শুক্রবার, ১০ই জুলাই ২০২৬, রাত ১০:৫৬

বৈদেশিক বাণিজ্যে বড় ঘাটতি, অঙ্ক ২৪ বিলিয়ন ডলার

আমদানির ব্যয় বাড়লেও সেই তুলনায় রপ্তানি আয় না বাড়ায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে (জুলাই-মে) দেশের পণ্য বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে ২৩.৯৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এটি আগের অর্থবছরের একই সময়ের ১৯.৩৮ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় প্রায় ২৪ শতাংশ বেশি।
৯ জুলাই  প্রকাশিত বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক লেনদেনের চলতি হিসাবের ভারসাম্য (ব্যালেন্স অব পেমেন্ট-বিওপি) হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
খাত-সংশ্লিষ্টদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্যের দাম বৃদ্ধি, কাঁচামাল আমদানির ব্যয় এবং রপ্তানির তুলনায় আমদানি দ্রুত বাড়ায় বৈদেশিক বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে আমদানি বেড়ে ৬৪.২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৬.৩ শতাংশ বেশি। একই সময়ে রপ্তানি আয় ২ শতাংশ কমে ৪০.০৪ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। ফলে পণ্য বাণিজ্যে ঘাটতি আরও বেড়েছে।
 
চলতি হিসাবের ভারসাম্য
চলতি হিসাবে উদ্বৃত্ত থাকার অর্থ হলো নিয়মিত লেনদেনে দেশকে কোনো ঋণ করতে হচ্ছে না। আর ঘাটতি থাকলে সরকারকে ঋণ নিয়ে তা পূরণ করতে হয়। সেই হিসাবে উন্নয়নশীল দেশের চলতি হিসাবে উদ্বৃত্ত থাকা ভালো। কিন্তু দেশে কারেন্ট অ্যাকাউন্ট ব্যালেন্স এখন সামান্য ঋণাত্মক আছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, গত অর্থবছরে মে মাস শেষে চলতি হিসাবের ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩০ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরে একই সময়ে এ ঘাটতি ছিল ৭৮ কোটি ডলার।
 
সামগ্রিক লেনদেন
সামগ্রিক লেনদেনে (ওভারঅল ব্যালান্স) ভালো অবস্থায় আছে বাংলাদেশ। আলোচিত সময়ে সামগ্রিক লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪০২ কোটি ডলার। এই সূচকটি আগের বছরের একই সময়ে (ঋণাত্মক) ১১৫ কোটি ডলার ঘাটতি ছিল।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে ৩ হাজার ২৭৭ কোটি ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। আগের বছর পাঠিয়েছিলেন ২৭৫০ কোটি ডলার। প্রবৃদ্ধি ১৯ দশমিক ১ শতাংশ।
এফডিআই
দেশে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) কমেছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই-মে সময়ে ১৫৫ কোটি ডলারের এফডিআই পেয়েছিল বাংলাদেশ। গত অর্থবছরের একই সময়ে তা ১৩১ কোটি ডলারে নেমে এসেছে।
একই সময়ে দেশের শেয়ারবাজারে বিদেশি বিনিয়োগও (পোর্টফোলিও ইনভেস্টমেন্ট) নেতিবাচক অবস্থায় নেমেছে। অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে শেয়ারবাজারে বিদেশি বিনিয়োগ (নিট) যা এসেছিল, তার চেয়ে ১৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার চলে গেছে। তার আগের অর্থবছরে শেয়ারবাজারে বিদেশি বিনিয়োগ ছিল (ঋণাত্মক) ১৩ কোটি ৪০ লাখ ডলার।
পুরাতন সংবাদ পড়ুন
« ডিসেম্বর ২০২৫ »
সোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্রশনিরবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১    

অনুসরণ করুন