সোমবার, ২০শে জুলাই ২০২৬, দুপুর ২:১৬

মেসির নতুন জুতায় লুকিয়ে আছে ২০ বছরের বিশ্বকাপের ইতিহাস

বিশ্বকাপের মঞ্চে লিওনেল মেসিকে দেখলেই দর্শকদের চোখ সবার আগে চলে যায় তার পায়ের দিকে। কারণ তিনি শুধু ফুটবল খেলেন না, প্রতিটি ম্যাচে যেন নিজের ক্যারিয়ারের নতুন একটি অধ্যায় লিখে চলেন। ২০২৬ বিশ্বকাপেও সেই আবেগকে আরও বিশেষ করে তুলেছে অ্যাডিডাসের তৈরি এক্সক্লুসিভ বুট এল উলতিমো তাঙ্গো, যার অর্থ ‘দ্য লাস্ট ট্যাঙ্গো’ বা অনেকের ভাষায় ‘শেষ নাচ’।
ফুটবলপ্রেমীদের ধারণা, সম্ভবত শেষ বিশ্বকাপ খেলতে নামা মেসির দীর্ঘ বিশ্বকাপ যাত্রাকে সম্মান জানাতেই এই বিশেষ বুট তৈরি করা হয়েছে।
আর্জেন্টিনার রঙে আঁকা এক বিশেষ স্মারক অ্যাডিডাসের এফ ৫০ মেসি এলিট সিরিজের এই বুটটি প্রথম দেখাতেই নজর কাড়ে। আর্জেন্টিনার ঐতিহ্যবাহী আকাশি, সাদা ও রুপালি রঙের সমন্বয়ে তৈরি হয়েছে এর নকশা। বুটের গায়ে খোদাই করা রয়েছে তিনটি বিশ্বকাপজয়ী তারকা, মেসির ব্যক্তিগত লোগো এবং তার বিখ্যাত ১০ নম্বর জার্সির প্রতীক। পুরো ডিজাইনজুড়েই ফুটে উঠেছে আর্জেন্টিনা এবং মেসির ফুটবল পরিচয়ের ছাপ।
এই বিশেষ সংস্করণের বুটটির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ লুকিয়ে আছে এর অনন্য নকশায়। অ্যাডিডাস জানিয়েছে, ২০০৬ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত পাঁচটি বিশ্বকাপে লিওনেল মেসি যে বুটগুলো ব্যবহার করেছেন, সেগুলোর রং, টেক্সচার এবং ডিজাইনের অনুপ্রেরণাকে একত্র করে তৈরি করা হয়েছে নতুন এই সংস্করণ।
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য তৈরি এই বুটের মূল ডিজাইনের ভিত্তি রাখা হয়েছে ২০০৬ সালের জার্মানি বিশ্বকাপে মেসির অভিষেক ম্যাচে পরা সাদা-আকাশি রঙের বুটকে কেন্দ্র করে। সেই প্রথম বিশ্বকাপের স্মৃতির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ২০১০ সালের কালো বুটের বৈশিষ্ট্য, ২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপের নকশা, ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপের সংস্করণ এবং ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার সময় পরা সোনালি বুটের বিভিন্ন অনুষঙ্গ।
নতুন এই বুটের বিভিন্ন অংশে মেসির পাঁচটি বিশ্বকাপে ব্যবহৃত বুটের রঙের ক্ষুদ্র অংশ, সূক্ষ্ম টেক্সচার এবং সেলাইয়ের নকশা ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে এটি কেবল একটি নতুন ফুটবল বুট নয়, বরং তার দীর্ঘ বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারের স্মৃতিগুলোকে একত্রে ধারণ করা একটি জীবন্ত কোলাজে পরিণত হয়েছে।
শুধু ফুটবল বুট নয়, এক জীবন্ত টাইমলাইন
সাধারণত ফুটবল বুট তৈরি করা হয় মাঠে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে। তবে এল উলতিমো তাঙ্গো সেই প্রচলিত ধারণার বাইরে গিয়ে এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে। এটি শুধু একটি স্পোর্টস গিয়ার নয়; বরং মেসির টানা ২০ বছরের বিশ্বকাপ যাত্রার প্রতীক।
তার ক্যারিয়ারের স্বপ্ন, কঠিন সংগ্রাম, ব্যর্থতার মুহূর্ত, বিশ্বকাপ ফাইনালে হতাশা এবং শেষ পর্যন্ত বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব—সবকিছুর প্রতিফলন ফুটে উঠেছে এই একজোড়া বুটে। তাই এটি কেবল মাঠে ব্যবহারের সরঞ্জাম নয়, বরং একটি স্মারক হিসেবেও বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।
আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়
নান্দনিক ডিজাইনের পাশাপাশি প্রযুক্তিগত দিক থেকেও বুটটি অত্যন্ত উন্নত। এফ ৫০ মেসি এলিট মডেলে ব্যবহার করা হয়েছে অত্যন্ত হালকা ওজনের উপাদান এবং হাইব্রিডটাচ প্লাস প্রযুক্তি। এর ফলে খেলোয়াড়রা দ্রুতগতিতে দৌড়াতে, বলের ওপর নিখুঁত নিয়ন্ত্রণ রাখতে এবং দীর্ঘ সময় আরামদায়ক অনুভূতি বজায় রাখতে পারবেন।
মেসির খেলার ধরণকে বিবেচনায় রেখেই বুটটির ফিটিং, গ্রিপ এবং স্টাডের বিন্যাস তৈরি করা হয়েছে। ফলে দ্রুত দিক পরিবর্তন, ছোট জায়গায় ড্রিবলিং এবং বল নিয়ন্ত্রণে এটি বাড়তি সুবিধা দেয়। পুরো ডিজাইন এমনভাবে করা হয়েছে, যাতে মাঠে খেলতে গিয়ে তার স্বাভাবিক ছন্দে কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি না হয়।
কেন এত আলোচনায় এই বুট?
প্রতিটি বিশ্বকাপেই বিশ্বের শীর্ষ ফুটবলাররা নতুন বুট পরে মাঠে নামেন। কিন্তু মেসির এল উলতিমো তাঙ্গো অন্য সব বুট থেকে আলাদা। কারণ এটি শুধুমাত্র নতুন ডিজাইনের একটি ফুটবল বুট নয়; বরং তার পুরো ফুটবল জীবনের প্রতীক হিসেবে তৈরি করা হয়েছে।
২০০৬ সালে তরুণ প্রতিভা হিসেবে বিশ্বকাপে প্রথম পা রাখা, ২০১৪ সালের হৃদয়ভাঙা ফাইনাল, ২০১৮ সালের হতাশাজনক বিদায়, ২০২২ সালে বহু প্রতীক্ষিত বিশ্বকাপ জয় এবং ২০২৬ সালে সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ—এই দীর্ঘ যাত্রার প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের স্মৃতি যেন স্থান পেয়েছে এই একজোড়া বুটে।
ফুটবলপ্রেমীদের কাছে তাই এটি কেবল একটি দামি ফুটবল বুট নয়। এটি একজন কিংবদন্তি ফুটবলারের বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারের স্মারক। ২০২৬ বিশ্বকাপের মঞ্চে মেসি যখন এই বুট পরে মাঠে নামবেন, তখন তার পায়ে থাকবে শুধু একটি জুতা নয়; থাকবে দুই দশকের স্বপ্ন, সংগ্রাম, সাফল্য এবং ইতিহাস গড়ার অসংখ্য স্মৃতির প্রতিচ্ছবি।
সূত্র: ডাব্লিউ ডাব্লিউ ডি, ফাস্ট কোম্পানি ও অন্যান্য
পুরাতন সংবাদ পড়ুন
« জুলাই ২০২৬ »
সোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্রশনিরবি
  
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০৩১  

অনুসরণ করুন