ওজন কমানো বা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে খাবারের পাশাপাশি প্রতিদিন কী পান করছেন, সেদিকেও নজর দেওয়া জরুরি। বিশেষ করে চিনি ও অতিরিক্ত ক্যালোরিযুক্ত পানীয়ের বদলে স্বাস্থ্যকর বিকল্প বেছে নেওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। এ কারণে অনেকেই চিনি ছাড়া ব্ল্যাক কফি কিংবা গ্রিন টি নিয়মিত পান করেন।
ব্ল্যাক কফি ও গ্রিন টি দুটিতেই এমন কিছু উপাদান রয়েছে, যা শরীরের বিপাকক্রিয়া, সজাগতা ও সামগ্রিক স্বাস্থ্যে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে কোনটি বেশি উপকারী, তা নিয়ে অনেকেরই প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষ করে ওজন কমানো কিংবা রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে দুটির প্রভাব এক নয়। পানীয়টির উপাদান, গ্রহণের পরিমাণ এবং ব্যক্তির সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাসের ওপর এর উপকারিতা অনেকটাই নির্ভর করে।
ব্ল্যাক কফি কতটা উপকারী
ব্ল্যাক কফিতে থাকা ক্যাফেইন মস্তিষ্কের সজাগতা ও মনোযোগ বাড়াতে সহায়তা করতে পারে। একই সঙ্গে এটি সাময়িকভাবে শরীরের বিপাকীয় হার বাড়িয়ে ক্যালোরি খরচে কিছুটা ভূমিকা রাখতে পারে। ফলে ওজন নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টায় চিনি ছাড়া ব্ল্যাক কফি সহায়ক হতে পারে।
কফিতে থাকা বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতেও ভূমিকা রাখতে পারে। কিছু গবেষণায় নিয়মিত কফি পানের সঙ্গে টাইপ-২ ডায়াবেটিসসহ কয়েকটি দীর্ঘমেয়াদি রোগের ঝুঁকি কম থাকার সম্পর্ক পাওয়া গেছে।
এ ছাড়া ব্যায়ামের আগে ব্ল্যাক কফি পান করলে ক্যাফেইনের কারণে সাময়িকভাবে শারীরিক কর্মক্ষমতা ও সহনশীলতা বাড়তে পারে। কিছু মানুষের ক্ষেত্রে এটি অল্প সময়ের জন্য ক্ষুধাও কমাতে পারে।
গ্রিন টির বিশেষত্ব
গ্রিন টিতে রয়েছে ক্যাটেচিন নামের এক ধরনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এর মধ্যে ইজিসিজি বা ইপিগ্যালোক্যাটেচিন গ্যালেট নিয়ে বিশেষভাবে গবেষণা হয়েছে। ক্যাটেচিন ও ক্যাফেইন একসঙ্গে শরীরের বিপাকক্রিয়া এবং চর্বি অক্সিডেশনে সামান্য প্রভাব ফেলতে পারে।
সাধারণত গ্রিন টিতে কফির তুলনায় ক্যাফেইন কম থাকে। এতে এল-থিয়ানিন নামের একটি উপাদানও রয়েছে। ক্যাফেইনের সঙ্গে এটি একত্রে মনোযোগ ও সজাগতা বাড়াতে সহায়তা করতে পারে।
কিছু গবেষণায় গ্রিন টি পান এবং ইনসুলিন সংবেদনশীলতা ও রক্তে শর্করার মাত্রার মধ্যে ইতিবাচক সম্পর্কের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তবে গ্রিন টিকে কোনোভাবেই ডায়াবেটিসের চিকিৎসা হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়।
ডায়াবেটিসে কোনটি বেছে নেবেন
চিনি, সিরাপ বা মিষ্টি ক্রিম ছাড়া ব্ল্যাক কফি ও গ্রিন টি— দুটিই কম ক্যালোরিযুক্ত পানীয়। তাই ডায়াবেটিসের খাদ্যতালিকায় এগুলো রাখা যেতে পারে।
নিয়মিত ব্ল্যাক কফি পানের সঙ্গে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কম থাকার সম্পর্ক বিভিন্ন গবেষণায় পাওয়া গেছে। অন্যদিকে, গ্রিন টিতে থাকা ক্যাটেচিন রক্তে শর্করা ও ইনসুলিনের কার্যকারিতায় কিছুটা ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
তবে কোনো পানীয়ই ওষুধ, সুষম খাদ্যাভ্যাস বা চিকিৎসকের পরামর্শের বিকল্প নয়।
ওজন কমাতে কোনটি এগিয়ে
ব্ল্যাক কফি ও গ্রিন টি— দুটিই ওজন কমানোর প্রচেষ্টায় সামান্য সহায়ক হতে পারে। ব্ল্যাক কফির ক্যাফেইন বিপাকক্রিয়া ও শারীরিক কর্মক্ষমতায় সাময়িক প্রভাব ফেলতে পারে। এ কারণে ব্যায়ামের আগে অনেকে চিনি ছাড়া ব্ল্যাক কফি পান করেন।
অন্যদিকে, গ্রিন টির ক্যাফেইন ও ক্যাটেচিন চর্বি অক্সিডেশনে কিছুটা ভূমিকা রাখতে পারে। তবে শুধু গ্রিন টি বা ব্ল্যাক কফি পান করলেই উল্লেখযোগ্য ওজন কমবে, এমন প্রমাণ নেই।
ওজন কমানোর ক্ষেত্রে মোট ক্যালোরি গ্রহণ, খাবারের মান, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম এবং পর্যাপ্ত ঘুম অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
যেভাবে পান করা ভালো
ব্ল্যাক কফি বা গ্রিন টির সম্ভাব্য উপকার পেতে এতে চিনি, দুধ, ক্রিম কিংবা ফ্লেভারড সিরাপ না মেশানোই ভালো। এসব উপাদান অতিরিক্ত চিনি ও ক্যালোরি যোগ করে ওজন নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যকে ব্যাহত করতে পারে।
তবে অতিরিক্ত ক্যাফেইন সবার জন্য উপযোগী নয়। বেশি ক্যাফেইন গ্রহণে ঘুমের সমস্যা, অস্থিরতা, বুক ধড়ফড়সহ বিভিন্ন ধরনের অস্বস্তি হতে পারে। তাই শরীরের প্রতিক্রিয়া বুঝে পরিমাণ নির্ধারণ করা উচিত।
ব্যায়ামের আগে বাড়তি উদ্দীপনার জন্য চিনি ছাড়া ব্ল্যাক কফি এবং তুলনামূলক কম ক্যাফেইনের পানীয় হিসেবে গ্রিন টি— দুটিই খাদ্যাভ্যাসে রাখা যেতে পারে। তবে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ বা ওজন কমানোর একক সমাধান হিসেবে কোনো একটিকেই দেখা উচিত নয়। স্বাস্থ্যকর ওজন ধরে রাখা এবং রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সুষম খাবার, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম, পর্যাপ্ত ঘুম এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।


















