বৃহস্পতিবার, ২রা জুলাই ২০২৬, রাত ৯:৪৮

ভেনেজুয়েলায় ৭ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক, নিহত বেড়ে ২২৯৫

ভেনেজুয়েলায় পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানার এক সপ্তাহ পরও ধ্বংসস্তূপে জীবিত কাউকে উদ্ধারের আশা ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে আসছে। এ পর্যন্ত প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ২৯৫ জনে। আহত হয়েছেন ১১ হাজারের বেশি মানুষ। জাতিসংঘ জানিয়েছে, এখনও প্রায় ৫০ হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।
 
বিপুল প্রাণহানির ঘটনায় অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ সাত দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেন, এই বিপর্যয়ে দেশের ‘আত্মা ক্ষতবিক্ষত’ হয়ে গেছে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত রাজধানী কারাকাসের উত্তরের শহর লা গুয়াইরায় উদ্ধারকাজ কার্যত শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ধসে পড়া অধিকাংশ ভবনে ‘ডি (ডিসিস্ট)’ চিহ্ন দিয়ে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে সেখানে জীবিত কাউকে পাওয়া যায়নি।
স্পেনের একটি উদ্ধারকারী দলের সমন্বয়কারী হাভিয়ের রোদেস বলেন, যেখানে জীবিত কাউকে পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে না, সেখানে আর সময় নষ্ট করা হয় না। তার ভাষ্য, প্রশিক্ষিত উদ্ধারকারী কুকুর নালাও ধ্বংসস্তূপে জীবনের কোনো চিহ্ন খুঁজে পায়নি।
তবে হতাশার মধ্যেও মিলেছে আশার আলো। মঙ্গলবার ভূমিকম্পের ছয় দিন পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে তিন বছর বয়সি এক শিশুকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। যদিও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভূমিকম্পের ৭২ ঘণ্টা পার হওয়ার পর আটকে পড়া মানুষের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা খুবই কমে যায়।
ভেনেজুয়েলার জাতীয় পরিষদের সভাপতি হোর্হে রদ্রিগেজ জানান, এ দুর্যোগে অন্তত ১৩ হাজার মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন।
খাদ্য ও পানির তীব্র সংকট
রিখটার স্কেলে ৭ দশমিক ২ এবং ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি ভূমিকম্পে তেলসমৃদ্ধ ভেনেজুয়েলার বিস্তীর্ণ এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সংকটের কারণে দেশটির অবকাঠামো ও স্বাস্থ্যব্যবস্থা আগে থেকেই দুর্বল ছিল, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
বিভিন্ন দেশ থেকে উদ্ধারকারী দল ও মানবিক সহায়তা পৌঁছালেও স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সরকারি সহায়তা পর্যাপ্ত নয়। সবচেয়ে বড় সংকট এখন খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির।
লা গুয়াইরার ১৮ বছর বয়সি বিক্রেতা দানিয়েলা আরমাস বলেন, ত্রাণ বিতরণ হলেও খাবার সংগ্রহ করতে মানুষের মধ্যে প্রায় মারামারির পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। তার ভাষায়, অবস্থা যেন ‘মোরগ লড়াইয়ের’ মতো।
এদিকে ধ্বংসস্তূপ থেকে মূল্যবান জিনিসপত্র চুরির অভিযোগে বুধবার চার পুলিশ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) ভেনেজুয়েলা প্রধান লিয়া পোজ্জিও পরিস্থিতিকে ‘অত্যন্ত সংকটাপন্ন’ বলে উল্লেখ করেছেন। ত্রাণের আশায় মানুষের দীর্ঘ লাইন প্রতিদিনই বাড়ছে। অনেকেই এখন স্বেচ্ছাসেবক ও সাধারণ মানুষের সহায়তার ওপর নির্ভর করে বেঁচে আছেন।
আশ্রয়কেন্দ্রে রান্না করা খাবার পৌঁছে দেওয়া স্বেচ্ছাসেবী আইসমার লোপেজ বলেন, তিনি যখন নিজে খাবার খান, তখন মনে হয় কোথাও না কোথাও কেউ না খেয়ে আছে। এ কারণে তার অপরাধবোধ হয়।
এ পরিস্থিতিতে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) আগামী তিন মাসে পাঁচ লাখ মানুষের জন্য খাদ্য সহায়তা দিতে ৫ কোটি ডলার জরুরি তহবিলের আবেদন জানিয়েছে।
রোগ ছড়ানোর শঙ্কা
ভূমিকম্প-পরবর্তী পরিস্থিতিতে সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও বাড়ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, ভেনেজুয়েলার স্বাস্থ্যব্যবস্থা এখন চরম চাপের মুখে রয়েছে।
সংস্থাটির মুখপাত্র ক্রিশ্চিয়ান লিন্ডমেয়ার বলেন, হাম ও ডিপথেরিয়ার মতো টিকায় প্রতিরোধযোগ্য রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বেড়েছে। কারণ ভূমিকম্পের আগেই দেশটিতে টিকাদানের হার ছিল কম।
অন্যদিকে, জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা আগামী ছয় মাসে ৩০ হাজার মানুষের জন্য জরুরি আশ্রয় ও সহায়তা নিশ্চিত করতে ১ কোটি ৪৯ লাখ ডলার তহবিল চেয়েছে।
নাসার প্রাথমিক স্যাটেলাইট বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ভূমিকম্পে প্রায় ৫৮ হাজার ৮৭০টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে।
এদিকে ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও স্বজনদের খুঁজে ফিরছেন অসংখ্য মানুষ। লা গুয়াইরার বাসিন্দা হেলেন গুয়েদেজ ও তার ভাই ধসে পড়া একটি ভবনে বাবা, বোন ও দাদির সন্ধান চালিয়ে যাচ্ছেন।
হেলেন বলেন, ‘আমরা খোঁজ চালিয়ে যাব। যদি জীবিত না-ও পাই, অন্তত তাদের মরদেহ উদ্ধার করে সম্মানের সঙ্গে দাফন করতে চাই।’
তথ্যসূত্র: ফ্রান্স২৪
পুরাতন সংবাদ পড়ুন
« অক্টোবর ২০২৬ »
সোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্রশনিরবি
   
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১ 

অনুসরণ করুন