বৃহস্পতিবার, ৯ই জুলাই ২০২৬, রাত ১২:০০

সবার জন্য বিনামূল্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতের ঘোষণা সমাজকল্যাণমন্ত্রীর।

প্রাথমিক ও জরুরি স্বাস্থ্যসেবা সবার জন্য বিনামূল্যে থাকবে বলে জানিয়েছেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। একই সঙ্গে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে অ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসার পাশাপাশি হোমিওপ্যাথি, ইউনানি ও আয়ুর্বেদ চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নয়ন ও বিকাশে কাজ করার কথা জানিয়েছেন তিনি।
বুধবার (৮ জুলাই ) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে “সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশ গঠনে আয়ুর্বেদিক ও হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার ভূমিকা” শীর্ষক কর্মশালা ও চিকিৎসক সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে দেওয়া বক্তব্যে এ কথা জানান তিনি।
ইউনানী আয়ুর্বেদিক গ্রাজুয়েট ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (আগড্যাব) এর আয়োজন করে।
কর্মশালায় এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, ‘বাংলাদেশ শুধু অ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসকদের জন্য নয়; বিকল্প চিকিৎসা পদ্ধতির চিকিৎসকদেরও যথাযথ মূল্যায়ন ও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা নিশ্চিত করতে হবে।’
সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা পদ্ধতিকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াও এই খাতের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে সহযোগিতা করেছিলেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে সেই ধারাবাহিকতা অনেক ক্ষেত্রেই বজায় রাখা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে হোমিওপ্যাথি, ইউনানি ও আয়ুর্বেদিক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী দীর্ঘদিন ধরে বেতন-ভাতাসহ বিভিন্ন সমস্যার মুখোমুখি রয়েছেন। এসব সমস্যার সমাধান করা সরকারের দায়িত্ব। গণতান্ত্রিক সরকার জনগণের কাছে জবাবদিহি করে, তাই এসব বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘একটি শক্তিশালী ও কার্যকর স্বাস্থ্যব্যবস্থা শুধু চিকিৎসকদের ওপর নির্ভর করে গড়ে ওঠে না। এর জন্য নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, ফিজিওথেরাপিস্ট, অকুপেশনাল থেরাপিস্ট, স্পিচ থেরাপিস্ট, রেডিওথেরাপিস্টসহ বিভিন্ন পেশার দক্ষ জনবল প্রয়োজন। একই সঙ্গে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্যও প্রশিক্ষিত মানবসম্পদ তৈরি করতে হবে।’
সরকার সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে অঙ্গীকারবদ্ধ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকারের লক্ষ্য দেশের প্রতিটি মানুষের জন্য সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা। প্রাথমিক ও জরুরি স্বাস্থ্যসেবা বিনামূল্যে দেওয়া হবে। আর বিশেষায়িত চিকিৎসার ক্ষেত্রে যাদের ব্যয় বহনের সক্ষমতা রয়েছে তারা নিজেরা খরচ করবেন, আর যাদের সেই সামর্থ্য নেই তাদের চিকিৎসার ব্যয় রাষ্ট্র বহন করবে। চিকিৎসার অভাবে কোনো মানুষ যেন বঞ্চিত না হন, সেটিই সরকারের প্রতিশ্রুতি।’
মন্ত্রী বলেন, ‘এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই চলতি অর্থবছরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাকে সরকার রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হিসেবে বিবেচনা করছে।’
এ জেড এম জাহিদ বলেন, ‘কেউ কাজ করার পরও তার প্রাপ্য বেতন পাবেন না, এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ইসলামও বলে, শ্রমিকের ঘাম শুকানোর আগেই তার প্রাপ্য পরিশোধ করতে হবে। তাই যারা দায়িত্ব পালন করছেন, তাদের ন্যায্য পারিশ্রমিক নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। একই সঙ্গে হোমিওপ্যাথি ও আয়ুর্বেদ চিকিৎসাবিজ্ঞানে উচ্চশিক্ষা এবং গবেষণার সুযোগ আরও বাড়াতে হবে। গবেষণার মাধ্যমে এসব চিকিৎসা পদ্ধতির কার্যকারিতা ও গ্রহণযোগ্যতা আরও বৃদ্ধি করা সম্ভব। এতে মানুষের আস্থা যেমন বাড়বে, তেমনি স্বনিয়োজিত চিকিৎসকদের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগও সম্প্রসারিত হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘হামদর্দের মতো প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে মানুষের আস্থা অর্জন করেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে চিকিৎসা পদ্ধতির মানোন্নয়ন, শিক্ষা কার্যক্রমের উন্নয়ন এবং গবেষণাকে আরও শক্তিশালী করতে হবে।’
এ সময় সংশ্লিষ্টদের প্রতি প্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়ন এবং শিক্ষার মান বৃদ্ধিতে কার্যকর ও বাস্তবসম্মত প্রস্তাব নিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান বলেন, আরবান হেলথ কেয়ার সেন্টারগুলোতে হোমিওপ্যাথি ও আয়ুর্বেদ চিকিৎসাসেবা অন্তর্ভুক্ত করার দাবির বিষয়টি স্বাস্থ্য প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।
ব্রেকিংনিউজ/এসএইচ
পুরাতন সংবাদ পড়ুন
« অক্টোবর ২০২৬ »
সোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্রশনিরবি
   
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১ 

অনুসরণ করুন