ডেঙ্গু প্রতিরোধে নিজেদের ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পাশাপাশি পড়াশোনার সঙ্গে নিয়মিত খেলাধুলা ও শরীরচর্চার অভ্যাস গড়ে তোলা এবং প্রাণী ও জীবজন্তুর প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে জাতীয় সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে নেত্রকোনার কলমাকান্দা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
শিক্ষার্থীদের সচেতন করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রত্যেকের দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন। ঘরবাড়ি কিংবা আশপাশের কোথাও যাতে পানি জমে না থাকে, সেদিকে নিয়মিত নজর দিতে হবে। পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে ডেঙ্গুর বিস্তার অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
তিনি শিক্ষার্থীদের পরিবার থেকেই পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস গড়ে তোলার আহ্বান জানান। নিজেরা পরিষ্কার থাকার পাশাপাশি পরিবারের সদস্য, বন্ধু ও প্রতিবেশীদেরও ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতন করার পরামর্শ দেন তিনি।
সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়েও কথা বলেন। তারা কোন শ্রেণিতে পড়ছে, পড়াশোনার পরিস্থিতি কেমন এবং ভবিষ্যতে কী হতে চায়, এসব বিষয়ে শিক্ষার্থীদের কাছে জানতে চান তিনি।
শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলার গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু বই পড়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। সুস্থভাবে বেড়ে উঠতে নিয়মিত খেলাধুলা ও শরীরচর্চার প্রয়োজন রয়েছে। পাশাপাশি সময়ের যথাযথ ব্যবহার করে নিজেদের সৎ ও দায়িত্বশীল মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার পরামর্শ দেন তিনি।
এ সময় প্রাণী ও জীবজন্তুর প্রতিও মানবিক আচরণের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। আশপাশের অসহায় প্রাণীদের প্রতি যত্নশীল হওয়ার পাশাপাশি কোনো প্রাণীর সঙ্গে নিষ্ঠুর আচরণ না করার পরামর্শ দেন তিনি। তার মতে, প্রাণীর প্রতি মমতা ও দায়িত্ববোধ একটি মানবিক সমাজের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য।
জাতীয় সংসদের অধিবেশন দেখতে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির ৪২ জন শিক্ষার্থী সংসদ ভবনে আসে। তাদের সঙ্গে বিদ্যালয়ের পাঁচজন শিক্ষক ও পরিচালনা কমিটির দুজন সদস্যও ছিলেন। অধিবেশন প্রত্যক্ষ করার সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পায় তারা।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে পেরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আনন্দ ও উচ্ছ্বাস দেখা যায়। প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া পরামর্শ নিজেদের জীবনে বাস্তবায়নের পাশাপাশি পরিবার, বিদ্যালয় ও নিজ নিজ এলাকার মানুষের মধ্যেও তা ছড়িয়ে দেওয়ার আগ্রহের কথা জানায় তারা।












