বৃহস্পতিবার, ২৭শে আগস্ট ২০২৬, রাত ৪:৩৩

পাহাড়সম চ্যালেঞ্জ পেরিয়ে আর্জেন্টিনার রূপকথার জয়

একেবারে খাদের কিনারায় ছিল আর্জেন্টিনা। লিওনেল মেসির বিশ্বকাপ যাত্রা প্রায় শেষ হতে বসেছিল। তবে শেষ রক্ষা হয়েছে। মেসির পেনাল্টি মিসের পর মিশর ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। ম্যাচের দ্বিতীয় অর্ধের ৩৪ মিনিট পর্যন্ত তারাই জয়ী হওয়ার দৌড়ে ছিল। তবে মেসি তার শেষ বিশ্বকাপ ‘ট্যাঙ্গো’ এত দ্রুত শেষ করতে চাননি। শেষ দিকে একটি গোল ও একটি অ্যাসিস্ট করে তিনি দলকে এক ঐতিহাসিক জয় এনে দেন। ইনজুরি টাইমে এনজো ফার্নান্দেজ জয়সূচক গোলটি করে ব্যবধান ৩-২ করেন এবং বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেন। সেখানে তারা সুইজারল্যান্ডের মুখোমুখি হবে। এটি এতটাই আবেগঘন এক প্রত্যাবর্তন ছিল যে, ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার পর আর্জেন্টিনার এই মহাতারকার

বিশ্বকাপ স্বপ্ন অধরাই রইল রোনালদোর, যেমন ছিল মেসির সঙ্গে দ্বৈরথ

অশ্রুসিক্ত বিদায়ে শেষ হলো ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর বিশ্বকাপ অধ্যায়। ছোঁয়া হলো না তার স্বপ্নের ট্রফি। পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে লিওনেল মেসির সঙ্গে তুলনা নিয়ে করা প্রশ্ন এড়িয়ে গেছেন রোনালদো। তবে তার বিশ্বকাপ অধ্যায়ের শেষ প্রান্তে এসে দুজনের পথচলার পার্থক্যটি এড়িয়ে যাওয়া কঠিন। যদিও কিছু রেকর্ড জ্বলজ্বল করবে রোনালদোর নামের পাশে। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে ম্যাচের ভাগ্য বদলেছেন তিনি, কঠিন মুহূর্তে দলকে টেনে তুলেছেন। রিয়াল মাদ্রিদ, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও জুভেন্তাসে ক্যারিয়ারের সেরা সময় পেরিয়েও বিশ্বের সেরাদের কাতারে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছেন রোনালদো। তবে যে ট্রফিটি সারাজীবন তার নাগালের বাইরে ছিল, সেটি আর জেতা হলো না। বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে

পর্তুগালের বিদায়ের পর কোচ মার্টিনেজের পদত্যাগের ঘোষণা

প্রথমার্ধ ছিল রোমাঞ্চকর, যেখানে আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে লড়াই জমিয়ে তোলে স্পেন-পর্তুগাল উভয়েই। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে স্প্যানিশদের একের পর এক আক্রমণ সামলাতেই ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর দল দিশেহারা ছিল। শেষ পর্যন্ত মিকেল মেরিনোর একমাত্র গোলে তাদের বিদায় নিশ্চিত করে স্পেন। নিজের শেষ বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলে রোনালদো অশ্রুসিক্ত হয়ে ফেরার পর পর্তুগালের কোচ রবার্তো মার্টিনেজও পদত্যাগের ঘোষণা দিলেন। সাবেক স্প্যানিশ ফুটবলার ও পর্তুগালের এই কোচ জানান, সোমবারই তার চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়েছে এবং এখন পর্তুগিজ ফুটবল কর্তৃপক্ষের নতুন কোচ বেছে নেওয়ার সময় এসেছে। ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে মার্টিনেজ বলেন, ‘আমি পর্তুগালে এসেছিলাম বিশ্বকাপ জেতার লক্ষ্য নিয়ে। বিশ্বকাপ জিততে না পারলে দায়িত্বে থেকে যাওয়ার কোনো অর্থ নেই

মেক্সিকোয় নীরবতা নামিয়ে কোয়ার্টারে ১০ জনের ইংল্যান্ড

প্রতিকূল আবহাওয়ার দাপটে এক ঘণ্টা দেরিতে শুরু হওয়া ম্যাচের প্রথম থেকেই ছিল মেক্সিকানদের আক্রমণের পসরা। পাল্টা আক্রমণ থেকে গোল পাওয়া ইংল্যান্ড প্রথমার্ধেই ২-১ ব্যবধানে লিড নেয়। নাটকীয় দ্বিতীয়ার্ধে ইংলিশরা আরেক গোল করলেও পরিণত হয় ১০ জনের দলে। সেই সুবিধা পুরোপুরি নিতে পারল না মেক্সিকো। আরেক গোল শোধ করেও তাদের বিদায় নিশ্চিত হলো ৩-২ ব্যবধানে হেরে। এই ম্যাচ দিয়ে চলতি বিশ্বকাপে সহ-আয়োজক মেক্সিকোর অধ্যায় শেষ হলো। এর আগে শেষ ষোলোর ম্যাচটি খেলতে দেশটিতে পা রাখার পরই ইংলিশ ফুটবলাররা বিরূপ পরিস্থিতির মুখে পড়ে। স্বাগতিক ভক্তরা তাদেরকে দুয়ো দিয়ে অভ্যর্থনা, যাত্রাপথে তাদের সঙ্গে অনেকদূর যাওয়া এবং পরিকল্পনা ছিল টিম হোটেলের বাইরে তাদের কান

রোমাঞ্চকর প্রথমার্ধে মেক্সিকোর বিপক্ষে ২-১ গোলে এগিয়ে ইংল্যান্ড

মেক্সিকোর ঐতিহাসিক আজতেকা স্টেডিয়ামের পুরো আবহটাই স্বাগতিকদের পক্ষে। যাতে বলিয়ান হয়ে শুরু থেকেই মেক্সিকো একের পর এক আক্রমণে ইংল্যান্ডের রক্ষণকে ব্যস্ত রাখে। যদিও ৩৫ মিনিট পর্যন্ত স্কোরলাইন ছিল গোলশূন্য সমতায়। পরবর্তী ৭ মিনিটের ব্যবধানে হলো ৩ গোল এবং বিরতির আগে মেক্সিকোর বিপক্ষে ২-১ গোলের লিড নিলো ইংলিশরা। এই ম্যাচের আগে মেক্সিকো সিটিতে দিনভর ভারী বৃষ্টি হয়েছে। ম্যাচের ভেন্যু আজতেকা স্টেডিয়ামের আকাশে বজ্রপাতও দেখা যায়। ফলে আজ (সোমবার) ভোর ৬টায় ইংল্যান্ড-মেক্সিকো ম্যাচ শুরুর কথা থাকলেও বল মাঠে গড়ায় এক ঘণ্টা দেরিতে। শুরু থেকেই মরিয়া ছিল স্বাগতিক মেক্সিকো। ফলে ইংলিশদের সাফল্য এসেছে প্রতি-আক্রমণ থেকে। এক মিনিটের ব্যবধানেই জুড বেলিংহ্যাম জোড়া গোলে ইংল্যান্ডকে

উল্লসিত নরওয়েজিয়ানরা, ব্রাজিলিয়ানরা ক্ষুব্ধ-বিমর্ষ

নিউজার্সি স্টেডিয়াম যেন অন্য ১০টি দিনের মতো নয়। স্তব্ধ ও ভারী পরিবেশ। ব্রাজিলিয়ানরা মুখ গোমরা করে নামছেন স্কেলেটর দিয়ে। একজন আরেকজনকে সান্ত্বনা দিচ্ছেন। আবার অনেকে একেবারে মুষড়ে পড়েছেন। প্রতিক্রিয়াও জানাতে পারছেন না। ২০ বছর বয়সী সমর্থক এন্ড্রু অত্যন্ত ক্ষুব্ধ। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে এত সুযোগ মিস করার বিষয়টি মানতেই পারছেন না তিনি, ‘ব্রাজিল অনেক সুযোগ পেয়েছে, নরওয়ের চেয়েও বেশি। এরপরও প্রয়োজনের সময় গোল করতে পারেনি।’ পাশাপাশি ডিফেন্সের সমালোচনা করে বলেন, ‘হালান্ড অত্যন্ত বিপজ্জনক খেলোয়াড়। সে দুটি সুযোগ পেয়েছে, দুটোই গোল।’ ম্যাচে লিড নেওয়ার সুযোগ ব্রাজিলই আগে পেয়েছিল। ব্রুনো গুইমারেস পেনাল্টি মিস করায় খেলার নিয়ন্ত্রণ চলে যায় তাদের হাত থেকে। ব্রুনোর সেই মিসকে

‘পর্তুগাল শক্তিশালী, স্পেনও কম নয়’

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর লড়াইয়ে পর্তুগালের মুখোমুখি হওয়ার আগে আত্মবিশ্বাসী স্পেনের ডিফেন্ডার পেড্রো পোরো। তার বিশ্বাস, পর্তুগাল যতই শক্তিশালী হোক না কেন, স্পেন সমানতালে লড়াই করার সামর্থ্য রাখে। ডালাসে রেডিও মার্কাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পোরো বলেন, তিনি নিজের সেরা ছন্দে আছেন। বিশেষ করে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে করা গোলটিকে নিজের ক্যারিয়ারের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘পরিস্থিতি, ম্যাচের গুরুত্ব এবং ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেওয়া গোল-সব মিলিয়ে এটিই সম্ভবত আমার সেরা ম্যাচ। মুহূর্তটি আমার জন্য খুবই বিশেষ ছিল।’ গোলটি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমার মনে শেষ ষোলোর প্রতিপক্ষ পর্তুগালের দলে রয়েছেন, নুনো মেন্সেস ও রোনালদোর মতো তারকা ফুটবলার। তবে এতে মোটেও ভীত

ভেনেজুয়েলার পাশে দাঁড়িয়ে আবেগঘন বার্তা মেসির

সাম্প্রতিক সময়ে ভেনেজুয়েলার ভয়াবহ ভূমিকম্প নাড়িয়ে দিয়েছে বিশ্বকে। গত ২৪ জুন কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে সাতের বেশি মাত্রার ভূমিকম্প হয়। নিহত প্রায় আড়াই হাজারের কাছাকাছি, আহত ১১ হাজার। প্রায় দুই সপ্তাহ পর হলেও আর্জেন্টিনা অধিনায়ক লিওনেল মেসি ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত দেশটির প্রতি সমবেদনা জানালেন। দিয়েছেন আবেগঘন বার্তা। চলমান ফুটবল বিশ্বকাপে কেপ ভার্দের বিপক্ষে একটি শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচ খেলে আর্জেন্টিনা। তারপর আর্জেন্টিনার অধিনায়ক মেসি ভেনিজুয়েলার জনগণের উদ্দেশ্যে আবেগঘন বার্তা পাঠান। আগের দিন পর্তুগালের তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোও এনিয়ে প্রতিক্রিয়া জানান। ভূমিকম্পে পা হারানো আন্দ্রেস মিলেস  নামের এক খুদে ভেনেজুয়েলা ভক্তের স্বপ্ন পূরণ করেছেন তিনি। মেসি বলেছেন, ‘আমি ভেনেজুয়েলার সব মানুষকে একটি বড় বার্তা পাঠাতে চাই।

মেসিকে ছুঁলেন এমবাপে, আবার পিছিয়েও থাকলেন

কিলিয়ান এমবাপে বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারের ১৬টি ও লিওনেল মেসি ১৩টি গোল নিয়ে এই টুর্নামেন্ট শুরু করেছিলেন। দুই তারকার লড়াই চলছে মিউজিক্যাল চেয়ারের মতো করে। ফ্রান্স ও আর্জেন্টিনার জয়যাত্রা চলছে। সঙ্গে চলছে এমবাপে-মেসির শীর্ষ গোলদাতা হওয়ার লড়াইও। গতবারের মতো এই আসরেও গোল্ডেন বুটের দৌড়ে আছেন মেসি-এমবাপে। গতকাল কেপ ভার্দের বিপক্ষে শেষ ৩২ এর ম্যাচে আর্জেন্টিনার ৩-২ গোলের কষ্টার্জিত জয়ে মেসি প্রথম গোলটি করেন। সপ্তম গোল করে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে এমবাপেকে পেছনে ফেলেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক। তবে রাতেই প্যারাগুয়ের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে একমাত্র গোল করেন এমবাপে। সপ্তম গোল করে তিনি ফের মেসির পাশে বসেন। আগামী ৭ জুলাই আটলান্টা স্টেডিয়ামে মিসরের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা।

কেপ ভার্দের খেলোয়াড়দের আবদার মেটালেন মেসি

মায়ামিতে কেপ ভার্দের বিপক্ষে ৩-২ গোলের কষ্টসাধ্য জয় পেয়েছে আর্জেন্টিনা। বিদায়ের আগে তাদের কাঁপিয়ে দিয়েছে আফ্রিকান দেশটি। লিওনেল মেসির গোলে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। দুইবার পিছিয়ে পড়েও ম্যাচ বের করে নিতে বসেছিল কেপ ভার্দে। তবে হেরে যায় সেট পিসের গোলে। ম্যাচ শেষে মেসি স্বীকার করেন ভোগান্তির কথা। ১২০ মিনিট ধরে কেপ ভার্দের কাছে কতটা ভুগতে হয়েছে, সেটাও বিশ্লেষণ করে জানিয়েছেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক। এভাবে বিদায় নিলেও গর্বিত কেপ ভার্দে। আর্জেন্টিনার কাছে হারের পর কেপ ভার্দের খেলোয়াড় ও কর্মকর্তারা মাঠের পাশে অপেক্ষা করছিলেন এবং মেসি তার ম্যাচ-পরবর্তী সাক্ষাৎকার শেষ না করা পর্যন্ত ড্রেসিংরুমে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এরপর তারা আর্জেন্টাইন অধিনায়কের সঙ্গে ছবি

অনুসরণ করুন