বুধবার, ২রা সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ১:৪১

**বিশ্ববাজারে তেলের দাম ৯১ ডলার ছাড়িয়ে গেল**

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে হামলা-পাল্টা হামলা শুরু হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। এর প্রভাবে মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯১ ডলারের ওপরে উঠেছে। 

বাংলাদেশ সময় সকাল ১০টা ৫৫ মিনিটে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১ দশমিক ০৫ ডলার বা ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯১ দশমিক ৫৪ ডলারে দাঁড়ায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআইয়ের দাম ১ দশমিক ২৭ ডলার বা ১ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ৮৭ দশমিক ৩ ডলারে ওঠে।
এর আগের সেশনেও ব্রেন্টের দাম ২ দশমিক ৭ শতাংশ এবং ডব্লিউটিআইয়ের দাম ২ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছিল।
রোববার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এক মাসের মধ্যে প্রথম সরাসরি হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের লারাক দ্বীপে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণকারী স্থাপনায় হামলা চালানোর পর ইরান জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালায়। এরপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে আরও হামলার হুমকি দেন। এতে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি অবকাঠামো ও তেল পরিবহন নিয়ে নতুন করে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের পাল্টা হামলার আশঙ্কা বাড়ায় উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাও তেলের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে।
জাহাজ চলাচলের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে মাত্র পাঁচটি পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করতে দেখা গেছে। গত ১০ দিনের গড় ছিল প্রায় ১৪টি। ওই পাঁচটি জাহাজের কোনোটিই তেলবাহী ট্যাংকার ছিল না।
যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন হতো। কাতার ও ওমানের মধ্যস্থতায় প্রণালিটি পুনরায় খুলে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত তা সফল হয়নি। এদিকে হরমুজ প্রণালি থেকে বের হওয়ার সময় একটি তেলবাহী ট্যাংকারে তিনটি প্রজেক্টাইল আঘাত হানার কথা জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস বা ইউকেএমটিও। তবে এতে কেউ হতাহত হয়নি এবং পরিবেশগত ক্ষতিরও খবর পাওয়া যায়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ৬০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন হলেও তা সংঘাত শুরুর আগের তুলনায় অনেক কম। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত তেলের মজুতও কমছে। ফলে বিশ্ববাজারে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়ছে।
রয়টার্সের আগস্টের জরিপে অংশ নেওয়া বিশ্লেষকেরা ধারণা করছেন, জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন অব্যাহত থাকলে ২০২৬ সালে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮০ ডলারের ওপরে থাকতে পারে।

 

পুরাতন সংবাদ পড়ুন
« জানুয়ারি ২০২৭ »
সোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্রশনিরবি
    
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১

অনুসরণ করুন