মঙ্গলবার, ৩০শে জুন ২০২৬, দুপুর ১:৪২

বিএমসিসিআই প্রতিনিধি দলের সাথে বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রীর সাক্ষাৎ

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক, ঢাকা: বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (BMCCI) একটি প্রতিনিধি দল সভাপতি জনাব আনোয়ার শহীদের নেতৃত্বে বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, এমপি-র সাথে ঢাকার শিল্প মন্ত্রণালয়ে এক সৌজন্য সাক্ষাৎকারে মিলিত হন। বৈঠকে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার লক্ষ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগের নতুন ক্ষেত্রগুলো অন্বেষণ করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

বিএমসিসিআই প্রতিনিধি দলে আরও উপস্থিত ছিলেন সহ-সভাপতি জনাব মো. আরফাতুর রহমান (আপেল), মহাসচিব সৈয়দ মঈনউদ্দীন আহমেদ, যুগ্ম মহাসচিব জনাব মো. মামুনুর রহমান এবং পরিচালকবৃন্দ—জনাব মোহাম্মদ শাহজাহান, জনাব মো. ফয়জুল আলম ও জনাব মো. শাহজাহান সাজু।

প্রধান আলোচনার বিষয়সমূহ:বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি: আলোচনার একটি প্রধান বিষয় ছিল সরাসরি বিদেশী বিনিয়োগ (FDI) আকর্ষণ করা এবং উচ্চ-প্রযুক্তি শিল্প প্রবৃদ্ধির প্রসার ঘটানো। উভয় পক্ষই সেমিকন্ডাক্টর ও মাইক্রোচিপ শিল্পের সম্ভাবনার পাশাপাশি দ্রুত বর্ধনশীল বৈশ্বিক হালাল বাজারের সুযোগগুলোর ওপর জোর দেন। দক্ষতা বৃদ্ধি: বাংলাদেশে এই উদীয়মান খাতগুলোর উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে নিয়মিত জ্ঞান বিনিময়, সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ এবং মালয়েশিয়ার প্রযুক্তি ও দক্ষতাকে কাজে লাগানোর গুরুত্বও বৈঠকে তুলে ধরা হয়।

বাণিজ্য ঘাটতি ও ভবিষ্যৎ লক্ষ্য বৈঠককালে বিএমসিসিআই সভাপতি জনাব আনোয়ার শহীদ বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ভারসাম্যের ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের রপ্তানি ক্রমাগত বাড়ছে এবং তা প্রায় ৩০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে। তবে তিনি এ-ও উল্লেখ করেন যে, এখনো মালয়েশিয়ার পক্ষে একটি বড় বাণিজ্য ঘাটতি রয়ে গেছে।

তিনি জানান যে, বিএমসিসিআই এই ঘাটতি কমাতে এবং বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের বৈচিত্র্যকরণে কার্যকর কৌশল খুঁজে বের করতে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। তিনি আরও যোগ করেন যে, আধুনিক শিল্প সহযোগিতা, কৌশলগত অংশীদারিত্ব এবং রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যকে ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের গণ্ডি ছাড়িয়ে নিয়ে যাওয়াই এই চেম্বারের লক্ষ্য।

চিকিৎসা পর্যটনে সহযোগিতা: বিএমসিসিআই মহাসচিব সৈয়দ মঈনউদ্দীন আহমেদ মাননীয় মন্ত্রীকে মালয়েশিয়ায় স্বাস্থ্য পর্যটনের ক্রমবর্ধমান সম্ভাবনার কথা জানান। তিনি উল্লেখ করেন যে, মালয়েশিয়া সিঙ্গাপুরের সমকক্ষ বিশ্বমানের চিকিৎসা সেবা প্রদান করে, তবে সেখানে চিকিৎসার খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কম।

তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, এটি যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশের জন্য একটি মূল্যবান সুযোগ তৈরি করতে পারে; যেমন—মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশী ডাক্তার ও নার্সদের উচ্চতর প্রশিক্ষণ প্রদান এবং বাংলাদেশে মালয়েশিয়ার চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের সম্পৃক্ত করা। তাঁর মতে, এ ধরনের সহযোগিতা বাংলাদেশে একটি ডেডিকেটেড (নির্ধারিত) হালাল মেডিকেল ট্যুরিজম খাতের বিকাশের পথ সুগম করতে পারে।

সরকারের আশ্বাস: মাননীয় মন্ত্রী দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদার করার ক্ষেত্রে বিএমসিসিআই-এর সক্রিয় ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি প্রতিনিধি দলকে আশ্বস্ত করেন যে, চেম্বারের দীর্ঘমেয়াদী দৃষ্টিভঙ্গি ও উদ্যোগগুলোকে সমর্থন জানাতে মন্ত্রণালয় সক্রিয়ভাবে পাশে থাকবে।

এছাড়া, জাতীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে গৃহীত উদ্যোগগুলোর সফল বাস্তবায়নে পূর্ণ সরকারি সহায়তার আশ্বাস দিয়ে মন্ত্রী বিএমসিসিআই নেতৃত্বকে যেকোনো সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব বা প্রয়োজনীয়তা পেশ করার আহ্বান জানান।

পুরাতন সংবাদ পড়ুন
« মে ২০২৬ »
সোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্রশনিরবি
    
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১

অনুসরণ করুন