শনিবার, ১লা আগস্ট ২০২৬, রাত ২:১০

ওয়াশিংটনে নেতানিয়াহুর হোটেলের সামনে ফিলিস্তিনপন্থীদের বিক্ষোভ

যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে সফররত ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর অবস্থান করা হোটেলের সামনে ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভকারীরা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন। একপর্যায়ে কয়েকজন বিক্ষোভকারী হোটেলের লবিতে ঢুকে পড়ার চেষ্টা করলে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
গত সোমবার (২৭ জুলাই) জর্জটাউনের ফোর সিজনস হোটেলে এ ঘটনা ঘটে। ওই সময় নেতানিয়াহু হোটেলের একটি রেস্তোরাঁয় রাতের খাবার খাচ্ছিলেন। কয়েকজন বিক্ষোভকারী লবিতে প্রবেশ করে তিনি যেখানে অবস্থান করছিলেন সেখানে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
তাৎক্ষণিকভাবে নিরাপত্তারক্ষী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষোভকারীদের হোটেল থেকে বের করে দেন। বের করে দেওয়ার সময় তারা ‘বিবি, বিবি, তুমি লুকাতে পারো না। তুমি জাতিগত নিধন চালাচ্ছ’ স্লোগান দেন।
নেতানিয়াহুর ওয়াশিংটন সফরকে ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যেই এ ঘটনা ঘটে। সফরকালে তিনি প্রয়াত মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের শেষকৃত্যে অংশ নেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেন। পাশাপাশি তার জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গেও বৈঠকের সূচি রয়েছে।
হোটেলের ঘটনার পর ওয়াশিংটনের বিভিন্ন সড়কে বিক্ষোভ আরও ব্যাপক আকার ধারণ করে। শত শত বিক্ষোভকারী ফিলিস্তিনের পতাকা হাতে নিয়ে হোয়াইট হাউসসহ বিভিন্ন সরকারি ভবনের দিকে মিছিল করেন। এ সময় তারা ড্রাম ও বালতি বাজিয়ে প্রতিবাদ জানান এবং বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দেন।
বিক্ষোভকারীদের বহন করা ব্যানার ও প্ল্যাকার্ডে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা অনুযায়ী বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনের বিরুদ্ধেও তারা তীব্র প্রতিবাদ জানান।
এক বিক্ষোভকারী বলেন, বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু একজন যুদ্ধাপরাধী এবং তার জায়গা আইসিসির কারাগারে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, মার্কিন করদাতাদের অর্থ ব্যবহার করে এমন একজন নেতাকে সুরক্ষা দেওয়া উচিত নয়।
অন্য এক বিক্ষোভকারী মার্কিন সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আইসিসির গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করে নেতানিয়াহুকে আদালতের কাছে হস্তান্তর করা প্রয়োজন। তার মতে, ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত জাতিগত নিধনের অভিযোগে তাকে বিচারের মুখোমুখি করা উচিত।
বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘিরে পুরো এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি মার্কিন সিক্রেট সার্ভিসের বিপুলসংখ্যক সদস্যও সেখানে মোতায়েন ছিলেন।
এ সময় বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন ব্যানার ও স্লোগানের মাধ্যমে তাদের অবস্থান তুলে ধরেন। তাদের প্রদর্শিত ব্যানারে ‘মার্কিন-ইসরায়েলি যুদ্ধযন্ত্র বন্ধ করো’ এবং ‘ওয়াশিংটনের ওপর ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণ ফাঁস করো’—এ ধরনের বার্তা লেখা ছিল।
পুরাতন সংবাদ পড়ুন
« জুলাই ২০২৬ »
সোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্রশনিরবি
  
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০৩১  

অনুসরণ করুন