দিন দিন সিলিন্ডার গ্যাসের দাম বাড়ায় রান্নার খরচ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন অনেকেই। রান্না, পানি গরম করাসহ প্রতিদিনের নানা কাজে এলপিজি সিলিন্ডারের ব্যবহার এখন প্রায় অপরিহার্য। তবে কিছু অভ্যাস পরিবর্তন করলে একই পরিমাণ গ্যাস দিয়ে আরও কয়েক দিন চালানো সম্ভব। যে সিলিন্ডার সাধারণত ২০ দিনে শেষ হয়, কিছু কৌশল মেনে সেটি ২৫ দিন পর্যন্ত ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে কিছুটা হলেও খরচ কমবে।
রান্নার সময় পাত্র ঢেকে রাখলে গ্যাসের ব্যবহার কমানো যায়। ঢাকনা দেওয়া থাকলে পাত্রের ভেতরের তাপ সহজে বেরিয়ে যেতে পারে না। ফলে খাবার দ্রুত সেদ্ধ বা রান্না হয় এবং চুলায় কম সময় গ্যাস জ্বালাতে হয়। পানি ফোটানো, ভাত বা তরকারি রান্নার সময় তাই সম্ভব হলে পাত্র ঢেকে রাখুন।
গ্যাস সাশ্রয়ে আঁচের মাত্রাও গুরুত্বপূর্ণ। প্রয়োজনের চেয়ে বেশি আঁচে রান্না করলে জ্বালানি অপচয় হয়। আগুনের শিখা যেন পাত্রের তলার অংশের মধ্যেই থাকে এবং চারপাশ দিয়ে বাইরে বেরিয়ে না আসে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। পাত্রের আকার অনুযায়ী সঠিক বার্নার ও আঁচ ব্যবহার করলে তাপ সরাসরি পাত্রে পৌঁছায় এবং গ্যাসের অপচয় কমে।
বার্নারের ছিদ্রে তেল, মসলা বা খাবারের কণা জমে থাকলে আগুন স্বাভাবিকভাবে বের হতে বাধাগ্রস্ত হয়। এতে রান্নার সময় বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি গ্যাসের ব্যবহারও বাড়তে পারে। তাই নিয়মিত বার্নার পরিষ্কার করা জরুরি। ছিদ্রগুলো ঠিকমতো কাজ করছে কি না, সেটিও পরীক্ষা করতে হবে। দীর্ঘদিন ধরে আগুনের রং বা ধরন অস্বাভাবিক মনে হলে বার্নার পরীক্ষা করানো ভালো।
অনেকে দ্রুত রান্না শেষ করতে সবসময় বেশি আঁচ ব্যবহার করেন। কিন্তু সব ধরনের খাবার রান্নায় বেশি আঁচ প্রয়োজন হয় না। ডাল, সবজি বা ধীরে রান্না করতে হয় এমন খাবারের ক্ষেত্রে প্রয়োজন অনুযায়ী মাঝারি বা কম আঁচ ব্যবহার করলে গ্যাস সাশ্রয় হতে পারে। বেশি আঁচ শুধু যখন প্রয়োজন, তখনই ব্যবহার করা ভালো।
বারবার রান্না করা বা খাবার গরম করার অভ্যাস থাকলেও গ্যাসের খরচ বাড়ে। সম্ভব হলে একসঙ্গে কিছুটা বেশি পরিমাণে রান্না করে রাখা যেতে পারে। এতে বারবার চুলা জ্বালানোর প্রয়োজন কমে এবং একই সঙ্গে জ্বালানিও সাশ্রয় হয়।
রান্না প্রায় শেষ পর্যায়ে এলে গ্যাস বন্ধ করে কিছুক্ষণ পাত্রটি ঢেকে রাখার অভ্যাসও কাজে লাগতে পারে। কিছু খাবার চুলা বন্ধ করার পরও পাত্রের অবশিষ্ট তাপে কিছুক্ষণ রান্না হতে থাকে। ভাত বা ধীর আঁচে রান্না হওয়া কিছু পদ প্রায় তৈরি হয়ে গেলে তাই গ্যাস বন্ধ করা যায়। তবে খাবার পুরোপুরি সেদ্ধ ও নিরাপদভাবে রান্না হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে।
সিলিন্ডার অস্বাভাবিক দ্রুত শেষ হলে শুধু রান্নার পদ্ধতিকে দায়ী করা ঠিক নয়। পাইপ, রেগুলেটর বা সংযোগস্থলে গ্যাস লিকেজ থাকলেও দ্রুত গ্যাস কমে যেতে পারে। পাইপে ফাটল বা সংযোগে কোনো সমস্যা দেখা দিলে প্রশিক্ষিত টেকনিশিয়ানের সহায়তা নেওয়া উচিত। আর গ্যাসের গন্ধ পেলে কোনোভাবেই আগুন বা দেশলাই জ্বালানো যাবে


















