বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে পটপরিবর্তনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় ৭ নভেম্বর, ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি’ দিবস। ১৯৭৫ সালের এই দিনে সংঘটিত সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থান, দেশের তৎকালীন রাজনৈতিক অস্থিরতা, সামরিক বাহিনীর অভ্যন্তরীণ সংকট এবং জাতীয় নেতৃত্বের অনিশ্চয়তার মধ্যে নতুন ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সূচনা করে।
সিপাহি-জনতার ঐক্যের মধ্য দিয়ে রক্ষা পায় দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরে শুরু হয় বহুদলীয় গণতন্ত্রের যাত্রা।স্বাধীন বাংলাদেশের একটি নতুন ভোর, নতুন সূর্যোদয়। রাজনীতির মাঠে নবীনের অভিযাত্রা। স্বাধীনতার দাবিতে যার কণ্ঠ বিদ্রোহ করেছিল শত্রুর রক্তচক্ষুর বিরুদ্ধে, তিনি রণাঙ্গনের অকুতোভয় সৈনিক মেজর জিয়াউর রহমান।
একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ, পাক হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পণ, স্বাধীন পতাকার অধিকার আর লাল-সবুজের মানচিত্র—নতুন স্বপ্নের বাংলাদেশ। মাত্র চার বছরের মধ্যে পাল্টে যায় দৃশ্যপট, ভেঙে পড়ে রাষ্ট্রকাঠামো। চুয়াত্তরের দুর্ভিক্ষ আর ক্ষমতাসীনদের কর্তৃত্ববাদী আচরণে অনিশ্চিত গন্তব্যে বাংলাদেশ।স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষায় জাতির ক্রান্তিলগ্নে যার কণ্ঠ উদ্ভাসিত হয়েছিল রেডিও বার্তায়, সেই মানুষটি আবারও দিকভ্রান্ত মানুষের মুক্তির পথদর্শক হয়ে দৃশ্যপটের কেন্দ্রে। পঁচাত্তরের ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতার বিপ্লবে উদিত হয় এক নতুন সূর্যের।
রেডিও বার্তায় স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে আলোচনায় আসা মেজর জিয়া বিপ্লবের মাধ্যমে উঠে আসেন রাষ্ট্রক্ষমতার শীর্ষে। তবে পথটা সহজ ছিল না সৈনিক থেকে রাষ্ট্রক্ষমতায় আসা জিয়াউর রহমানের।১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট-পরবর্তী ক্ষমতার পালাবদলে শেখ মুজিবুর রহমানের মন্ত্রিসভার ২৩ জনের মধ্যে ২১ জনকে সঙ্গে নিয়ে নিজেকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করে ক্ষমতা দখলে নেন খন্দকার মোশতাক আহমেদ। পেছন থেকে তাকে সহযোগিতা করেন শেখ মুজিবের হত্যাকারীরা।
কিছুদিন না যেতেই ৩ নভেম্বর অনুগত সেনাসদস্যদের নিয়ে বিদ্রোহ করেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল খালেদ মোশাররফ। নিজেকে আত্মস্বীকৃত সেনাপ্রধান দাবি করে ক্ষমতা দখল করে গৃহবন্দি করেন জিয়াউর রহমানকে। রক্তপাতহীন অভ্যুত্থান সফলতা পায় ক্ষণিকের জন্য। স্থায়িত্ব পায় মাত্র তিন দিন। রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, অস্থিরতা, অভ্যুত্থান-পাল্টা অভ্যুত্থানে পাল্টে যায় পুরো দৃশ্যপট।
প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের সুযোগে সাধারণ সিপাহিদের অসন্তোষকে কাজে লাগিয়ে জাসদপন্থিদের নিয়ে বিপ্লবী সৈনিক সংস্থা গঠন করেন জাসদের সশস্ত্র শাখার প্রধান কর্নেল আবু তাহের। চার দিনের মাথায় পঁচাত্তরের ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতার পাল্টা অভ্যুত্থানে মুক্ত হন জিয়াউর রহমান। রাজপথে নেমে আসে উচ্ছ্বসিত জনতা। রাজধানী ঢাকা পরিণত হয় মিছিলের নগরীতে।৭ নভেম্বরের বিপ্লবে কেটে যায় রাজনৈতিক শূন্যতা। জাতি পায় বিদেশি শক্তিমুক্ত নতুন বাংলাদেশ, রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্বে আসেন জিয়াউর রহমান।



















