সোমবার, ২০শে জুলাই ২০২৬, দুপুর ১২:১৩

যে ৪ সময়ে আয়াতুল কুরসি পাঠ করলে বেশি উপকার মেলে

‘আয়াতুল কুরসি’ পবিত্র কোরআনের সুরা বাকারার ২৫৫ নম্বর আয়াত। হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) এটিকে কোরআনের সর্বশ্রেষ্ঠ আয়াত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। কারণ, এই আয়াতে মহান আল্লাহর একত্ব, সর্বজ্ঞতা, অসীম ক্ষমতা ও সর্বময় কর্তৃত্ব অত্যন্ত সুস্পষ্ট ও গভীরভাবে বর্ণিত হয়েছে। আল্লাহ তাআলার গুণাবলির এমন বিস্তৃত ও অনন্য বিবরণ কোরআনের অন্য কোনো একক আয়াতে পাওয়া যায় না। (সহিহ মুসলিম: ৮১০)
আয়াতুল কুরসি যে কোনো সময় তিলাওয়াত করা অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও ফজিলতপূর্ণ একটি আমল। তবে বিভিন্ন হাদিসে এমন চারটি বিশেষ সময়ের কথা উল্লেখ রয়েছে, যখন এই আয়াত পাঠের বিশেষ ফজিলত, সওয়াব ও উপকারিতার বর্ণনা পাওয়া যায়। নিচে কালবেলার পাঠকদের জন্য সেই সময়গুলো তুলে ধরা হলো।
প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর আয়াতুল কুরসি পাঠ করবে, তার জান্নাতে প্রবেশের পথে মৃত্যু ছাড়া আর কোনো অন্তরায় থাকবে না। (সুনানে নাসাঈ : ১৪৪৩)
সকাল-সন্ধ্যা
উবাই ইবনে কাব (রা.) থেকে বর্ণিত, যে ব্যক্তি সকালে আয়াতুল কুরসি পাঠ করবে সে সন্ধ্যা পর্যন্ত জিনের ক্ষতি থেকে হেফাজতে থাকবে এবং যে ব্যক্তি সন্ধ্যায় আয়াতুল কুরসি পাঠ করবে, সে সকাল পর্যন্ত জিনের ক্ষতি থেকে হেফাজতে থাকবে। (মুসতাদরাকে হাকেম : ১/৭৪৯)
রাতে ঘুমানোর আগে
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, কেউ যদি রাতে শোয়ার সময় আয়াতুল কুরসি পাঠ করে, তাহলে সকাল পর্যন্ত আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে তার জন্য একজন হেফাজতকারী থাকে এবং শয়তান তার কাছে যেতে পারে না। (বোখারি : ৫০১০)
আয়াতুল কুরসি আরবি
اللّهُ لاَ إِلَـهَ إِلاَّ هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ لاَ تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَلاَ نَوْمٌ لَّهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الأَرْضِ مَن ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِنْدَهُ إِلاَّ بِإِذْنِهِ يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ وَلاَ يُحِيطُونَ بِشَيْءٍ مِّنْ عِلْمِهِ إِلاَّ بِمَا شَاء وَسِعَ كُرْسِيُّهُ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضَ وَلاَ يَؤُودُهُ حِفْظُهُمَا وَهُوَ الْعَلِيُّ الْعَظِيمُ
বাংলা উচ্চারণ : আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুওয়াল হাইয়্যুল ক্বাইয়্যুম। লা তাঅ খুযুহু সিনাতুঁও ওয়া লা নাওম। লাহু মা ফিস্ সামাওয়াতি ওয়া মা ফিল আরদ্বি। মান যাল্লাজি ইয়াশফাউ ইনদাহু ইল্লা বিইযনিহি। ইয়া’লামু মা বাইনা আইদিহিম ওয়া মা খালফাহুম, ওয়া লা ইউহিতুনা বিশাইয়্যিম্ মিন ইলমিহি ইল্লা বিমা শাআ, ওয়াসিআ কুরসিইয়্যুহুস্ সামাওয়াতি ওয়াল আরদ্বি ওয়া লা ইয়াউদুহু হিফজুহুমা ওয়া হুওয়াল আলিয়্যুল আজিম।
অর্থ : আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি চিরঞ্জীব ও চিরস্থায়ী। তাঁকে তন্দ্রা স্পর্শ করতে পারে না, নিদ্রাও নয়। আকাশ ও পৃথিবীতে যা কিছু রয়েছে, সবকিছু তাঁরই। কে আছে এমন যে তাঁর কাছে তাঁর অনুমতি ছাড়া সুপারিশ করবে? তাঁদের সামনে কী আছে ও পিছনে কী আছে সবই তিনি জানেন এবং তিনি যা ইচ্ছা করেন তা ছাড়া তারা তাঁর জ্ঞানের কিছুই আয়ত্ত করতে পারে না। তাঁর কুরসি আকাশ ও পৃথিবীকে পরিবেষ্টিত করেছে এবং সেগুলো সংরক্ষণ করতে তাঁর কষ্ট হয় না। তিনিই সর্বোচ্চ ও মহান।
পুরাতন সংবাদ পড়ুন
« জুলাই ২০২৬ »
সোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্রশনিরবি
  
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০৩১  

অনুসরণ করুন