মাথায় সাদা চুল, গালভর্তি সাদা দাড়ি। চোখে শূন্য দৃষ্টি। ক্লান্ত বিধ্বস্ত হয়ে বিমানবন্দরে বসে আছেন তিনি। হয়তো জীবনের খেরোখাতার হিসেব মেলাচ্ছেন। কে বলবে তিনি চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন? রুপালি পর্দায় যার গ্লামারে এক সময় বুঁদ থাকত অসংখ্য দর্শক, আজ তাকে চেনাই যেন বড় দায়। এক সময়ের পর্দা কাঁপানো নায়ক আর এই নায়কের ভেতর পার্থক্য যে আকাশ-পাতাল। আহা জীবন! আহারে জীবন! ব্রেন টিউমার যেন একদম নিঃস্ব করে দিয়েছে রুপালি পর্দার নায়ককে। সিনেমায় কতবার অপশক্তির বিপক্ষে লড়ে শেষ পর্যন্ত জয়ী হয়েছেন ঠিক নেই। কিন্তু হায়! বাস্তব যে বড় কঠিন! জীবনযুদ্ধে ব্রেন টিউমারের সঙ্গে লড়তে লড়তে বড় বেশি ক্লান্ত যেন ইলিয়াস কাঞ্চন৷
দীর্ঘ এক বছরেরও বেশি সময় ধরে লন্ডনে ব্রেন টিউমারের চিকিৎসা নেওয়ার পর কয়েক দিনের জন্য দেশে ফিরছেন এই অভিনেতা। ৩ আগস্ট সকালে লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে দেশের উদ্দেশে রওনা দেন তিনি। সঙ্গে ছিলেন জামাতা আরিফুল ইসলাম কলিন্স। বিমানবন্দরে তোলা ছবিতে সাদা চুল ও দাড়িতে যে ইলিয়াস কাঞ্চন ধরা দিলেন তাতে দর্শকরা ধাক্কাই খেতে পারেন। এই কি সেই রুপালি পর্দার চিরচেনা প্রতিবাদী যুবক? প্রিয় নায়ক?
চেনা নায়ক হঠাৎ কেন অচেনা হলেন? গত বছরের এপ্রিলে চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যান ইলিয়াস কাঞ্চন। একই বছরের আগস্টে তার মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হলেও জটিলতার কারণে টিউমারের একটি বড় অংশ অপসারণ করা সম্ভব হয়নি। এরপর থেকে প্রায় ৬০টি কেমোথেরাপি দেওয়া হয়েছে তাকে। যার প্রভাব পড়েছে শরীরেও।
এদিকে নিরাপদ সড়ক চাই’-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট লিটন এরশাদ গণমাধ্যমকে জানান, ‘লন্ডনে নায়কের সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা দেওয়ার পরেও পুরোপুরি সুস্থ হননি তিনি। নিজ দেশের মানুষের কাছে ফিরে আসার ইচ্ছা প্রকাশ করায় পরিবারের সিদ্ধান্তেই কয়েক দিনের জন্য তাকে দেশে আনা হচ্ছে। ১৫ আগস্ট লন্ডনে তার গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা-নিরীক্ষা নির্ধারিত রয়েছে। তাই ১৪ আগস্টের আগেই ইলিয়াস কাঞ্চনকে আবার লন্ডনে ফিরতে হবে।’
রুপালি পর্দায় সব প্রতিকূলতা আর অপশক্তির বিপক্ষে শেষ পর্যন্ত জয়ী হয়েছেন ইলিয়াস কাঞ্চন। বাস্তবের জীবনযুদ্ধেও তিনি ব্রেন টিউমারের বিপক্ষে লড়ে জয়ী হবেন। আবার রুপালি পর্দায় জমিয়ে অভিনয় করবেন, কখনো নিরাপদ সড়কের দাবিতে রাজপথে নামবেন, এমন প্রত্যাশায় তার কোটি কোটি ভক্তরা। ভক্ত আর শুভাকাঙ্ক্ষীদের জন্য এই যুদ্ধে ইলিয়াস কাঞ্চনকে যে জিততেই হবে।



















