বগুড়ার সোনাতলায় সামাজিক-মানবিক কর্মকাণ্ডে জনপ্রিয়তার শীর্ষে দড়িহাঁসরাজ স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন (DSA)
সোনাতলা (বগুড়া) প্রতিনিধি: বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার মধুপুর ইউনিয়নে সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে অরাজনৈতিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন দড়িহাঁসরাজ স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন (DSA)। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ, দুর্যোগ মোকাবিলা ও মানবিক সহায়তাসহ বছরজুড়ে নানা উদ্যোগ বাস্তবায়নের ফলে সংগঠনটি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে।
জানা যায়, ২০১৬ সালে প্রতিষ্ঠিত সংগঠনটি প্রথমে গ্রামভিত্তিক কার্যক্রম শুরু করলেও পরবর্তীতে মধুপুর ইউনিয়ন এবং সোনাতলা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কার্যক্রম সম্প্রসারণ করে। সংগঠনের নিজস্ব গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রতি এক বছর পরপর নির্বাচনের মাধ্যমে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও কার্যনির্বাহী পরিষদ গঠন করা হয়। কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা নেতৃত্বে থাকলেও বিভিন্ন পেশায় কর্মরত সাবেক সদস্যদের নিয়ে উপদেষ্টা পরিষদ পরিচালনায় সহযোগিতা করে।
নদীভাঙন ও দরিদ্রপ্রবণ পূর্ব সোনাতলা অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্য নিয়ে সংগঠনটি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছে। তাদের উল্লেখযোগ্য কর্মকাণ্ডের মধ্যে রয়েছে—অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ানো, মেধাবী শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি প্রদান, শিক্ষার হার বৃদ্ধিতে সচেতনতামূলক কার্যক্রম, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ও সড়কের পাশে বৃক্ষরোপণ, ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ, শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ, বন্যার সময় শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও খাবার স্যালাইন বিতরণ এবং বন্যা-পরবর্তী ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে সার ও বীজ বিতরণ।
এছাড়াও সংগঠনটি বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, মাদকবিরোধী প্রচারণা, নিরাপদ আর্সেনিকমুক্ত টিউবওয়েল স্থাপন, মসজিদ ও মাদ্রাসায় ওজুখানা নির্মাণ, এতিম শিক্ষার্থীদের পোশাক প্রদান, রমজান মাসে ইফতার ও সেহরির আয়োজন, অসহায় বৃদ্ধ ও বিধবাদের খাদ্য ও বস্ত্র সহায়তা, গ্রামীণ ক্রীড়া উন্নয়নে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ, প্রতিবন্ধীদের চিকিৎসা সহায়তা ও হুইলচেয়ার প্রদান, বিনামূল্যে মেডিকেল ক্যাম্প, রক্তের গ্রুপ নির্ণয়, গর্ভবতী মায়েদের পুষ্টিকর খাবার বিতরণ এবং স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি পরিচালনা করে আসছে।
করোনা মহামারির সময় সরকারি স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণে জনসচেতনতামূলক প্রচারণা, করোনা আক্রান্ত রোগীদের বিনামূল্যে অক্সিজেন সরবরাহ এবং অসংখ্য অসহায় পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণের মাধ্যমে সংগঠনটি বিশেষভাবে আলোচনায় আসে। বর্তমানে বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতাও বজায় রেখেছে DSA।
সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান বলেন, “গ্রামভিত্তিক শিক্ষা, চিকিৎসা ও পরিবেশবান্ধব সমাজ গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে একঝাঁক শিক্ষার্থীকে সঙ্গে নিয়ে সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। মানুষের ভালোবাসা ও সহযোগিতাই আমাদের এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা। ভবিষ্যতেও মানবিক কাজের মাধ্যমে মানুষের পাশে থাকতে চাই।”
বর্তমান সাধারণ সম্পাদক সোহাগ মিয়া বলেন, “ডিজিটাল যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আধুনিক ও কার্যকর বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালনা করা হচ্ছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে বেকারত্ব হ্রাস এবং এলাকার আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আমরা আশা করি। আমাদের সদস্যরা পড়াশোনার পাশাপাশি সামাজিক দায়িত্ব পালনে আন্তরিকভাবে কাজ করছেন।”
সংগঠনের সভাপতি রোকোনুজ্জামান বলেন, “DSA-এর প্রতিটি সদস্য সামাজিক কাজে নিবেদিত। বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, মাদকবিরোধী কর্মসূচি, শতভাগ শিক্ষার্থীকে স্কুলমুখী করা, ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ও স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি নিয়মিত পরিচালিত হচ্ছে। ‘মাদককে না বলি, ক্রীড়াকে হ্যাঁ বলি’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে তরুণদের খেলাধুলা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করছি।”
তিনি আরও জানান, উপদেষ্টা পরিষদের দিকনির্দেশনা এবং এলাকার চাকরিজীবীদের আর্থিক সহযোগিতায় সংগঠনটি বিভিন্ন সামাজিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। ভবিষ্যতেও আরও বৃহৎ পরিসরে মানবিক ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।


















