জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) জুলাইয়ের প্রথম প্রহরে সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও মোমবাতি প্রজ্বলন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। গতকাল বুধবার (১ জুলাই) রাত ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘অদম্য-২৪’ স্মৃতিস্তম্ভে জাতীয় ছাত্রশক্তি জাবি শাখার উদ্যোগে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। কর্মসূচির শুরুতে শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, “জুলাই মানেই ঐক্য। অনৈক্য, বিভ্রান্তি ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে এটি একটি নতুন জাতীয় চেতনার নাম। ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০-এর গণআন্দোলন ও ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান আমাদের জাতিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার শিক্ষা দেয়।” তিনি সবাইকে বিভাজন ও ষড়যন্ত্রের ঊর্ধ্বে উঠে দেশপ্রেম, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান। দেশের ভূরাজনৈতিক গুরুত্বের কথা উল্লেখ করে তিনি একটি ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতির ওপরও জোর দেন।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জাকসু) ভিপি আব্দুর রশিদ জিতু শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, জুলাই আন্দোলন সব রাজনৈতিক মতপার্থক্যের ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে এক কাতারে দাঁড় করিয়েছিল। তবে আন্দোলনের পর ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক বিভাজনের কারণে জুলাইয়ের প্রত্যাশা পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। তিনি জুলাইয়ের চেতনা ধারণ করে জাতীয় ঐক্য বজায় রাখার এবং জুলাইজুড়ে কর্মসূচির পূর্ণাঙ্গ রোডম্যাপ দ্রুত ঘোষণা করার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।
জাবি ছাত্রশক্তির সভাপতি জিয়া উদ্দিন আয়ান আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘোষিত ১৫ জুলাই ‘কালোরাত্রি’কে একাডেমিক ক্যালেন্ডারে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান। একই সাথে সাভার-আশুলিয়া অঞ্চলের জুলাই শহীদদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জুলাই হামলায় জড়িতদের বিচার প্রক্রিয়া এখনও সন্তোষজনক নয়, দ্রুত পুনর্তদন্ত করে দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. শামছুল আলম, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহম্মদ নজরুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. আব্দুর রব, বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মী এবং সাধারণ শিক্ষার্থীরা।















