শনিবার, ১লা আগস্ট ২০২৬, রাত ১০:৫৬

অতিরিক্ত প্রোটিন কি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর?

প্রোটিন মানবদেহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পুষ্টি উপাদান এবং সুষম খাদ্যতালিকার অপরিহার্য অংশ। বিশেষ করে যারা শরীরচর্চা বা ফিটনেস নিয়ে সচেতন, তারা প্রতিদিনের প্রোটিনের চাহিদা পূরণে উচ্চ প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার দিকে বেশি গুরুত্ব দেন। তবে প্রয়োজন অনুযায়ী উচ্চ প্রোটিন গ্রহণ এবং শরীরের চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত প্রোটিন গ্রহণ—এই দুটি বিষয়ের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। উচ্চ প্রোটিনযুক্ত খাবার শরীরের জন্য উপকারী হলেও প্রয়োজনের অতিরিক্ত প্রোটিন গ্রহণ করলে তা উপকারের পরিবর্তে বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
প্রোটিন দেহের পেশি গঠন ও ক্ষয়প্রাপ্ত টিস্যু মেরামতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পাশাপাশি এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করতে, বিভিন্ন হরমোন উৎপাদনে সহায়তা করতে এবং শরীরের সামগ্রিক সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে অপরিহার্য। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরের প্রয়োজনের চেয়ে অতিরিক্ত পরিমাণে প্রোটিন গ্রহণ করলে তা দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই প্রোটিন গ্রহণের ক্ষেত্রে ভারসাম্য বজায় রাখা এবং ব্যক্তির বয়স, শারীরিক অবস্থা ও প্রয়োজন অনুযায়ী খাদ্যাভ্যাস নির্ধারণ করাই সবচেয়ে উপযুক্ত।
কিডনির স্বাস্থ্য
অতিরিক্ত প্রোটিন গ্রহণের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি প্রধান স্বাস্থ্য ঝুঁকি হলো কিডনির স্বাস্থ্য। সাধারণত অতিরিক্ত প্রোটিন গ্রহণে কোনো ঝুঁকি না থাকলেও, এর ফলে কিডনিকে সমস্ত উপজাত ছেঁকে ফেলার জন্য অতিরিক্ত কাজ করতে হয়। যাদের আগে থেকেই কিডনি রোগ বা দুর্বল কিডনি রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে এটি রোগের প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।
যকৃতের স্বাস্থ্য
অতিরিক্ত প্রোটিন গ্রহণ যকৃতের স্বাস্থ্যের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। যদি কোনো ব্যক্তির যকৃতের রোগ থাকে, তবে এটি শরীরের জন্য প্রোটিন ভাঙা কঠিন করে তোলে, কারণ তার যকৃত সঠিকভাবে কাজ করে না। তবে সুস্থ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে যকৃতের ক্ষতির ওপর অতিরিক্ত প্রোটিন গ্রহণের প্রভাব কম।
অন্ত্রের স্বাস্থ্য
অতিরিক্ত প্রোটিন গ্রহণের সঙ্গে সম্পর্কিত আরেকটি সম্ভাব্য সমস্যা হলো হজমের সমস্যা, যা খাদ্যতালিকায় শাক-সবজি, ফল এবং শস্যের অভাবে অপর্যাপ্ত ফাইবার গ্রহণের কারণে ঘটে। শরীরে ফাইবারের অভাব কোষ্ঠকাঠিন্য, পেট ফাঁপা, অন্ত্রের দুর্বল জীবাণু এবং পানিশূন্যতার মতো সমস্যার কারণ হতে পারে।
হৃদপিণ্ডের স্বাস্থ্য
আরেকটি বিষয় হলো প্রোটিনের উৎস। অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত মাংস এবং অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত প্রাণীজ প্রোটিন গ্রহণের ফলে শরীরে স্যাচুরেটেড ফ্যাট ও লবণের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে হৃৎপিণ্ডের ক্ষতি করবে।
উচ্চ প্রোটিনযুক্ত খাদ্যের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বিষয়ক গবেষণা
আইএসআরএন নিউট্রিশন জার্নালে প্রকাশিত ২০১৩ সালের একটি গবেষণায় বলা হয়েছে যে, ওজন কমানো এবং পেশি গঠনের জন্য উচ্চ-প্রোটিনযুক্ত খাদ্য জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য দৈনিক প্রস্তাবিত খাদ্যতালিকা (RDA) হলো প্রতি কেজি দৈহিক ওজনের জন্য মাত্র ০.৮ গ্রাম প্রোটিন। সুতরাং, অতিরিক্ত প্রোটিন গ্রহণ বিভিন্ন স্বাস্থ্য ঝুঁকির কারণ হতে পারে।
গবেষণায় বলা হয়েছে, অতিরিক্ত প্রোটিন গ্রহণের ক্ষেত্রে অন্যতম বড় উদ্বেগের বিষয় হলো এটি হাড়ের স্বাস্থ্য এবং শরীরে ক্যালসিয়ামের ভারসাম্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এর কারণ হিসেবে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে, বেশি পরিমাণে প্রোটিন গ্রহণ করলে শরীরে অতিরিক্ত অ্যাসিড উৎপন্ন হয়। এই বাড়তি অ্যাসিডের ভারসাম্য রক্ষা করতে কিডনি প্রস্রাবের মাধ্যমে শরীর থেকে বেশি পরিমাণে ক্যালসিয়াম বের করে দেয়। পাশাপাশি অ্যাসিডের প্রভাব কমাতে শরীর হাড়ের টিস্যু ভাঙার প্রক্রিয়া সক্রিয় করে। দীর্ঘমেয়াদে এই প্রক্রিয়া হাড়ের ঘনত্ব কমিয়ে হাড় ক্ষয় এবং হাড় ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
গবেষণায় আরও উঠে এসেছে, দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ, বিশেষ করে লাল মাংসনির্ভর খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করলে কোলন, পাকস্থলী এবং স্তন ক্যান্সারসহ বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সারের ঝুঁকি বৃদ্ধি পেতে পারে।
এ ছাড়া অতিরিক্ত প্রোটিন গ্রহণ লিভারের স্বাভাবিক কার্যক্রমেও প্রভাব ফেলতে পারে। এর ফলে ট্রান্সঅ্যামাইনেজ এনজাইমের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। গবেষণার কিছু পর্যবেক্ষণে আরও বলা হয়েছে, এ ধরনের খাদ্যাভ্যাস শরীরে লিপিড জমা এবং প্রদাহের মাত্রা বাড়াতে পারে, যা পরবর্তীতে করোনারি আর্টারি ডিজিজের অগ্রগতিতে ভূমিকা রাখতে পারে।
পুরাতন সংবাদ পড়ুন
« সেপ্টেম্বর ২০২৫ »
সোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্রশনিরবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০     

অনুসরণ করুন