়লা-আবর্জনা ও কচুরিপানা জমে পরিবেশের ক্ষতি না করতে পারে, সে জন্য কার্যকর ও স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণেরও নির্দেশনা দেন।
কচুরিপানা অপসারণ কর্মসূচিতে বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, স্থানীয় বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্য এবং সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। তাদের সম্মিলিত অংশগ্রহণে লেকের বিভিন্ন এলাকা থেকে কচুরিপানা ও জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা অপসারণ কার্যক্রম শুরু হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক শরিফা হক, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু, জেলা যুবদলের আহ্বায়ক খন্দকার রাশেদুল আলম, জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুর রহমান খান শফিক, কেন্দ্রীয় যুবদলের সদস্য আব্দুল্লাহিল কাফিসহ বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
পুরাতন সংবাদ পড়ুন
« অক্টোবর ২০২৫ »
সোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্রশনিরবি
  
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০৩১  

অনুসরণ করুন