মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর ২০২৬, বিকাল ৫:৫৩

টানা ৩০ দিন শর্করা কম খেলে শরীরে যেসব পরিবর্তন দেখা যায়

আমার সারা দিনের খাদ্যতারিকার দিকে তাকালে দেখা যাবে, সকাল থেকে রাত, প্রতি বেলার খাবার শর্করায় ভরপুর থাকে। কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছেন, একটানা ৩০ দিন যদি শর্করা খাওয়ার পরিমাণ কমিয়ে দেন তাহলে আপনার শরীরে কী কী পরিবর্তন দেখা দিতে পারে? এক মাস সময়টি আসলে খুব দীর্ঘ না হলেও শরীরের অভ্যন্তরীণ পরিবর্তনগুলো বোঝার জন্য যথেষ্ট। এক মাস শর্করা না খেলে ওজন কমে যাওয়ার পাশাপাশি ক্ষুধা, শক্তি এবং হজমশক্তিতেও লক্ষণীয় পরিবর্তন আসে। চলুন জেনে নেওয়া যাক, টানা এক মাস কম শর্করা বা লো-কার্ব ডায়েট করলে শরীরে কী কী পরিবর্তন ঘটে। 
দ্রুত ওজন ও ফোলা ভাব কমে
শর্করা গ্রহণ কমানোর পর প্রথম এক থেকে দুই সপ্তাহেই ওজন মাপার যন্ত্রে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। তবে পুষ্টিবিদদের মতে, এই সময়ের প্রাথমিক ওজন কমার বড় অংশই চর্বি কমে যাওয়ার কারণে নয়; বরং শরীরে জমে থাকা অতিরিক্ত পানি বেরিয়ে যাওয়ার ফল।
শর্করা শরীরে গ্লাইকোজেন হিসেবে সঞ্চিত থাকে এবং গ্লাইকোজেনের সঙ্গে পানি জমা থাকে। খাদ্য থেকে শর্করা গ্রহণের পরিমাণ কমে গেলে শরীরে জমে থাকা গ্লাইকোজেন ভাঙতে শুরু করে। এর ফলে শরীর অতিরিক্ত পানি ছেড়ে দেয় এবং দ্রুত ওজন কমতে দেখা যায়। একই সঙ্গে মুখের ফোলা ভাব ও পেটের ব্লোটিংও কমে যেতে পারে।
ক্ষুধার ওপর নিয়ন্ত্রণ
বিশেষ করে পরিশোধিত শর্করা যেমন চিনি, সাদা চাল ও ময়দা খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বেড়ে যায় এবং পরে তা দ্রুত কমেও যায়। এর ফলে ঘন ঘন ক্ষুধা লাগতে পারে এবং মিষ্টিজাতীয় খাবারের প্রতি তীব্র আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়।
অন্যদিকে, শর্করা গ্রহণ কমিয়ে প্রোটিন, শাকসবজি ও স্বাস্থ্যকর চর্বির পরিমাণ বাড়ালে রক্তে শর্করার মাত্রা তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকে। ফলে বারবার হালকা নাশতা খাওয়ার প্রয়োজন বা প্রবণতা কমে এবং দীর্ঘ সময় পর্যন্ত পেট ভরা অনুভূতি বজায় থাকে।
শক্তির মাত্রায় পরিবর্তন
লো-কার্ব ডায়েটের প্রথম সপ্তাহে আপনি কিছুটা অলস বা ক্লান্ত অনুভব করবেন। শরীর যখন প্রাথমিক জ্বালানি হিসেবে গ্লুকোজের বদলে অন্য উৎস ব্যবহার করতে অভ্যস্ত হবে, তখন এ পরিবর্তনটি দেখা যাবে। তবে এ ধাপটি পার করতে পারলে আপনি আগের চেয়ে অনেক বেশি কর্মক্ষম অনুভব করবেন। বিশেষ করে দুপুরের খাবারের পর যে ঝিমুনি ভাব আসে, তা অনেকটাই কমে যায় এবং সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর মন বেশ সতেজ থাকে।
হজম প্রক্রিয়ায় প্রভাব
শর্করা কমানোর ফলে হজম প্রক্রিয়ায় বড় পরিবর্তন আসে। অনেক সময় শর্করা কমাতে গিয়ে আমরা ভুলবশত আঁশযুক্ত খাবার খাওয়া কমিয়ে দিই, যা কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণ হতে পারে। তবে যদি খাবারের তালিকায় প্রচুর পরিমাণে সবুজ শাকসবজি, বাদাম ও বীজ রাখা হয়, তবে হজমশক্তি আরও উন্নত হয়। পরিশোধিত শর্করা বাদ দিলে পেট গ্যাসের সমস্যা থেকেও মুক্তি পায়।
রক্তে শর্করার ভারসাম্য
ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স বা রক্তে শর্করার সমস্যায় ভুগছেন এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ৩০ দিনের এই রুটিন কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, স্বল্প সময়ের জন্য শর্করা গ্রহণ কমালে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়। রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল থাকলে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা ও মনোযোগ ধরে রাখার সক্ষমতাও বাড়তে পারে। এর ফলে দিনের বিভিন্ন সময়ে মেজাজ খিটখিটে হওয়ার প্রবণতা কমে এবং মানসিক একাগ্রতা বাড়ে।
টানা ৩০ দিন কম শর্করা খাওয়ার অর্থ এই নয় যে খাবারের আনন্দ থেকে নিজেকে বঞ্চিত করতে হবে। বরং এই সময়টিকে নিজের শরীরের প্রয়োজন বোঝার সুযোগ হিসেবে নেওয়া যেতে পারে। শরীর যখন সুষম পুষ্টি ও প্রয়োজনীয় জ্বালানি পায়, তখন তার প্রভাব শুধু ওজনের ওপর নয়, শারীরিক ও মানসিক সতেজতার ওপরও পড়ে। তবে এই পরিবর্তন ধরে রাখতে এক মাস পর আবার অতিরিক্ত শর্করা খাওয়ার অভ্যাসে ফিরে না গিয়ে দীর্ঘমেয়াদে সুষম ও স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি।
পুরাতন সংবাদ পড়ুন
« ডিসেম্বর ২০২৬ »
সোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্রশনিরবি
 ১২৩৪৫৬
৭৮৯১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১   

অনুসরণ করুন