স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সারদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, সরকারি হাসপাতালের সামনে নতুন কোনো বেসরকারি ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের অনুমোদন দেওয়া হবে না। পাশাপাশি, আগে অনুমোদন পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো যথাযথভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করতে ব্যর্থ হলে সেগুলোর অনুমোদনও বাতিল করে বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে।
মঙ্গলবার মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, আগের সরকারের সময়ে অনেকটা অনিয়ন্ত্রিতভাবে বিভিন্ন স্থানে ডায়াগনস্টিক সেন্টারের অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। দায়িত্ব নেওয়ার পর সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সরকারি হাসপাতালের সামনে নতুন কোনো ক্লিনিক অনুমোদন দেওয়া হবে না। এ বিষয়ে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। আগে অনুমোদন পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোও নিয়ম মেনে কার্যক্রম পরিচালনা না করলে সেগুলো বন্ধ করে দেওয়া হবে।
সাপের কামড়ে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ
উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালে পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম মজুত থাকার পরও সাপের কামড়ে রোগীর মৃত্যু কেন হচ্ছে, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, অনেক ক্ষেত্রেই রোগীকে হাসপাতালে পৌঁছাতে দেরি হয়।
তিনি বলেন, সাপের কামড়ের পর রোগীকে কিছু সময় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়, যাতে বোঝা যায় সাপটি বিষধর ছিল কি না। তবে অনেক সময় হাসপাতালে পৌঁছাতে দেরি হওয়ায় রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে। তাই সাপে কাটার সঙ্গে সঙ্গে কোনো ধরনের দেরি না করে রোগীকে হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
মন্ত্রী জানান, দেশের প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম মজুত রয়েছে।
১৫১ শয্যায় উন্নীত হবে গজারিয়া হাসপাতাল
স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আগামী মাস থেকে গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ শয্যা থেকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার কাজ শুরু হবে।
তিনি আরও জানান, আগামী দুই বছরের মধ্যে একই সময়ে ১০ জন রোগীর ডায়ালাইসিস দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি আধুনিক প্যাথলজি ল্যাব এবং নারী ও পুরুষের জন্য পৃথক ফিজিওথেরাপি সেন্টার চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পরিদর্শনের সময় স্থানীয় সাংবাদিকরা হাসপাতালটির ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ মন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন। এসব বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
এ সময় মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতন মন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন।















