মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর ২০২৬, রাত ৯:৩৭

নায়করাজ রাজ্জাকের ছেলে হয়েও কেন অভিনয়ে আসেননি তিনি?

নায়করাজ রাজ্জাকের পরিবার মানেই বাংলা চলচ্চিত্রের পরিচিত এক অধ্যায়। তার দুই ছেলে বাপ্পারাজ ও সম্রাট অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও পরিবারের আরেক সদস্য বরাবরই থেকেছেন আড়ালে। অভিনয়ের প্রতি আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত রুপালি পর্দায় নাম লেখাননি তিনি। তবে ক্যামেরার পেছনে থেকে বাবার সিনেমার নানা কাজে যুক্ত ছিলেন।

একসময় মার্শাল আর্ট শিখেছিলেন, অভিনয়ে আসার ইচ্ছাও ছিল প্রবল। কিন্তু পড়াশোনার চাপ, পরে ব্যবসায় জড়িয়ে পড়া- সব মিলিয়ে আর অভিনয়ে আসা হয়নি। সম্প্রতি কানাডা থেকে একটি পডকাস্টে যুক্ত হয়ে বাবাকে নিয়ে স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে নিজের অভিনয়ে না আসার কারণ জানিয়েছেন তিনি।

তিনি হলেন নায়করাজ রাজ্জাকের মেজ ছেলে রওশন হোসেন বাপ্পী। প্রায় এক দশক ধরে স্থায়ীভাবে কানাডায় বসবাস করছেন তিনি। পডকাস্টে বাবার সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা, পারিবারিক জীবন এবং অভিনয়ে না আসার পেছনের গল্প তুলে ধরেন বাপ্পী।

অভিনয়ে আসার আগ্রহের কথা জানিয়ে বাপ্পী বলেন, একসময় মার্শাল আর্টও শিখেছিলেন তিনি। সে সময় অভিনেতা সোহেল রানা মার্শাল আর্টভিত্তিক সিনেমা শুরু করেছিলেন, যা তাকে বেশ আকৃষ্ট করেছিল। তার বাবা রাজ্জাকও মার্শাল আর্ট শেখার বিষয়ে উৎসাহ দিয়েছিলেন।

তবে পড়াশোনার চাপ বেড়ে যাওয়ায় সেই আগ্রহে আর সময় দিতে পারেননি। পরবর্তী সময়ে ব্যবসায় জড়িয়ে পড়লে অভিনয়ে আসার ভাবনাও পিছনে পড়ে যায়। যদিও সিনেমার বিভিন্ন কাজে যুক্ত ছিলেন তিনি।

বাপ্পী বলেন, ‘অভিনয় করার আগ্রহ ছিল। মার্শাল আর্টও শিখেছিলাম। কারণ সে সময় সোহেল রানা আঙ্কেল মার্শাল আর্টের সিনেমা শুরু করেছিলেন, যা আমার খুব ভালো লেগেছিল। আব্বাও মার্শাল আর্ট শিখতে উৎসাহ দিয়েছিলেন। কিন্তু পড়াশোনার চাপ বেড়ে যাওয়ায় আর মনোযোগ দিতে পারিনি। এরপর ব্যবসায় যখন ঢুকে গেলাম, তখন মন ঘুরে যায়।’

বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় থেকেই বাবার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান রাজলক্ষ্মী প্রোডাকশনের সঙ্গে যুক্ত হন বাপ্পী। পড়াশোনার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির কাজে সময় দিতে শুরু করেন তিনি। ‘সৎ ভাই’ সিনেমা থেকে প্রযোজনার কাজের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেন এই নির্মাতার ছেলে।

বাপ্পী জানান, ‘চাপাডাঙ্গার বউ’ সিনেমার মাধ্যমে বড় ভাই বাপ্পারাজ অভিনয়ে আসেন। তখন ছোট ভাই সম্রাট ছিলেন অনেক ছোট।

এ ছাড়া ‘বাবা কেন চাকর’ সিনেমার চিত্রনাট্য লেখা থেকে শুরু করে রেকর্ডিং পর্যন্ত বাবার সঙ্গে কাজ করেছেন তিনি। অভিনয়ে না এলেও চলচ্চিত্র নির্মাণের বিভিন্ন পর্যায়ে তার সম্পৃক্ততা ছিল।

পডকাস্টে বাবা রাজ্জাককে নিয়েও স্মৃতিচারণা করেন বাপ্পী। তার ভাষ্য, সন্তানদের মানুষ করার ক্ষেত্রে বাবা ছিলেন কঠোর, তবে সেই শাসনের আড়ালে ছিল গভীর ভালোবাসা। সন্তানদের সময় দেওয়া, খোঁজখবর রাখা এবং তাদের সঠিক পথে পরিচালিত করার বিষয়গুলোতে বিশেষ নজর দিতেন নায়করাজ।

বাপ্পী বলেন, ‘বাবা হিসেবে উনি ছিলেন অসাধারণ। একজন পারফেক্ট বাবা হিসেবে সন্তানদের যেভাবে মানুষ করতে হয়, ঠিক সেভাবেই আমাদের গড়ে তুলেছেন। উনার শাসন যেমন কড়া ছিল, তেমনি সন্তানদের প্রতি ছিল অগাধ ভালোবাসা।’তিনি আরও জানান, সন্ধ্যার পর সন্তানদের বাইরে থাকার অনুমতি ছিল না। তবে বাড়িতেই খেলাধুলা ও বিনোদনের নানা ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন রাজ্জাক। খেলার মাঠ, সুইমিংপুল, পশুপাখি ও বিড়াল- সব মিলিয়ে সন্তানদের জন্য বাড়িতেই আনন্দময় পরিবেশ তৈরি করেছিলেন তিনি।

বাপ্পীর মতে, বাবার সেই কঠোর নিয়মকানুন পরবর্তী সময়ে তাদের জীবনে কাজে লেগেছে। তখন অনেক বিষয়ে বাবার শাসন নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও এখন বুঝতে পারেন, সন্তানদের ভালো ভবিষ্যতের কথা ভেবেই তিনি এমন করতেন।

২০১৪ সালে কানাডায় পাড়ি জমান বাপ্পী। তবে তার বিদেশে যাওয়ার সিদ্ধান্তে শুরুতে রাজি ছিলেন না নায়করাজ রাজ্জাক। বাপ্পীর ভাষ্য, মেয়ের পড়াশোনার কারণে কানাডায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর বাবাকে বোঝাতে হয়েছিল।

তিনি বলেন, ‘আমি যখন চলে আসি, আব্বা একেবারেই রাজি ছিলেন না। বারবার বলছিলেন ‌‘সেখানে গিয়ে তুমি কী করবে?’ তখন আমার মেয়ে কানাডায় পড়ালেখা করছিল। তাকে বোঝানোর পর তিনি রাজি হন।’

বাপ্পী আরও জানান, তিনি কানাডায় চলে আসার পর তার মা জানিয়েছিলেন, ছেলে চলে যাওয়ার কষ্টে রাজ্জাক ঘরের দরজা বন্ধ করে অনেক কেঁদেছিলেন। বাবার সেই আবেগের কথা বলতে গিয়ে পডকাস্টে নিজেও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি।অভিনয়ে না এলেও বাবার চলচ্চিত্রের কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকা, পারিবারিক স্মৃতি আর নায়করাজের শাসন-ভালোবাসার গল্পের মধ্য দিয়ে পডকাস্টে উঠে এসেছে রাজ্জাক পরিবারের একান্ত কিছু মুহূর্ত।

পুরাতন সংবাদ পড়ুন
« এপ্রিল ২০২৬ »
সোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্রশনিরবি
  ১২৩৪৫
৬৭৮৯১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০   

অনুসরণ করুন