শনিবার, ৭ই নভেম্বর ২০২৬, বিকাল ৪:৪৪

তৈরি পোশাক রফতানি. শ্রমিক অসন্তোষে ক্রয়াদেশ হারানোর শঙ্কা, সুযোগ নিতে পারে প্রতিযোগী দেশ

তৈরি পোশাক খাতে অস্থিরতায় রফতানি আদেশ বাতিলের শঙ্কা দেখছেন শিল্পমালিকরা। এতে বাংলাদেশের ক্রয়াদেশ অন্য দেশে চলে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। ফলে বছরের শেষ মৌসুমে পশ্চিমা বিশ্বের বাড়তি চাহিদার সুযোগ নিতে পারে ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া ও ভারতের মতো প্রতিযোগী দেশ। এ পরিস্থিতি এড়াতে দ্রুত শ্রমিকদের বেতন-ভাতাসংক্রান্ত দাবির সমাধান করা জরুরি।২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর-এই তিন মাসে আন্তর্জাতিক ফ্যাশন ব্র্যান্ডগুলোর গড় বিক্রি ছিল ২৭ দশমিক ৯ শতাংশ। এ সময়ে বার্ষিক আয় ছিল ৩৩ শতাংশ এবং নিট মুনাফা ৩৩ দশমিক ২ শতাংশ। জরিপ অনুযায়ী, এবার হলিডে সিজন বা ছুটির মৌসুমে শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই পোশাকের বাজার ১ দশমিক ০১৩ ট্রিলিয়ন ডলারের। এই বাজারে অন্যতম সরবরাহকারী বাংলাদেশ।

তবে সম্প্রতি পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন, কারখানা বন্ধ ও কাঁচামাল সরবরাহে বিঘ্নের কারণে প্রতিদিন রফতানি ক্ষতি হচ্ছে সাড়ে চার কোটি ডলারের বেশি। এতে শুধু তাৎক্ষণিক রফতানি আয় কমার আশঙ্কাই নয়, ভবিষ্যতে ক্রয়াদেশ হারানোর ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, তাৎক্ষণিকভাবে উৎপাদন ও রফতানি ব্যাহত হচ্ছে। দীর্ঘ মেয়াদে এর ফলে ক্রেতা হারানোর পরিস্থিতিও তৈরি হচ্ছে।উৎপাদন বন্ধ থাকা এবং পণ্য সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় নির্ধারিত সময়ে ক্রয়াদেশের পণ্য পাঠানো নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। এতে ক্রেতাদের কাছে বাংলাদেশের নির্ভরযোগ্য সরবরাহকারী হিসেবে ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

অর্থনীতিবিদ ড. মাহফুজ কবির বলেন, নির্দিষ্ট লিড টাইমের মধ্যে পণ্য ক্রেতাদের বিক্রির জন্য প্রস্তুত রাখতে হয়। তবে নির্ধারিত সময়ে যেসব পণ্য জাহাজীকরণের কথা ছিল, সেগুলো পাঠানো সম্ভব হয়নি। ফলে সময়মতো পণ্য না পাওয়ায় ক্রেতারাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এতে তারা এখন অস্থিতিশীল পরিবেশের বাংলাদেশ থেকে ক্রয়াদেশ সরিয়ে একই ধরনের পণ্য উৎপাদনে সক্ষম অন্য কোনো দেশে দেয়ার কথা ভাবতে পারেন।সময়মতো পণ্য পৌঁছাতে না পারলে ক্রেতারা জরিমানা আরোপ করতে পারেন, এমনকি ক্রয়াদেশ বাতিল করে ভিয়েতনাম, ভারত ও কম্বোডিয়ার মতো প্রতিযোগী দেশে চলে যেতে পারেন। এ পরিস্থিতিতে রফতানি, পরিবহন ও সরবরাহব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, অরাজক পরিস্থিতি তৈরি না করে সরাসরি আলোচনার টেবিলে বসা উচিত। শ্রমিক, মালিক ও রাষ্ট্রপক্ষ একসঙ্গে বসেই এ সমস্যার সমাধান করতে পারে।শিল্পসংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, শ্রমিক অসন্তোষ দীর্ঘায়িত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতার সক্ষমতা কমবে। তাই দ্রুত শ্রমিক অসন্তোষের সমাধান, কারখানায় স্বাভাবিক উৎপাদন নিশ্চিত করা এবং ক্রেতাদের আস্থা ধরে রাখাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

পুরাতন সংবাদ পড়ুন
« জুলাই ২০২৬ »
সোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্রশনিরবি
  ১২৩৪৫
৬৭৮৯১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০৩১  

অনুসরণ করুন