ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি বলেছেন, যে দেশ একসময় নিজেকে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রধান প্রবক্তা হিসেবে তুলে ধরেছিল, তাদের সর্বশেষ অর্জন এখন বেসামরিক সেতু ও অবকাঠামো ধ্বংসের দৃশ্য প্রকাশ করা। যুক্তরাষ্ট্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর মতো আচরণ করছে। খবর ইরনার।
রোববার (১৯ জুলাই) সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বাঘায়ি দাবি করেন, গত ১৬ জুলাই চাবাহার বন্দরের নৌ-নিরাপত্তা ও নৌচলাচল তদারকির একটি বেসামরিক স্থাপনায় ইচ্ছাকৃতভাবে হামলা চালিয়ে ধ্বংস করে যুক্তরাষ্ট্র।
তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী গর্বের সঙ্গে ওই টাওয়ার ধ্বংসের ভিডিও প্রকাশ করেছেন। সুযোগ পেলে মিনাবের একটি স্কুলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং লামের্দে বেসামরিক মানুষ হত্যার দৃশ্যও একইভাবে প্রচার করা হতো।
বাঘায়ি আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ হামলায় জাস্কের বুনজি গ্রামের বিদ্যুৎ স্থাপনা এবং সমুদ্রের পানি বিশুদ্ধকরণ পাম্পকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই হামলার ফলে ১০ হাজারের বেশি মানুষ নিরাপদ পানির সরবরাহ থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
তিনি বলেন, যে দেশ একসময় নিজেকে আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলা, উদার মূল্যবোধ এবং সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ের নেতৃত্বদানকারী হিসেবে তুলে ধরত, সেই দেশের বর্তমান গর্বের বিষয় হয়ে উঠেছে বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংসের ছবি প্রকাশ করা।
বাঘায়ি আরও বলেন, প্রতিটি সেতু, টাওয়ার এবং বেসামরিক স্থাপনা ধ্বংসের অর্থ শুধু কংক্রিট ও ইস্পাতের ক্ষতি নয়। তার দাবি, এসব ধ্বংসযজ্ঞের মাধ্যমে বিশ্বের সামনে যুক্তরাষ্ট্রের নৈতিক অবস্থান, আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি তাদের প্রতিশ্রুতি এবং পশ্চিমা বিশ্বের সভ্যতার দাবিও প্রশ্নের মুখে পড়ছে।
তিনি প্রশ্ন করেন, চাবাহার, মিনাব, লামের্দ ও জাস্কে যুক্তরাষ্ট্রের চালানো হামলার সঙ্গে অতীতে বিভিন্ন দেশে যুদ্ধ ও সামরিক অভিযান পরিচালনার জন্য যে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডকে যুক্তরাষ্ট্র অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করেছে, সেসব ঘটনার প্রকৃত পার্থক্য কোথায়।


















