মঙ্গলবার, ২২শে সেপ্টেম্বর ২০২৬, ভোর ৫:১৫

পর্যটন খাতের উন্নয়নে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব জোরদারের আহ্বান মীর হেলালের

ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন দেশের পর্যটন শিল্পের অগ্রগতিতে সরকারি-বেসরকারি খাতের মধ্যে সমন্বয় ও পারস্পরিক সহযোগিতা আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। 

পর্যটন শিল্পের বিকাশে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব জোরদারের তাগিদ মীর হেলালের

ঢাকা, ২১ সেপ্টেম্বর: বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে সরকারি সহযোগিতার পাশাপাশি বেসরকারি খাতকে নেতৃত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন।

বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে আজ রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পর্যটন ভবনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, পর্যটন খাতের উন্নয়নে সরকার প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা ও নীতিগত সহায়তা দেবে। তবে পর্যটন শিল্পের বিকাশ, প্রচার, বিপণন ও ব্র্যান্ডিংয়ে বেসরকারি খাতকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে পর্যটন শিল্পের সম্ভাবনাকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। অথচ বিশ্বের অনেক দেশ পর্যটননির্ভর অর্থনীতির মাধ্যমে এগিয়ে যাচ্ছে। দেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পর্যটনসম্পদের বিপুল সম্ভাবনা থাকলেও সরকারি-বেসরকারি খাতের মধ্যে সমন্বয় ও যোগাযোগের ঘাটতি এ খাতের উন্নয়নে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মীর হেলাল উদ্দিন আরও বলেন, পর্যটন শিল্পকে বিচ্ছিন্নভাবে নয়, বরং সমন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমে এগিয়ে নিতে হবে। কোন খাতে কত বিনিয়োগ প্রয়োজন, কীভাবে তা বাস্তবায়ন করা হবে এবং সরকারের কী ধরনের সহযোগিতা দরকার, তা পরিকল্পনায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে হবে।

বাংলাদেশের পর্যটন সম্ভাবনাকে বিশ্ববাসীর কাছে ইতিবাচকভাবে তুলে ধরার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি। দেশের কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা আন্তর্জাতিকভাবে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপিত হওয়ায় বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন প্রতিমন্ত্রী। পাশাপাশি দেশের অর্জন, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, মানুষের আতিথেয়তা ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য বিশ্বদরবারে তুলে ধরতে গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

পার্বত্য চট্টগ্রামের পর্যটন সম্ভাবনা তুলে ধরে মীর হেলাল বলেন, ওই অঞ্চলে নিরাপত্তা ও পর্যটনসুবিধা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। পররাষ্ট্র, স্বরাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামকে নিরাপদ পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সম্ভাবনাময় স্থানগুলোকে পর্যটন নেটওয়ার্কের আওতায় আনা গেলে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের জন্য নতুন আকর্ষণীয় গন্তব্য তৈরি হবে।

বিদেশি পর্যটকদের জন্য আন্তর্জাতিক মানের সেবা নিশ্চিত করার ওপরও জোর দেন তিনি। পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে বিভিন্ন দেশের পর্যটকদের চাহিদা ও সংস্কৃতি বিবেচনায় রেখে বিনোদন এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী।

এ ছাড়া বিমানবন্দরে লাগেজ ব্যবস্থাপনা, ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস সেবায় সমন্বয় বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন তিনি। বেসরকারি কোনো প্রতিষ্ঠান সরকারি ব্যবস্থার তুলনায় উন্নত সেবা দিতে সক্ষম হলে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের মাধ্যমে তাদের সম্পৃক্ত করার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে বলেও জানান মীর হেলাল।

পর্যটন খাতের উন্নয়নে ভূমি অধিগ্রহণসহ প্রশাসনিক কার্যক্রম দ্রুত ও সহজ করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, এসব প্রক্রিয়া সহজ করতে অটোমেশন ও অনলাইন সেবা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

সবশেষে, পর্যটন খাতের সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিয়ে নিয়মিত সমন্বয় সভা আয়োজনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, পর্যটনের উন্নয়ন কোনো একক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নয়, বরং এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

পুরাতন সংবাদ পড়ুন
« আগস্ট ২০২৫ »
সোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্রশনিরবি
    
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১

অনুসরণ করুন