মঙ্গলবার, ২৫শে আগস্ট ২০২৬, সন্ধ্যা ৭:২৯

**বিপদের সময়ে আল্লাহর সাহায্য পাওয়ার ৩ আমল**

বিপদ, দুঃখ ও নানা প্রতিকূলতা মানুষের জীবনের স্বাভাবিক অংশ। এমন পরিস্থিতিতে হতাশ না হয়ে আল্লাহর ওপর আস্থা ও ভরসা রাখা মুমিনের অন্যতম গুণ। বিপদ থেকে মুক্তি ও আল্লাহর সাহায্য পেতে তাঁর কাছে প্রার্থনা করা এবং তাঁর ওপর নির্ভর করাই একজন মুমিনের দায়িত্ব। 

একজন মুমিনের জন্য বিপদ-আপদ আল্লাহর পক্ষ থেকে পরীক্ষা। তবে আল্লাহর পরীক্ষা বা বিপদ বলতে কী বোঝায়, তা বুঝতে হবে একটি হাদিসের মাধ্যমে। সাহাবিরা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে জানতে চেয়েছিলেন, কারা সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন—
আল্লাহর রাসুল (সা.)-কে জিজ্ঞেস করা হলো, ‘হে আল্লাহর রাসুল, মানুষের মধ্যে কারা সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হন?’ তিনি উত্তরে বলেন, ‘নবীরা, এরপর যারা তাঁদের নিকটতম, এরপর যারা তাঁদের নিকটতম।’
তিনি আরও বলেন, মানুষকে তার দ্বীনের দৃঢ়তার ভিত্তিতে পরীক্ষা করা হয়। কারও দ্বীন যদি দৃঢ় হয়, তাহলে তার পরীক্ষাও কঠিন হয়। আর কারও দ্বীনের মধ্যে দুর্বলতা থাকলে তাকে তার দ্বীনের মাত্রা অনুযায়ী পরীক্ষা করা হয়।
এভাবে একজন বান্দা একের পর এক পরীক্ষা ও বিপদের মধ্য দিয়ে যেতে থাকে। একপর্যায়ে সে পৃথিবীতে এমন অবস্থায় চলাফেরা করে যে তার আর কোনো গুনাহ অবশিষ্ট থাকে না। —তিরমিজি
দুঃসময় ও খারাপ সময়কে জীবনের পরীক্ষার অংশ হিসেবে গ্রহণ করা উচিত। খারাপ সময়ে একজন মুমিনের করণীয় কী হতে পারে, তা তুলে ধরা হলো:
আল্লাহর দিকে ফিরে আসুন
অনেক সময় দুঃখ-দুর্দশা মানুষকে এমনভাবে গ্রাস করে যে সে হতাশ হয়ে পড়ে। জীবনের সবকিছু অর্থহীন মনে হয়। এই সময়গুলোতে আল্লাহর ওপর নির্ভর করা উচিত। কারণ, বিপদ দেওয়া ও বিপদ থেকে উদ্ধারের মালিক একমাত্র আল্লাহ তায়ালা
পবিত্র কোরআনে এমন কিছু মানুষের কথা বলা হয়েছে, যারা সমুদ্রে নৌযানে ভ্রমণ করছিল। ঝড়ের কবলে পড়ে যখন তারা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ল এবং মনে হলো আর কোনো উপায় নেই, তখন তারা সৃষ্টিজগতের স্রষ্টা আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইল। আল্লাহ তায়ালা বলেন—
তুমি কি দেখ না, আল্লাহর অনুগ্রহে সমুদ্রে নৌযানগুলো চলাচল করে, যাতে তিনি তোমাদের তার নিদর্শনাবলি দেখাতে পারেন? নিশ্চয় এতে প্রত্যেক ধৈর্যশীল ও কৃতজ্ঞ ব্যক্তির জন্য নিদর্শন রয়েছে। যখন ঢেউ তাদের ওপর পাহাড়ের মতো আছড়ে পড়ে, তখন তারা একনিষ্ঠভাবে শুধু আল্লাহকে ডাকে। এরপর তিনি যখন তাদের নিরাপদে স্থলে পৌঁছে দেন, তখন তাদের কেউ কেউ মধ্যপন্থা অবলম্বন করে। আর আমার নিদর্শন অস্বীকার করে শুধু বিশ্বাসঘাতক ও অকৃতজ্ঞ ব্যক্তি। (সূরা লুকমান, আয়াত : ৩১-৩২)
আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা রাখার পাশাপাশি বিপদ-আপদ থেকে মুক্তির জন্য তাঁর কাছে দোয়া করা উচিত। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা জানিয়েছেন, যে ব্যক্তি তাঁকে ডাকে, তিনি তার ডাকে সাড়া দেন। দোয়ার মাধ্যমে মানুষ আল্লাহর নৈকট্য লাভের পাশাপাশি অন্তরেও এক ধরনের প্রশান্তি অনুভব করে।
আল্লাহর জিকির যেভাবে অন্তর প্রশান্ত করে
দোয়া কবুল হওয়ার সম্ভাবনা যেসব সময়ে বেশি থাকে, সেসব সময়ে আল্লাহর কাছে দোয়া করা উচিত। আজান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময়, রাতের শেষ তৃতীয়াংশ এবং প্রতি শুক্রবার সূর্যাস্তের আগের শেষ এক ঘণ্টাকে দোয়া কবুলের সম্ভাবনাময় সময় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তাই এসব সময়ে বিপদ থেকে মুক্তি, কল্যাণ ও শান্তির জন্য আল্লাহর কাছে বেশি বেশি দোয়া করা উচিত।
আল্লাহর জিকির করা
পবিত্র কোরআনে বেশি বেশি আল্লাহর জিকির করতে বলা হয়েছে। অন্য কোনো ইবাদত সম্পর্কে এমন কথা বলা হয়নি। আল্লাহর জিকির মানুষকে সব ধরনের গুনাহ থেকে রক্ষা করে।
আল্লাহ তায়ালা বলেন, আল্লাহকে অধিক পরিমাণে স্মরণ করবে যাতে তোমরা সফলতা অর্জন কর।(সূরা আনফাল, আয়াত : ৪৫)
আরও বর্ণিত হয়েছে, ‘যারা ঈমান আনে এবং আল্লাহর স্বরণে যাদের অন্তর প্রশান্ত হয়,  জেনে রাখ আল্লাহর জিকির দ্বারাই অন্তরসমূহ শান্তি পায়।’ (সূরা রাদ, আয়াত : ২৮)
পুরাতন সংবাদ পড়ুন
« জুন ২০২৭ »
সোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্রশনিরবি
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০    

অনুসরণ করুন