শনিবার, ৩রা অক্টোবর ২০২৬, বিকাল ৩:৩৬

সোনার দাম নিয়ে নতুন পূর্বাভাস, বাড়বে নাকি কমবে?

বিশ্ববাজারে কমেই চলেছে সোনার দাম। মার্কিন ডলারের শক্তিবৃদ্ধি ও যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি বন্ডের চড়া সুদে চাপে চাপে পড়েছে সোনার বাজার। এর ফলে সপ্তাহ শেষে বড় পতনের মুখে পড়েছে সোনার দাম।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিশ্ববাজারে স্পট গোল্ডের দাম ০ দশমিক ৮ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৪৫ দশমিক ৬৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে, পুরো সপ্তাহে সোনার দাম কমেছে প্রায় ৩ দশমিক ৩ শতাংশ।

এদিন যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে গোল্ড ফিউচারের দামও ০ দশমিক ৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৭৩ দশমিক ৫০ ডলারে নেমেছে।

ডলার ও বন্ডের সুদে চাপ

মার্কিন ডলারের দর শুক্রবার সামান্য কমলেও সপ্তাহজুড়ে তা বাড়তির দিকেই ছিল। অন্যদিকে, ১০ ও ৩০ বছর মেয়াদি মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের সুদ গত বৃহস্পতিবার ২০০২ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে। বন্ডের সুদ বাড়লে সাধারণত সুদবিহীন সম্পদ সোনার আকর্ষণ কমে। কারণ, বিনিয়োগকারীরা তখন সুদ পাওয়া সম্পদের দিকে বেশি ঝুঁকতে পারেন।

শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের চাকরির বাজারের দুর্বল তথ্য প্রকাশের পর শুরুতে সোনার দাম এক শতাংশের বেশি বেড়েছিল। কিন্তু পরে সেই অবস্থান ধরে রাখতে পারেনি।

চাকরির বাজারে ধীরগতি

মার্কিন শ্রম বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে দেশটিতে নন-ফার্ম পেরোল বেড়েছে মাত্র ২৯ হাজার। আগস্টে এই সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৩৩ হাজার। এর আগে প্রকাশিত হিসাবেও আগস্টের চাকরি বৃদ্ধির সংখ্যা ১ লাখ ৬২ হাজার বলা হয়েছিল।রয়টার্সের জরিপে অর্থনীতিবিদেরা সেপ্টেম্বরে ৯০ হাজার নতুন চাকরি তৈরির পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। বাস্তবে সেই সংখ্যা হয়েছে অনেক কম।চাকরির বাজারে এই দুর্বলতা মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার নিয়ে বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশায় প্রভাব ফেলেছে।

ফেডের সুদের সিদ্ধান্তে নজর

বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এখনো ধারণা রয়েছে, চলতি মাসে ফেড সুদের হার অপরিবর্তিত রাখতে পারে।

সাম্প্রতিক অপেক্ষাকৃত দুর্বল মূল্যস্ফীতির তথ্য এবং অক্টোবরের আরেক দফা সুদ বাড়ানোর বিরোধিতা করা ফেডের অন্তত দুজন শীর্ষ নীতিনির্ধারকের অবস্থান এই প্রত্যাশাকে শক্তিশালী করেছে।

সিএমই ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসে যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা এখন প্রায় ২২ শতাংশ। সপ্তাহের শুরুতে এই সম্ভাবনা ছিল প্রায় ৭০ শতাংশ।

তবে বাজার বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, ফেডের নীতিতে কড়াকড়ির অবস্থান পুরোপুরি শেষ হয়েছে—এমনটা ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই।

বাইটের প্রধান বাজার বিশ্লেষক হান তান বলেন, ফেডের কঠোর অবস্থানের কারণে সোনার বিনিয়োগকারীরা এখনই অতিরিক্ত আশাবাদী হতে চাইছেন না।

আরও কমতে পারে সোনার দাম

ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে সোনার দাম ২০ শতাংশের বেশি কমেছে। বাজারে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, সংঘাতের কারণে মূল্যস্ফীতি বাড়তে পারে। এতে সুদের হার দীর্ঘ সময় ধরে তুলনামূলক বেশি থাকতে পারে।

সুদের হার বেশি থাকলে সাধারণত সুদবিহীন সোনার ওপর চাপ তৈরি হয়।

মারেক্সের বিশ্লেষক এডওয়ার্ড মেয়ার বলেন, সোনার দামের চার্ট এখনো দুর্বল অবস্থার ইঙ্গিত দিচ্ছে। সুদের হার আবার বাড়তে শুরু করলে সোনার দাম আরও কমতে পারে।

রুপা, প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দামও কমেছে

শুক্রবার সোনার পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও কমেছে।

এদিন স্পট রুপার দাম ১ দশমিক ১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬০ দশমিক ১৭ ডলারে নেমেছে।

প্লাটিনামের দাম কমেছে ১ দশমিক ৯ শতাংশ। প্রতি আউন্সের দাম দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৬৯২ ডলার।

প্যালাডিয়ামের দাম ০ দশমিক ৪ শতাংশ কমে হয়েছে ১ হাজার ১৬৬ দশমিক ২৫ ডলার।

সোনা, রুপা, প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়াম—চারটি ধাতুই সপ্তাহ শেষে দরপতনের পথে ছিল।

পুরাতন সংবাদ পড়ুন
« নভেম্বর ২০২৬ »
সোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্রশনিরবি
      ১
২৩৪৫৬৭৮
৯১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০      

অনুসরণ করুন