বৃহস্পতিবার, ২রা জুলাই ২০২৬, রাত ৩:৪৮

পর্যাপ্ত ঘুম না হলে বাড়তে পারে ক্যান্সারের ঝুঁকি: গবেষণা

সুস্থ থাকার জন্য রাতে পর্যাপ্ত ও মানসম্মত ঘুমের কোনো বিকল্প নেই। এটি যেমন শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার জন্য জরুরি, তেমনি নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘদিন পর্যাপ্ত ঘুম না হলে বিশেষ করে ৫০ বছরের কম বয়সীদের মধ্যে ক্যান্সারের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। গবেষকদের মতে, এ ঝুঁকি নারীদের ক্ষেত্রে আরও বেশি হতে পারে।
বিশ্বজুড়ে কম বয়সীদের মধ্যে কিছু ধরনের ক্যান্সারের হার কেন বাড়ছে, তা নিয়ে গবেষণা চলছে। খাদ্যাভ্যাস, স্থূলতা, দূষণ এবং জীবনযাপনের নানা দিক নিয়ে আগে থেকেই গবেষণা হলেও, এবার ঘুমের অভাবকেও সম্ভাব্য একটি কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
গবেষণায় যা উঠে এসেছে
আমেরিকান সোসাইটি অব ক্লিনিক্যাল অনকোলজি জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, দীর্ঘমেয়াদি অনিদ্রা, অনিয়মিত ঘুমের অভ্যাস এবং নিম্নমানের ঘুম শরীরের ক্ষতিগ্রস্ত কোষ মেরামতের স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করতে পারে।
ঘুমের সময় শরীরে টিস্যু মেরামত, হরমোনের ভারসাম্য রক্ষা এবং রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার কার্যক্রমসহ গুরুত্বপূর্ণ জৈবিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। নিয়মিত ঘুমে ব্যাঘাত ঘটলে এসব প্রক্রিয়া স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারে না।
গবেষকদের মতে, অপর্যাপ্ত ঘুমের কারণে শরীরে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহের ঝুঁকি বাড়তে পারে। আর দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহের সঙ্গে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস এবং নির্দিষ্ট কিছু ধরনের ক্যান্সারের সম্পর্ক রয়েছে।
এ ছাড়া ঘুমের অভাব রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও দুর্বল করে দেয়। ফলে শরীরের পক্ষে অস্বাভাবিক কোষগুলো ক্যান্সারে রূপ নেওয়ার আগেই শনাক্ত ও ধ্বংস করা কঠিন হয়ে পড়ে।
বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, ব্যস্ত কর্মজীবন, অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহার, মানসিক চাপ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ সময় কাটানো এবং অনিয়মিত জীবনযাপনের কারণে বর্তমানে ২০, ৩০ ও ৪০ বছর বয়সীদের মধ্যে অনিদ্রার সমস্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
নারীদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি বেশি
গবেষণার ফলাফলে দেখা গেছে, নারীরা অপর্যাপ্ত ঘুমের নেতিবাচক প্রভাবে তুলনামূলক বেশি ঝুঁকিতে থাকতে পারেন।
ঋতুস্রাব, গর্ভাবস্থা, পেরিমেনোপজ ও মেনোপজের সময় হরমোনের পরিবর্তন ঘুমের মানকে প্রভাবিত করতে পারে। পাশাপাশি পুরুষদের তুলনায় নারীদের অনিদ্রা ও ঘুম-সংক্রান্ত অন্যান্য সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতাও বেশি। গবেষকদের ধারণা, এসব কারণেই নারীদের ক্ষেত্রে ঘুমের ঘাটতির প্রভাব বেশি স্পষ্ট হতে পারে।
তবে গবেষকরা স্পষ্ট করেছেন, এই গবেষণা সরাসরি প্রমাণ করে না যে অনিদ্রাই ক্যান্সারের কারণ। বরং এটি ঘুমের মান ও সামগ্রিক স্বাস্থ্যের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তুলে ধরেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি পর্যাপ্ত ও মানসম্মত ঘুমকেও সুস্থ জীবনের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
যারা দীর্ঘদিন ধরে ঘুমের সমস্যায় ভুগছেন, তাদের বিষয়টি অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ দীর্ঘস্থায়ী অনিদ্রা মেজাজ, মনোযোগ, কর্মক্ষমতা এবং দীর্ঘমেয়াদে সামগ্রিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। সময়মতো চিকিৎসা নিলে এর অন্তর্নিহিত কারণ শনাক্ত করা এবং ঘুমের অভ্যাস উন্নত করা সহজ হতে পারে।
পুরাতন সংবাদ পড়ুন
« সেপ্টেম্বর ২০২৬ »
সোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্রশনিরবি
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০    

অনুসরণ করুন