মঙ্গলবার, ৩০শে জুন ২০২৬, রাত ১০:০৬

হাঙ্গেরির কাজের ভিসা নিয়ে নতুন ঘোষণা

অভিবাসন ও বিদেশি শ্রমিক ইস্যুতে কঠোর অবস্থান নিতে যাচ্ছে হাঙ্গেরির নবনির্বাচিত সরকার। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাইরের দেশগুলো থেকে আসা কর্মীদের জন্য নতুন কর্মভিসা প্রদান বন্ধ করার পরিকল্পনা করছে দেশটির বর্তমান ক্ষমতাসীন দল ‘তিসজা পার্টি’। সরকারের এমন সিদ্ধান্তে দেশটির ব্যবসায়ী সংগঠন ও শিল্প উদ্যোক্তাদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।

চলতি বছরের ১২ এপ্রিল হাঙ্গেরিতে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে দীর্ঘ ১৬ বছরের ভিক্টর অরবান শাসনের অবসান ঘটে। নির্বাচনে পিটার মাজারের নেতৃত্বাধীন তিসজা পার্টি নিরঙ্কুশ জয়লাভ করে। নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী, দলটি আগামী মাস থেকেই অ-ইউরোপীয় কর্মীদের ভিসা বন্ধের প্রক্রিয়া শুরু করতে যাচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, হাঙ্গেরিয়ানদের কর্মসংস্থান সুরক্ষা এবং মজুরি কাঠামো স্থিতিশীল রাখতেই এই কঠোর পদক্ষেপ।

হাঙ্গেরির উৎপাদন ও সেবা খাত বর্তমানে ব্যাপকভাবে বিদেশি কর্মীদের ওপর নির্ভরশীল। আমেরিকান চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি আকস ইয়াঞ্জা জানিয়েছেন, কিছু কিছু শিল্পপ্রতিষ্ঠানে বিদেশি কর্মীর হার ২০ শতাংশ পর্যন্ত। তিনি সতর্ক করে বলেন,

“আমাদের একটি সদস্য প্রতিষ্ঠানকে বিদেশি শ্রমিক সংকটের কারণে তাদের একটি পূর্ণ প্রোডাকশন শিফট বন্ধ করে দিতে হতে পারে।”

একইভাবে হাঙ্গেরিতে থাকা জার্মান ব্যবসায়ী চেম্বারের প্রধান রবার্ট কেসটে মনে করেন, ইইউ-এর বাইরের কর্মী ছাড়া বর্তমানে হাঙ্গেরির অর্থনীতির চাকা সচল রাখা অসম্ভব। হঠাৎ এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে শ্রম-সংকটে থাকা দেশটির উৎপাদনব্যবস্থা বড় ধরনের চাপের মুখে পড়বে।

আন্তর্জাতিক মানবসম্পদ প্রতিষ্ঠান র‌্যান্ডস্টাডের আঞ্চলিক প্রধান স্যান্ডর বাজা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, এই সিদ্ধান্ত দীর্ঘমেয়াদে বাস্তবসম্মত নয়। তার মতে:

  • আগামী ১০ বছরে হাঙ্গেরির বিপুল সংখ্যক দক্ষ কর্মী অবসরে যাবেন।

  • দেশটিতে বর্তমানে প্রায় ৪ লাখ দেশীয় সম্ভাব্য কর্মী থাকলেও ভৌগোলিক ও যাতায়াত সীমাবদ্ধতার কারণে তাদের দিয়ে তাৎক্ষণিক ঘাটতি পূরণ সম্ভব নয়।

  • অ-ইউরোপীয় কর্মী নিয়োগের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা থাকলে শ্রমবাজার বড় ধরনের শূন্যতায় পড়বে।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, হাঙ্গেরির মোট শ্রমশক্তির মাত্র ২ শতাংশ বর্তমানে বিদেশি কর্মী। তবে জার্মানি বা পোল্যান্ডের মতো প্রতিবেশী দেশগুলো বিপুল সংখ্যক ইউক্রেনীয় শরণার্থীকে কাজে লাগাতে পারলেও হাঙ্গেরি সেই সুযোগ পায়নি। ফলে দেশটিতে আগে থেকেই শ্রম-ঘাটতি বিদ্যমান ছিল।

বিশ্লেষকদের মতে, নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী পিটার মাজার এবং অর্থমন্ত্রী ইস্তভান কাপিতানি যদি অর্থনৈতিক বাস্তবতার চেয়ে রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতিকে বেশি গুরুত্ব দেন, তবে হাঙ্গেরির শিল্প উৎপাদন বিশেষ করে অটোমোবাইল ও ইলেকট্রনিক্স খাত বড় ধরনের বিপর্যয়ের সম্মুখীন হতে পারে।

পুরাতন সংবাদ পড়ুন
« ডিসেম্বর ২০২৫ »
সোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্রশনিরবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১    

অনুসরণ করুন