বৃহস্পতিবার, ২রা জুলাই ২০২৬, রাত ২:২১

মারা গেছেন বর্ষীয়ান অভিনেত্রী বিজয়া মেহতা

ভারতের বরেণ্য নাট্যব্যক্তিত্ব, অভিনেত্রী ও পরিচালক বিজয়া মেহতা মারা গেছেন। মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাত সাড়ে ১০টার দিকে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯১ বছর। দীর্ঘদিন ধরে তিনি বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন।
ভারতীয় নাট্যচর্চার ইতিহাসে বিজয়া মেহতা ছিলেন এক উজ্জ্বল নাম। ষাটের দশকে মুম্বাইয়ে প্রতিষ্ঠিত বিখ্যাত নাট্যদল ‘রঙ্গায়ন’-এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। প্রখ্যাত নাট্যকার বিজয় তেন্ডুলকর, অভিনেতা অরবিন্দ দেশপাণ্ডে এবং শ্রীরাম লাগুর সঙ্গে যৌথভাবে তিনি এমন একটি সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সূচনা করেছিলেন, যা মারাঠি নাটকের ধারা বদলে দেয়।
তার নেতৃত্ব ও সৃজনশীল উদ্যোগে নাটক কেবল বিনোদনের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং সমাজ, রাজনীতি ও মানুষের মত প্রকাশের শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায়।
মঞ্চনাটকের পাশাপাশি চলচ্চিত্রেও সফল পদচারণা ছিল বিজয়া মেহতার। ‘রাও সাহেব’ (১৯৮৬) এবং ‘পেস্টনজি’ (১৯৮৮) চলচ্চিত্র পরিচালনার মাধ্যমে তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সমালোচকদের প্রশংসা অর্জন করেন। এছাড়া ১৯৮৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘পার্টি’ চলচ্চিত্রে তার অভিনয় ভারতীয় সিনেমার অন্যতম স্মরণীয় কাজ হিসেবে বিবেচিত হয়।
১৯৩৪ সালের ১ জানুয়ারি তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের গুজরাটের বরোদায় জন্মগ্রহণ করেন বিজয়া মেহতা। তার জন্মনাম ছিল বিজয়া জয়বন্ত। থিয়েটারের প্রতি গভীর আগ্রহ থেকে তিনি প্রখ্যাত নাট্যব্যক্তিত্ব ইব্রাহিম আলকাজি ও আদি মারজবানের কাছে নাট্যশিক্ষা গ্রহণ করেন।
শিল্প ও সংস্কৃতিতে অসামান্য অবদানের জন্য তিনি জীবদ্দশায় বহু সম্মাননায় ভূষিত হন। ভারত সরকার তাকে দেশের অন্যতম বেসামরিক সম্মাননা ‘পদ্মশ্রী’ প্রদান করে।
এ ছাড়া ১৯৮৭ সালে ‘রাও সাহেব’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি ভারতের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেত্রীর সম্মাননা অর্জন করেন। দীর্ঘ সময় তিনি সংগীত নাটক একাডেমির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।
অভিনয় ও পরিচালনার পাশাপাশি লেখক হিসেবেও তিনি পরিচিত ছিলেন। তার আত্মজীবনী ‘ঝিলতা ঝিলত বাতা’ পাঠকমহলে ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করে।
পুরাতন সংবাদ পড়ুন
« অক্টোবর ২০২৬ »
সোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্রশনিরবি
   
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১ 

অনুসরণ করুন