ফিফা বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ৩২ চলমান থাকলেও ইতোমধ্যে শিরোপার দৌড় থেকে বিদায় নিয়েছে ২৩টি দল। গ্রুপ পর্ব ও নকআউট মিলিয়ে বিভিন্ন মহাদেশের দলগুলো একে একে ছিটকে পড়েছে। এবারের আসরে সবচেয়ে বেশি ধাক্কা খেয়েছে এশিয়ার প্রতিনিধিরা। আটটি এশিয়ান দল ইতোমধ্যেই বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে।
গ্রুপ পর্বেই বিদায় নেয় কাতার, ইরান, ইরাক, জর্ডান, উজবেকিস্তান, দক্ষিণ কোরিয়া ও সৌদি আরব। তাদের মধ্যে কয়েকটি দল একটি ম্যাচও জিততে পারেনি। অন্যদিকে নকআউট পর্বে জায়গা করে নেওয়া জাপানও শেষ পর্যন্ত টিকতে পারেনি। ব্রাজিলের বিপক্ষে এগিয়ে থেকেও ২-১ ব্যবধানে হেরে রাউন্ড অব ৩২ থেকেই বিদায় নিতে হয়েছে তাদের।
এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের সদস্য হিসেবে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া অস্ট্রেলিয়াই এখন এই অঞ্চলের একমাত্র টিকে থাকা দল। আগামী ৪ জুলাই রাউন্ড অব ১৬-এ ওঠার লড়াইয়ে তারা মুখোমুখি হবে মিশরের।
ইউরোপ থেকেও এখন পর্যন্ত ছয়টি দল বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে। গ্রুপ পর্বে বাদ পড়ে চেক প্রজাতন্ত্র, স্কটল্যান্ড ও তুরস্ক। আর রাউন্ড অব ৩২-এ এসে ঘটে বড় দুই অঘটন। জার্মানি ও নেদারল্যান্ডস টাইব্রেকারে যথাক্রমে প্যারাগুয়ে ও মরক্কোর কাছে হেরে টুর্নামেন্ট ছাড়ে। এছাড়া সুইডেন শক্তিশালী ফ্রান্সের কাছে পরাজিত হয়ে বিদায় নেয়।
আফ্রিকার তিনটি দলও বিশ্বকাপ অভিযান শেষ করেছে। গ্রুপ পর্বে তিউনিসিয়া বিদায় নিলেও নকআউটে স্বাগতিক কানাডার কাছে দক্ষিণ আফ্রিকা এবং নরওয়ের কাছে আইভরি কোস্ট হেরে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যায়। লড়াইয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়লেও শেষ পর্যন্ত অভিজ্ঞতার ঘাটতি তাদের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
কনকাকাফ অঞ্চল থেকে গ্রুপ পর্বেই বিদায় নিয়েছে হাইতি, কুরাসাও ও পানামা। রক্ষণভাগের দুর্বলতা এবং গোল করার ব্যর্থতা তাদের অগ্রযাত্রা থামিয়ে দেয়।
দক্ষিণ আমেরিকার দুই প্রতিনিধি ইতোমধ্যে বিশ্বকাপকে বিদায় জানিয়েছে। গ্রুপ পর্বে ছিটকে যায় উরুগুয়ে। অন্যদিকে রাউন্ড অব ৩২-এ স্বাগতিক মেক্সিকোর কাছে হেরে বিদায় নেয় ইকুয়েডর।
ওশেনিয়া অঞ্চল থেকে অংশ নেওয়া একমাত্র দল নিউজিল্যান্ডও গ্রুপ পর্ব পেরোতে পারেনি। তিন ম্যাচে মাত্র দুই পয়েন্ট সংগ্রহ করে তাদের বিশ্বকাপ মিশন শেষ হয়।
নকআউট পর্বে সবচেয়ে আলোচিত বিদায়ের একটি ছিল জাপানের হার। ব্রাজিলের বিপক্ষে একসময় এগিয়ে থাকলেও শেষ মুহূর্তের দুই গোলে হেরে যায় তারা। একইভাবে জার্মানি ও নেদারল্যান্ডসের মতো ইউরোপীয় পরাশক্তির বিদায়ও এবারের আসরের অন্যতম বড় চমক হয়ে উঠেছে।
সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত বিদায় নেওয়া দলগুলোর তালিকা প্রমাণ করছে, এবারের বিশ্বকাপে কোনো ম্যাচই সহজ নয়। বড় দলগুলোর হোঁচট এবং অপেক্ষাকৃত ছোট দলগুলোর সাহসী লড়াই টুর্নামেন্টকে আরও অনিশ্চিত ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করে তুলেছে।















