মঙ্গলবার, ২২শে সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ১২:০০

নারী ক্রীড়ার বিকাশে বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থার ভূমিকা

বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থা: নারী খেলোয়াড়দের স্বপ্নপূরণের অন্যতম প্ল্যাটফর্ম

বাংলাদেশের নারী ক্রীড়াঙ্গনের বিকাশে দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থা। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি যাত্রা শুরু করা এই প্রতিষ্ঠানটি শুরুতে ‘বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ সংস্থা’ নামে কার্যক্রম পরিচালনা করে। পরে ১৯৮৫ সালে এর নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থা। বর্তমানে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ও যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীনে নারী ক্রীড়ার উন্নয়নে বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করছে সংস্থাটি।

মেয়েদের খেলাধুলায় অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি, প্রতিভাবান খেলোয়াড় খুঁজে বের করা, প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের জন্য খেলোয়াড় গড়ে তোলাই সংস্থাটির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। বিকেএসপির সহযোগিতায় সাঁতার, টেবিল টেনিস, জিমন্যাস্টিকস, ফুটবল ও ক্রিকেটে প্রাথমিক প্রশিক্ষণের সুযোগ রয়েছে। এর পাশাপাশি ব্যাডমিন্টন, বাস্কেটবল, রোলার স্কেটিংসহ বিভিন্ন খেলায় প্রশিক্ষণ ও ক্রীড়া কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

নারী খেলোয়াড়দের উন্নয়নে শুধু প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করাই যথেষ্ট নয়। তাদের জন্য নিরাপদ ক্রীড়া পরিবেশ নিশ্চিত করা, পরিবারকে খেলাধুলায় উৎসাহিত করা এবং হয়রানি ও বুলিং প্রতিরোধ করাও গুরুত্বপূর্ণ। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থা খেলোয়াড়দের জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরিতে গুরুত্ব দিচ্ছে। যৌন হয়রানি, নির্যাতন ও বুলিংয়ের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা জানিয়েছে সংস্থাটি। অভিযোগ গ্রহণ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পাঁচ সদস্যের একটি কমিটিও রয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে সংস্থার বিভিন্ন কার্যক্রমেও গতি দেখা গেছে। ২০২৬ সালের আন্তঃবিভাগীয় অনূর্ধ্ব-১৬ বালিকা ফুটবল প্রতিযোগিতায় দেশের ১৬ জেলার প্রায় ৩০০ কিশোরী অংশগ্রহণ করে। এছাড়া মেয়েদের স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি আর্চারি প্রশিক্ষণের জন্য বাংলাদেশ আর্চারি ফেডারেশনের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থা।

আন্তর্জাতিক পর্যায়েও নারী ক্রীড়ার উন্নয়ন ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন উদ্যোগে যুক্ত হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। ২০২৬ সালে যুক্তরাজ্যের বার্মিংহামে অনুষ্ঠিত IWG Global Summit on Women & Sport-এ বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন সংস্থার সভাপতি ব্যারিস্টার সারওয়াত সিরাজ শুক্লা। এর ধারাবাহিকতায় ২ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ নারী ক্রীড়ায় সমান সুযোগ, নিরাপত্তা ও অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করার আন্তর্জাতিক কাঠামো Brighton Plus Helsinki Declaration-এ আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হয়।

বাংলাদেশের নারী খেলোয়াড়রা ইতোমধ্যে ক্রিকেট, ফুটবল, আর্চারি, শুটিং ও ভারোত্তোলনসহ বিভিন্ন খেলায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। এই ধারাকে আরও এগিয়ে নিতে তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভা অন্বেষণ, নিয়মিত প্রশিক্ষণ, নিরাপদ আবাসন ও অনুশীলন সুবিধা, দক্ষ নারী কোচ ও ক্রীড়া কর্মকর্তা তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

এ ক্ষেত্রে সরকার, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ, বিকেএসপি, বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন এবং বিভিন্ন ক্রীড়া ফেডারেশনের সমন্বিত উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সমন্বিত সহযোগিতা আরও বাড়ানো গেলে বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থা নারী ক্রীড়াবিদদের জন্য একটি কার্যকর সহায়তা ও উন্নয়নকেন্দ্র হিসেবে আরও শক্তিশালী ভূমিকা রাখতে পারে।

নারী খেলোয়াড়দের জন্য সুযোগ, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করার মাধ্যমে দেশের নারী ক্রীড়াঙ্গনকে আরও এগিয়ে নেওয়াই এখন বড় লক্ষ্য।

পুরাতন সংবাদ পড়ুন
« ফেব্রুয়ারি ২০২৭ »
সোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্রশনিরবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮

অনুসরণ করুন