বুধবার, ১৪ই অক্টোবর ২০২৬, বিকাল ৫:৪৭

প্রতিদিন কতটুকু পানি পান করা প্রয়োজন, জানুন সহজ হিসাব

সুস্থ থাকতে পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি। শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, হজম প্রক্রিয়া স্বাভাবিক রাখা, পুষ্টি উপাদান পরিবহন এবং শরীর থেকে বর্জ্য বের করে দিতে পানি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে প্রতিদিন ঠিক কতটুকু পানি পান করা প্রয়োজন, তা নির্ভর করে বয়স, শারীরিক পরিশ্রম, আবহাওয়া ও স্বাস্থ্যের ওপর।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সবার জন্য পানির চাহিদা এক নয়। সাধারণভাবে একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দৈনিক প্রায় ২ থেকে ৩ লিটার পানীয় গ্রহণের প্রয়োজন হতে পারে। তবে এটি সবার জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ নয়। খাবার থেকেও শরীর কিছু পানি পায়। তাই দৈনিক পানির চাহিদা নির্ধারণের ক্ষেত্রে ব্যক্তিভেদে পার্থক্য বিবেচনা করা জরুরি।
কোন বিষয়গুলো পানির চাহিদা বাড়ায়
গরম আবহাওয়া, অতিরিক্ত ঘাম, ব্যায়াম কিংবা শারীরিক পরিশ্রমের কারণে শরীর থেকে বেশি পানি বের হয়ে যায়। এ সময় স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি পানি পান করার প্রয়োজন হতে পারে। জ্বর, বমি বা ডায়রিয়া হলেও শরীরে পানির ঘাটতি তৈরি হতে পারে। এসব ক্ষেত্রে প্রয়োজন অনুযায়ী তরল গ্রহণ করতে হবে এবং গুরুতর লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
কীভাবে বুঝবেন শরীরে পানির ঘাটতি হচ্ছে
প্রস্রাবের রং গাঢ় হওয়া, মুখ শুকিয়ে যাওয়া, মাথাব্যথা, ক্লান্তি এবং মাথা ঘোরার মতো লক্ষণ পানিশূন্যতার ইঙ্গিত দিতে পারে। তবে এসব লক্ষণ অন্য কারণেও হতে পারে। প্রস্রাবের রং হালকা হলুদ থাকা সাধারণত পর্যাপ্ত পানির একটি ইঙ্গিত। তৃষ্ণা লাগলে পানি পান করা এবং দিনের বিভিন্ন সময়ে নিয়মিত পানি গ্রহণের অভ্যাস গড়ে তোলা ভালো।
একসঙ্গে বেশি পানি পান করা কি ঠিক
অল্প অল্প করে দিনের বিভিন্ন সময়ে পানি পান করা ভালো অভ্যাস। একবারে অতিরিক্ত পানি পান করা উচিত নয়। খুব অল্প সময়ে অনেক বেশি পানি পান করলে রক্তে সোডিয়ামের মাত্রা বিপজ্জনকভাবে কমে যেতে পারে। বিশেষ করে দীর্ঘ সময় ব্যায়াম বা শারীরিক পরিশ্রমের সময় শরীরের চাহিদা অনুযায়ী পানি ও প্রয়োজনীয় লবণজাতীয় উপাদান গ্রহণ করতে হবে।
যাঁদের পানি পানে সতর্কতা প্রয়োজন
কিডনি, হৃদ্‌যন্ত্র বা যকৃতের কিছু রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসকের নির্দেশ অনুযায়ী পানি পান করতে হতে পারে। এ ক্ষেত্রে সবার জন্য প্রযোজ্য সাধারণ পরামর্শ অনুসরণ না করে ব্যক্তিগত চিকিৎসা নির্দেশনা মেনে চলা জরুরি।
সব মিলিয়ে, সুস্থ থাকতে দিনের বিভিন্ন সময়ে নিয়মিত পানি পান করা, অতিরিক্ত ঘাম হলে পানির ঘাটতি পূরণ করা এবং শরীরের সংকেতের প্রতি খেয়াল রাখা প্রয়োজন। তবে সবার জন্য একই পরিমাণ পানি বাধ্যতামূলক নয়; ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা ও দৈনন্দিন কাজের ধরন অনুযায়ী পানির চাহিদা নির্ধারণ করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
পুরাতন সংবাদ পড়ুন
« নভেম্বর ২০২৬ »
সোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্রশনিরবি
      ১
২৩৪৫৬৭৮
৯১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০      

অনুসরণ করুন