বৃহস্পতিবার, ২রা জুলাই ২০২৬, রাত ১:৪৭

প্যারিসের বুকেই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেলেন বাংলাদেশী আলোকচিত্রী রনি ‘প্যারিসের ছবি’ এখন বিশ্বমঞ্চে সমাদৃত

রাশেদ কবীর: আলোকচিত্র কেবল নান্দনিক প্রকাশের মাধ্যম নয়, বরং এটি ইতিহাস সংরক্ষণ এবং মানবিক অভিজ্ঞতার এক জীবন্ত দলিল। এই দর্শনেরই এক অনবদ্য প্রতিফলন ঘটেছে আলোকচিত্রী ও গবেষক ফরিদ আহাম্মদ রনির ত্রিমাত্রিক ভাষায় রচিত গ্রন্থ ‘প্যারিসের ছবি’-তে। এটি কেবল একটি ফটোবুক নয়; বরং শিল্প, ইতিহাস, সাহিত্য ও নগর সংস্কৃতির এক অনন্য সৃজনশীল দলিল হিসেবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করছে।

বাংলা, ইংরেজি ও ফরাসি—এই তিন ভাষায় প্রকাশিত এই গ্রন্থে প্যারিসের ঐতিহাসিক স্থাপত্য, শিল্প ঐতিহ্য, নগরজীবনের বৈচিত্র্য এবং সাংস্কৃতিক আবহকে এক বিশেষ ও গভীর দৃষ্টিভঙ্গিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। বইটি পাঠকদের শুধু প্যারিসের দৃশ্যমান সৌন্দর্যের সঙ্গেই পরিচয় করায় না, বরং শহরটির ইতিহাস, ঐতিহ্য ও আত্মার গভীরে প্রবেশের এক অনন্য সুযোগ সৃষ্টি করে দেয়।

আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গ্রন্থটি ইতিমধ্যেই ব্যাপক প্রশংসা ও স্বীকৃতি অর্জন করেছে। সম্প্রতি ফ্রান্সের ঐতিহাসিক গ্রঁ পালে-এ অনুষ্ঠিত মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক ‘ChangeNOW Summit’-এ ফরিদ আহাম্মদ রনি তাঁর এই গ্রন্থটি মোনাকোর যুবরাজ প্রিন্স আলবার্ট দ্বিতীয়, ফ্রান্সের সাবেক প্রধানমন্ত্রী লরাঁ ফাবিউস এবং জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল মেলিসা ফ্লেমিং-এর হাতে তুলে দেন। বিশ্বমঞ্চের এই শীর্ষ ব্যক্তিত্বরা বইটির উচ্চ শিল্পগুণ, গভীর সাংস্কৃতিক মূল্য এবং বৈশ্বিক সংলাপ তৈরিতে এর অনন্য ভূমিকার প্রশংসা করেন।

এছাড়াও, ফরিদ আহাম্মদ রনি ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর কাছেও তাঁর এই সৃজনশীল গ্রন্থটি পৌঁছে দেওয়ার গৌরব লাভ করেন। পরবর্তীতে ফরাসি রাষ্ট্রপতির দপ্তর থেকে প্রাপ্ত আনুষ্ঠানিক প্রশংসাপত্র তাঁর এই কাজের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতাকে আরও সুদৃঢ় ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়।

দীর্ঘ গবেষণা, সূক্ষ্ম পরিকল্পনা ও সৃজনশীল শ্রমের ফসল ‘প্যারিসের ছবি’ প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ফ্রান্স ও বাংলাদেশের গবেষক, শিক্ষাবিদ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং শুভানুধ্যায়ীদের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

দেশ-বিদেশের সাংবাদিক, আলোকচিত্রী ও সংস্কৃতিকর্মীদের মতে, এই গ্রন্থটি শুধু একটি শহরভিত্তিক আলোকচিত্র সংকলন বা সাধারণ ফটোবুক নয়; বরং এটি বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সাংস্কৃতিক সম্পর্ককে আরও গভীর ও সুদৃঢ় করার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সৃজনশীল উদ্যোগ।

ফরিদ আহাম্মদ রনির ক্যামেরায় নিখুঁতভাবে ধরা পড়েছে মানুষের জীবনসংগ্রাম, সংস্কৃতির বৈচিত্র্য, সামাজিক পরিবর্তন এবং সময়ের নানা গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। তাঁর এই ধারাবাহিক সৃজনশীল প্রচেষ্টারই সর্বশেষ এবং অন্যতম সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি হিসেবে দেখা হচ্ছে প্যারিসের মেয়রের সঙ্গে তাঁর সাম্প্রতিক তাৎপর্যপূর্ণ সাক্ষাৎ এবং সেখান থেকে প্রাপ্ত সম্মানজনক স্বীকৃতিকে, যা বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের সৃজনশীলতার এক অনন্য জয়জয়কার।

পুরাতন সংবাদ পড়ুন
« এপ্রিল ২০২৬ »
সোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্রশনিরবি
  
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০   

অনুসরণ করুন