বুধবার, ২রা সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ৮:০৬

বগুড়া শজিমেকে রোগীর মৃত্যু ঘিরে সংঘর্ষ, আহত ১২

বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে স্বজন ও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (০১ সেপ্টেম্বর) নিজেদের নিরাপত্তাসহ কয়েকটি দাবিতে রাত ১২টা থেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেন ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা।
ইন্টার্ন চিকিৎসকদের অভিযোগ, ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যু হয়েছে- এমন অভিযোগ তুলে রোগীর স্বজন ও বহিরাগতরা তাদের ওপর হামলা চালান। এতে ছয়জন ইন্টার্ন চিকিৎসক আহত হন। তাদের মধ্যে তিনজনের হাতের হাড় ভেঙেছে বলেও দাবি করেন তারা।
অন্যদিকে, নিহত রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, একজন ইন্টার্ন চিকিৎসকের দেওয়া ভুল ইনজেকশনের কারণে রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এ বিষয়ে কথা বলতে গেলে প্রথমে চিকিৎসকদের সঙ্গে তাদের বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা তাদের সঙ্গে থাকা ছয়জনকে মারধর করে হাসপাতালের ভেতরে কয়েক ঘণ্টা আটকে রাখেন বলেও অভিযোগ করেন রোগীর স্বজনরা।
ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ভাষ্য, সদর উপজেলার রাজাপুর এলাকার বাসিন্দা আব্দুল মালেক নামের এক বৃদ্ধকে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মুমূর্ষু অবস্থায় মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। সেখানে মিড লেভেল ও ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা তাকে চিকিৎসা দেন। রাত ১০টার পর তার মৃত্যু হয়।
এরপর ভুল চিকিৎসার অভিযোগ তুলে কয়েকজন স্বজন ও ১০ থেকে ১৫ জন বহিরাগত তাদের ওপর হামলা চালান বলে দাবি চিকিৎসকদের।
হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মঞ্জুর ই মুর্শেদ বলেন, রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বহিরাগতরা ইন্টার্ন ও মিড লেভেলের ছয়জন চিকিৎসকের ওপর হামলা চালায়। এতে তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন এবং বাকি তিনজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, ঘটনার পর চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল ও প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছেন। ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত থাকলেও মিড লেভেল ও জ্যেষ্ঠ চিকিৎসকদের সেবায় নিয়োজিত করা হয়েছে। ফলে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা স্বাভাবিক রয়েছে।
বগুড়া সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইব্রাহিম আলী বলেন, মারামারির খবর পেয়ে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশ হাসপাতালে যায়। সেখানে ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা অভিযোগ করেন, ভুল চিকিৎসার অভিযোগ তুলে বহিরাগতরা তাদের ওপর হামলা চালিয়েছেন। একই সঙ্গে রোগীর ছয় স্বজনকে হাসপাতালের ভেতরে আটকে রাখার বিষয়টিও পুলিশ জানতে পারে।
ওসি বলেন, হাসপাতালে পৌঁছানোর প্রায় দুই ঘণ্টা পর পুলিশ ওই ছয়জনকে উদ্ধার করে ক্যাজুয়ালিটি বিভাগে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে। পরে তাদের পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। তাদের মধ্যে চারজন অসুস্থ থাকায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং দুজনকে থানায় নেওয়া হয়েছে। তবে ওই ছয়জনের মধ্যে চারজন মহানগর ছাত্রদলের বিভিন্ন ওয়ার্ড কমিটির নেতা বলে পুলিশ জানিয়েছে। এ ঘটনায় এখনো কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুরাতন সংবাদ পড়ুন
« সেপ্টেম্বর ২০২৬ »
সোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্রশনিরবি
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০    

অনুসরণ করুন