বুধবার, ২৯শে জুলাই ২০২৬, দুপুর ২:১৮

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যেই চীনের ক্ষেপণাস্ত্র পাচ্ছে ইরান

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে কয়েক মাস ধরে চলা সংঘাতের পর নিজেদের স্বল্পপাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করতে চীনের তৈরি কাঁধে বহনযোগ্য আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র (ম্যানপ্যাডস) সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে ইরান—এমন দাবি করেছে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একাধিক সূত্র।
সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এসব ক্ষেপণাস্ত্রের প্রথম চালান তেহরানে পৌঁছাতে পারে। চুক্তির আওতায় ইরান ৩০০ থেকে ৪০০টি চীনা নির্মিত কিউডব্লিউ-১২ (QW-12) এবং এফএন-১৬ (FN-16) মডেলের ম্যানপ্যাডস কিনছে বলে দাবি করা হয়েছে। পুরো চুক্তির মূল্য প্রায় ৬০ থেকে ৭০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সংঘাতে ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলার পর দেশটির স্বল্পপাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতা সামনে আসে। এ কারণে প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে এই ক্রয়কে তেহরানের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
খবরে আরও বলা হয়েছে, হংকংভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ঝংছিং বাওশাং ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট মধ্যস্থতাকারী হিসেবে চুক্তি সম্পন্নে ভূমিকা রেখেছে। সূত্রগুলোর দাবি, প্রতিষ্ঠানটি ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে চীনা সরবরাহকারীদের যোগাযোগ স্থাপনে সহায়তা করেছে।
তবে এসব দাবি সরাসরি নাকচ করেছে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বেইজিং জানিয়েছে, ইরানে ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের খবর ‘সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন’ এবং চীন সবসময় শান্তি প্রতিষ্ঠা ও সংঘাত নিরসনের পক্ষে অবস্থান নেয়।
একই সঙ্গে পাকিস্তানের সামরিক জনসংযোগ বিভাগ (আইএসপিআর)ও এ বিষয়ে নিজেদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। এক বিবৃতিতে সংস্থাটি বলেছে, চীন থেকে ইরানে আকাশ প্রতিরক্ষা অস্ত্র পাঠাতে পাকিস্তান জড়িত—এমন দাবি ‘সম্পূর্ণ মনগড়া ও মিথ্যা’।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন এবং আকাশ প্রতিরক্ষা কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর ইরান তার সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনের প্রচেষ্টা জোরদার করেছে বলে সামরিক বিশ্লেষকদের অভিমত।
বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, ম্যানপ্যাডসের বড় সুবিধা হলো এগুলো সহজে বহনযোগ্য, অল্পসংখ্যক সদস্য দিয়েই পরিচালনা করা যায় এবং স্থায়ী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার তুলনায় সহজে শনাক্ত বা লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা কঠিন। কিউডব্লিউ-১২ ও এফএন-১৬ উভয়ই ইনফ্রারেড-নিয়ন্ত্রিত, কাঁধ থেকে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র, যা নিচু দিয়ে উড়ে যাওয়া যুদ্ধবিমান, হেলিকপ্টার ও ড্রোন ভূপাতিত করার জন্য তৈরি।
এদিকে অস্ত্র সরবরাহের সম্ভাব্য পথ নিয়েও বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে। নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, প্রাথমিকভাবে চীনের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর উরুমকি থেকে বিমানযোগে ক্ষেপণাস্ত্র পাঠানো হতে পারে। এরপর পাকিস্তানের ভেতর দিয়ে সেগুলো ইরানে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এই রুট সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
এ ছাড়া সরবরাহে বিঘ্ন এড়াতে চীনা সামরিক সরঞ্জাম ও দ্বৈত ব্যবহারযোগ্য উপকরণ ইরানে নেওয়ার জন্য স্থলপথ ব্যবহারের বিকল্পও বিবেচনা করছে তেহরান বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি।
পুরাতন সংবাদ পড়ুন
« আগস্ট ২০২৬ »
সোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্রশনিরবি
     
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১      

অনুসরণ করুন