মঙ্গলবার, ৩০শে জুন ২০২৬, বিকাল ৪:১৫

মানসিক চাপ কমান সুস্থ থাকুন : আফতাব চৌধুরী

মানসিক চাপ দূরে সরিয়ে রাখতে পারলে সুস্থ ও জীবনযাপন করা সম্ভব। মানসিক ও স্বাভাবিক শারীরিক চাপ এ দুটি একে অপরের সঙ্গে সম্পর্কিত। একটি বাড়লে আরেকটি বাড়ে, একটি কমলে অন্যটি কমে। তাই এ লেখায় মানসিক চাপের কথা বেশি উল্লেখ করছি। চাপ নির্ভর করে মানুষের আবেগের ওপর। আবার আবেগ নির্ভর করে মানুষ তার পরিবেশ-পরিস্থিতি কী করে সামাল দেয় তা ওপর। বিভিন্ন রকমের মানুষ বিভিন্ন রকম উপায়ে পরিবেশ-পরিস্থিতিকে চাপপূর্ণ বলে মনে করে।

এখানে চাপ বলতে শরীরের বিভিন্ন প্রতিক্রিয়াকে বোঝানো হচ্ছে। যেমন সার্জারি করার পর বিভিন্ন ধরনের ব্যথা থাকে। গলস্টোন অপারেশনের পর পেটে ব্যথা, গ্যাস্ট্রিকের প্রবণতা, কোমরে ব্যথা-এগুলো হচ্ছে শারীরিক চাপ। এই শারীরিক চাপগুলো আবেগিক চাপ সৃষ্টি করে এবং এই দুইয়ে মিলে তখন পরিবেশটা হয়ে যায় জটিল। চাপ নিয়ন্ত্রণ বলতে বিভিন্ন ধরনের টেনশন কমানো এবং তাদের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শারীরিক ও মানসিক উপসর্গগুলো কমানোকে বোঝায়। তবে কতটুকু চাপ কমতে পারে, তা নির্ভর করে চাপের মাত্রা ও ব্যক্তির ইচ্ছাশক্তির ওপর।

ব্যক্তির দৃষ্টিভঙ্গির ওপর পরিবেশ চাপপূর্ণ কী চাপপূর্ণ নয়, তা তিনি বুঝে নিতে পারেন। নেতিবাচক চিন্তার ব্যক্তিরা খুব সহজেই চাপে আক্রান্ত হয়। তাদের চেয়ে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির লোকজন চাপে আক্রান্ত হয় কম।

সুষ্ঠু সুষম খাদ্য গ্রহণ মানসিক ও শারীরিক চাপ কমাতে
সাহায্য করে। যেসব খাদ্যদ্রব্য শরীরের জন্য ক্ষতিকর, সেগুলো গ্রহণ শরীরের প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে দুর্বল করে দেয় এবং তখনই কোনো ব্যক্তি নানা ধরনের অসুখে আক্রান্ত হয়। সাধারণত পুষ্টিকর খাবার না খাওয়া, সঠিক সময়ে সঠিকভাবে না খাওয়া একজন ব্যক্তির পুষ্টিচাহিদা পূরণ করতে পারে না। এ ধরনের শারীরিক চাপ ব্যক্তির মানসিক চাপ বাড়িয়ে দেয়। কারণ সঠিক পুষ্টি আমাদের মস্তিষ্কে ক্রিয়া করতে পারে না। প্রত্যেক ব্যক্তি তাদের খারাপ সময়ে একধরনের মানসিক সহায়তা আশা করে। এই সহায়তা বিভিন্ন ধরনের সাইকোলজিক্যাল, সাইকোথেরাপি, গ্রুপথেরাপি ইত্যাদি হতে পারে।

শিথিলায়ন বা রিলাক্সেশন, যারা অন্তর্মুখী চরিত্রের তারা সহজভাবে চাপকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। যারা অন্তর্মুখী ব্যক্তিত্বের লোক, বহির্জগতের সঙ্গে যাদের যোগাযোগ কম, তাদের শখ কম থাকে এবং তারা কী করে শিথিলায়ন করতে হয় তা কম জানে। চাপ কমাবেন কী করে-আপনার নেতিবাচক চিন্তাগুলো দূর করার চেষ্টা করুন। বিভিন্ন বিনোদনমূলক, সামজিক, পারিবারিক, আমোদপ্রমোদমূলক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করুন। নেতিবাচক চিন্তা পরিবর্তন করুন। একটু অবসর নিন। ইতিবাচক চিন্তা করুন।

কাজের মাধ্যমে চাপ কমান-বেশির ভাগ বিশেষজ্ঞ ন্যূনতম ২০ মিনিট করে সপ্তাহে তিন দিন এই পরিশ্রমের কথা বলে থাকেন। কাজের বিশেষ সময়, পরিমাণ ও শারীরিক কাজকর্মে লেভেল নির্ধারণ করে নিন। আপনার সারা দিনের সময়ের সঙ্গে খাপ খায়, এমন সময় বের করুন। আপনাকে দিয়ে উৎসাহ জোগায়, আপনাকে দিয়ে সহজেই কোনো কাজ করিয়ে নিতে পারে, এমন ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ রাখুন। কঠিন কোনো ব্যায়াম করার দরকার নেই। শুধু ২০ মিনিট করে নিয়মিত হাঁটুন। ফলমূল, শাকসবজি বেশি করে খান। এতে শারীরিক, মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি হবে। সঠিক খাদ্য সঠিক সময়ে গ্রহণ করুন।

বিভিন্ন রকম সামাজিক অনুষ্ঠানে যোগ দিন। তাতে যদি আপনার মানসিক চাপ সৃষ্টি হয়, তবু যান। নিজেকে আরও সুন্দরভাবে পরিচালিত করুন এবং বিভিন্ন ধরনের মানুষের সঙ্গে মেলামেশা করুন।

পুরাতন সংবাদ পড়ুন
« সেপ্টেম্বর ২০২৬ »
সোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্রশনিরবি
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০    

অনুসরণ করুন