হরমুজ প্রণালিতে তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জেরে ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) মঙ্গলবার রাতে এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানায়।
সেন্টকমের ভাষ্য, আন্তর্জাতিক জলসীমায় নিরীহ নাবিকদের বহনকারী বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জবাবে এই হামলা চালানো হয়েছে। সংস্থাটি বলেছে, ইরানের আগ্রাসনের জন্য ‘কঠিন মূল্য’ দিতে বাধ্য করতেই এই হামলা চালানো হয়েছে। তাদের দাবি, ইরানের এমন হামলা যুদ্ধবিরতির স্পষ্ট লঙ্ঘন।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের হামলাকে গত মাসে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছেন ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, তেহরান ‘দৃঢ় ও সিদ্ধান্তমূলক’ পদক্ষেপ নেবে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটির কেশম দ্বীপ, বন্দর আব্বাস এবং সিরিক এলাকায় হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব হামলায় ছিটকে আসা ধ্বংসাবশেষে কয়েকজন আহত হয়েছেন। তবে সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।
এদিকে হামলার আগে মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় ইরানের জন্য দেওয়া তেল নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সাময়িক ছাড় প্রত্যাহার করে নেয়। ওই লাইসেন্সের আওতায় ইরান তেল ও বিভিন্ন পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য রপ্তানির অনুমতি পেয়েছিল। গত মাসে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের অংশ হিসেবেই এই সুবিধা দেওয়া হয়েছিল।
এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একে সমঝোতা স্মারকের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছে। মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রের এ পদক্ষেপ তাদের ‘অসৎ উদ্দেশ্য, অসামঞ্জস্যপূর্ণ আচরণ এবং অবিশ্বস্ততার’ প্রতিফলন। একই সঙ্গে জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও ঘোষণা দিয়েছে তেহরান।
অন্যদিকে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলার ঘটনায় কাতার ও সৌদি আরবও নিন্দা জানিয়েছে। দুই দেশই দাবি করেছে, তাদের একটি করে তেলবাহী জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে এবং এ ঘটনার জন্য তারা ইরানকে দায়ী করছে।
কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি বলেছেন, ‘আল-রেকাইয়াত’ নামের একটি জাহাজে হামলার জন্য ইরান সম্পূর্ণভাবে দায়ী। তিনি আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিঘ্নিত করে এমন কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার জন্য তেহরানের প্রতি আহ্বান জানান।
একই ধরনের অভিযোগ করেছে সৌদি আরবও। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ‘ওয়াদিয়ান’ নামের একটি সৌদি তেলবাহী জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার সময় হামলার মুখে পড়ে। তাদের মতে, এ ধরনের হামলা আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য হুমকিস্বরূপ।
তবে কাতারের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই। তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে প্রয়োজনীয় সমন্বয় না করে অথবা জাহাজের ট্র্যাকিং ব্যবস্থা পরিবর্তন করে চলাচল করলে সংঘর্ষের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এতে নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করার প্রচেষ্টাও ব্যাহত হয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে যুক্তরাজ্যের ইউকে মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, সোমবার একটি তেলবাহী জাহাজের ইঞ্জিন কক্ষে অজ্ঞাত একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার পর সেখানে আগুন ধরে যায়। পরদিন মঙ্গলবার পৃথক আরও দুটি ঘটনায় দুটি জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সেগুলো শেষ পর্যন্ত নিজেদের নির্ধারিত গন্তব্যের উদ্দেশে যাত্রা অব্যাহত রাখতে সক্ষম হয়েছে।
সূত্র: বিবিসি
















